উত্তর : একজন পুরুষ কামনা-বাসনা সহকারে অন্য পুরুষের দিকে তাকানো হারাম। এটি অশুভ ও ফিতনার সূচনা এবং এর নিকৃষ্টতা বুদ্ধিবৃত্তিক, স্বতঃসিদ্ধ ও শারঈ দিক থেকে সুস্পষ্ট। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর ‘মাজমূঊল ফাতাওয়া’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘কামনার সাথে সুন্দর যুবকের দিকে তাকানো আত্মীয় নারী বা অপরিচিত নারীর দিকে কামনার সাথে তাকানোর মত। এটি সঙ্গমের কামনা হোক বা শুধু দর্শনের তৃপ্তি হোক, যেমন অপরিচিত নারীর দিকে তাকিয়ে তৃপ্তি লাভ করা। প্রত্যেকেরই জানা যে এটি হারাম। অনুরূপভাবে সকল ইমামের ঐকমত্যে যুবকের দিকে কামনার সাথে তাকানোও হারাম...।
আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলা তাঁর কিতাবে দৃষ্টি নত করার নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা আন-নূর: ৩০-৩১)। যা মূলত দুই প্রকার। যথা : (১) غَضُّ البَصَر عَن العَوْرة ‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (আওরাত) থেকে দৃষ্টি নত করা’ (২) وغَضُّهُ عَن مَحَلِّ الشَّهْوة কামনা-বাসনার স্থান থেকে দৃষ্টি নত করা’। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি সুন্দর কিশোর বা অনুরূপ কারো দিকে বারবার তাকায় এবং দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকে, আর বলে, ‘আমি কামনার বশবর্তী হয়ে তাকাই না’ সে এ বিষয়ে মিথ্যাবাদী। কারণ, যদি তার তাকানোর জন্য কোন প্রয়োজনীয় কারণ না থাকে, তবে তার তাকানোর একমাত্র উদ্দেশ্য হল হৃদয়ে সেই দর্শন থেকে লাভ করা তৃপ্তি’। ইমাম নববী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর ‘আল-মাজমূঊ’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘চেহারাসম্পন্ন সুদর্শন যুবকের সাথে হাত মেলানো থেকে সতর্ক থাকা উচিত। কারণ, প্রয়োজন ছাড়া তার দিকে তাকানো হারাম, এটিই সঠিক ও প্রমাণিত মত’ (ইসলাম ওয়েব: http://iswy.co/evh3t)।
প্রশ্নকারী : মেহেদী হাসান, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার।