উত্তর : বাচ্চা প্রসবের পর মহিলারা নিফাস অবস্থায় থাকেন। ইসলামী শরী‘আতে নিফাস বলতে প্রসব-পরবর্তী রক্তপাতের সময়কে বোঝানো হয়। সাধারণত এই সময়ে (সর্বোচ্চ ৪০ দিন পর্যন্ত) মহিলারা ছালাত, ছিয়াম, কুরআন স্পর্শ করে তিলাওয়াত ইত্যাদি কিছু ইবাদত থেকে বিরত থাকেন। তবে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত বন্ধ হয়ে যায় না। নিফাসের সময় যেসব ইবাদত বৈধ: (ক) যিকর ও তাসবীহ। সুবহানাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, দরূদ পাঠ করা। এ যিকরগুলো নিয়মিত করলে নিফাসের সময়ও আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বজায় থাকে। (খ) দু‘আ ও ইস্তিগফার। নিফাস অবস্থায় দু‘আ করা সম্পূর্ণ বৈধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমার বান্দারা যখন আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আমি তো নিকটবর্তী’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ১৮৬)। (গ) কুরআন শোনা। নিফাস অবস্থায় কুরআন পড়া ও স্পর্শ করা নিষিদ্ধ, তবে কুরআন তিলাওয়াত শোনা সম্পূর্ণ বৈধ। ইমাম আল্লামা শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘নিফাস ও হায়েয অবস্থায় নারীর জন্য কুরআন শোনা বৈধ। বরং এতে সওয়াব রয়েছে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবন উছাইমীন, ১১/২৪৭ পৃ.)। (ঘ) ইসলামী বই-পুস্তক পড়া। কুরআনের আয়াত সরাসরি না পড়ে, কিন্তু অর্থ, তাফসীর বা ইসলামী বই পড়া বৈধ। যদি বইতে কুরআনের আয়াত থাকে, তবে কেবল আয়াতগুলো স্পর্শ না করে বাকি অংশ পড়া যেতে পারে। (ঙ) লেকচার, খুতবা ও হাদীছ শুনা। নিফাস সময়ে কুরআন তাফসীর, হাদীছ বা ইসলামী বক্তৃতা শুনে ইলম হাসিল করা বৈধ।
প্রশ্নকারী : ইকবাল, মুর্শিদাবাদ, ভারত।