বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং-এর কাজ করার বিধান এক কথায় প্রকাশ করা একটু জটিল। কারণ বর্তমানে এর মধ্যে হালাল ও হারাম দু’টিই মিশ্রিত। তাই কাজের উপর নির্ভর করে ফ্রিল্যান্সিং-এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা কখনো বৈধ আবার কখনো অবৈধ। হালাল দৃষ্টিভঙ্গি হল, অনলাইনে অনেক ফ্রিল্যান্সিং কোম্পানী রয়েছে যেমন ওডেক্স, এলান্স, ল্যান্সটেক, ফ্রিল্যান্সার ইত্যাদি। এ কোম্পানীগুলোতে কোনরূপ ফী ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন করে স্বীয় যোগ্যতা অনুযায়ী ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স, ডাটাএন্ট্রি ইত্যাদি কাজ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন কোম্পানী পসন্দ অনুযায়ী অনলাইনে এসব কোম্পানীর মাধ্যমে কাজ দেয় এবং নির্ধারিত হারে পারিশ্রমিক প্রদান করে। এর মধ্যে কোন সূদী বা হারাম লেনদেনের প্রসঙ্গ নেই। বরং স্বীয় কর্মদক্ষতা এবং পরিশ্রমের বিনিময়ে এখানে উপার্জন করতে হয়। কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে উপরিউক্ত ফ্রিল্যান্সিং করা এবং তার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা বৈধ হতে পারে। যথা: (১) ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কাজটি হালাল হওয়া (হারাম না হওয়া)। (২) দেশের প্রচলিত আইন পরিপন্থী না হওয়া। (৩) মানুষ, সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতিকারক না হওয়া। (৪) কারো অধিকার খর্ব না করা। (যেমন কপিরাইট লঙ্ঘন করা)। (৫) আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সূদ, ঘুস বা দুর্নীতির আশ্রয় না নেয়া। (৬) মিথ্যা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণার আশ্রয় না নেয়া ইত্যাদি।

ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং কাজের কয়েকটি উদাহরণ হল: ১- গ্রাফিক্স ডিজাইন: গ্রাফিক্স ডিজাইনে যদি কোন অশ্লীলতা না থাকে এবং পুরুষ-মহিলা বা অন্য কোন প্রাণীর ছবি যুক্ত করা না হয় বা কপিরাইট কৃত কোন ছবি ব্যবহার না করা হয় তাহলে তা হালাল, অন্যথা হারাম। ২- ডাটা এন্ট্রি বা (লেখা): এতে যদি শরী‘আত বিরোধী কিছু না থাকে তাহলে কোন আপত্তি নেই, অন্যথা হারাম। যেমন কোন লেখকের কপিরাইট কৃত বই থেকে নকল করা, নাস্তিকতা ও ইসলাম বিরোধী প্রপাগাণ্ডা মূলক লেখা, অবৈধ প্রেমভালবাসা ও নোংরা-সেক্সুয়াল বিষয়ে লেখা ইত্যাদি। এগুলো লিখে অনলাইনে টাকা উপার্জন করা হারাম। ৩- অনলাইন ভিত্তিক সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ/বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করা: পণ্যটি যদি হালাল হয় তাহলে তা হালাল কিন্তু পণ্যটি হারাম হলে তা অবশ্যই হারাম। যেমন মদ, নেশাদ্রব্য, মানব দেহের জন্য ক্ষতিকারক বস্তু, খাঁটি পণ্যের লেভেল লাগানো নকল পণ্য, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ পণ্য ইত্যাদি। এগুলো অনলাইনে বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করা হালাল নয়।

হারাম দৃষ্টিভঙ্গি হল, ‘ডোলেন্সার’ মত সদ্য গজিয়ে উঠা ফ্রিল্যান্সার প্রতিষ্ঠান, যাদের কার্যক্রম অন্যদের মত নয়। বরং ফ্রিল্যান্সিং-এর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এরা মূলত এমএলএম ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নানা আকর্ষণীয় প্যাকেজ দেখিয়ে তারা সদস্য ভর্তি করে এবং প্রায় বিনা পরিশ্রমে মোটা অংক লাভের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরা অসাধু এমএলএম ব্যবসার সাথে জড়িত বলে এদের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া মোটেই বৈধ হবে না। উল্লেখ্য যে, ডেসটিনি, নিউওয়ে, এ্যাপটেক, ইউনিপেটু ইত্যাদি প্রতারক কোম্পানীসমূহের মত ডোলেন্সারও দেশের বেকার তরুণদের কাজে লাগিয়ে মাউসের সামান্য ক্লিকে আকাশ-কুসুম লাভের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। মূলত তারা মানুষের সস্তা আবেগকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নতুন ফাঁদ পেতেছে। তাই এদের থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পরকে সহযোগিতা কর এবং মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি প্রদানে অত্যধিক কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)। উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (তাফসীর ইবনে কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তলব অনুযায়ী কাজ করার নাম হচ্ছে, ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং। এ জগতে হাজার হাজার কাজ আছে। সেগুলো থেকে যদি আপনি কিছু শর্ত সাপেক্ষে হালাল কর্মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেন তাহলে নিঃসন্দেহে তা হালাল। তবে সর্বদা হালাল-হারামের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে এবং হারাম ও সন্দেহপূর্ণ বিষয় থেকে দূরে থাতে হবে। কেননা ইসলামী শরী‘আতের স্থিরীকৃত নীতিমালা সমূহের মধ্যে রয়েছে, إذا اجتَمَع الحلالُ والحرامُ غُلِّبَ الحرامُ ‘যখন কোন বিষয়ে হালাল ও হারামের মাসআলা একত্রিত হয়, তখন হারামের মাসআলা প্রাধান্য পায়’। অর্থাৎ সেটাকে হারাম বলে গণ্য করতে হবে। হাদীছেও এমন নির্দেশ এসেছে (ছহীহ বুখারী, হা/৫২; ছহীহ মুসলিম, হা/৩৯৮৬)। অন্য হাদীছে এসেছে, ‘যে বিষয়ে তোমার সন্দেহ হয়, তা ছেড়ে দিয়ে যাতে সন্দেহের সম্ভাবনা নেই তা গ্রহণ কর। যেহেতু সত্য হল শান্তি ও স্বস্তি এবং মিথ্যা হল দ্বিধা-সন্দেহ’ (তিরমিযী, হা/২৫১৮, সনদ ছহীহ)।


প্রশ্নকারী : ফাহিম, রাজশাহী।





প্রশ্ন (২৮) : যদি কোন ব্যক্তি ত্বাওয়াফ করার সময় সন্দেহে পড়ে যে কয় চক্কর হল, তাহলে কি সাহু সেজদা দিবে? কারণ বায়তুল্লাহ্‌কে ত্বাওয়াফ করা ছালাততুল্য। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : উটের মালিক সম্মান ও ইজ্জতের অধিকারী এবং ছাগল বরকতপূর্ণ প্রাণী। আর ঘোড়ার কপালে ক্বিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ বাঁধা থাকবে। উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : মহান আল্লাহর ঋণ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : পারিবারিক বিষয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামী তার স্ত্রীকে মারধর করে এবং বলে, যা তোকে ছেড়ে দিলাম, ত্বালাক্ব, ত্বালাক্ব, ত্বালাক্ব বলে তিনবার উচ্চারণ করে। ভুল বুঝতে পেরে পরে ক্ষমা চায়। উক্ত ত্বালাক্ব কি সাব্যস্ত হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : যারা পানের সাথে সাদা পাতা খায় এবং ২০ বছর বা ২৫ বছর ধরে ছালাত আদায় করে, তাদের ছালাত কবুল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : কোন ব্যক্তি তওবা করার পর পুনরায় সেই পাপে লিপ্ত হলে তাকে কি কাফফারা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : জনৈক মুরীদের দাবী হল, পীর সবকিছু করে দিবে। মুরীদ না হলে মৃত্যুর সময় শয়তান এসে ঈমান লুটে নিবে। তার উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : বিধবা অথবা তালাক্বপ্রাপ্ত মেয়ে পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া বিবাহ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক বক্তা বলেন, কুরবানীর মাংস তিনদিনের বেশি খাওয়া যাবে না। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : পিতা-মাতা যদি সন্তানকে ক্ষমা না করে, তাহলে কী করণীয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : যারা ছালাত আদায় করেও মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করে, অন্যের ক্ষতি করে তাদের ব্যাপারে অনেকেই বলে, ছালাত মানুষকে ভালো করতে পারে না কিংবা ছালাত পড়লেই মানুষ ভালো হয় না ইত্যাদি। এ ধরনের কথা বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : আমি যদি আওয়াল ওয়াক্তে একাকী ছালাত আদায় করি, তাহলে কি জামা‘আতের নেকী থেকে বঞ্চিত হব? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ