রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
উত্তর : বজ্রপাত বলতে বিকট শব্দ সহকারে চোখ ধাঁধানো আলোর ঝলকানিকে বুঝায়। এর শাব্দিক অর্থ ভূমিতে বিদ্যুৎ পতিত হওয়া। বজ্রপাত সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَ مِنۡ اٰیٰتِهِ یُرِیۡکُمُ الۡبَرۡقَ خَوۡفًا وَّ طَمَعًا وَّ یُنَزِّلُ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَیُحۡیٖ بِهِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ

‘এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি নিদর্শন হল, তিনি তোমাদেরকে আশঙ্কা ও আশার সঞ্চারকরূপে বিদ্যুৎ দেখান, আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তা দ্বারা ভূমিকে ওর মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন, এতে অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে’ (সূরা আর-রূম : ২৪)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যখন আকাশে বিদ্যুৎ চমকায় এবং মেঘের গর্জন শোনা যায়, তখন মানুষ বজ্রপাত হওয়ার এবং অতিবৃষ্টির ফলে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে আশাও সঞ্চয় হয় যে, বৃষ্টি হলে ফসল ভাল হবে। অতঃপর তিনি এই বৃষ্টি দ্বারা শুষ্ক এবং মৃত মৃত্তিকাকে জীবিত ও সতেজ করে তাতে রকমারি প্রকারের বৃক্ষ ও ফলফুল উৎপন্ন করেন’ (তাফসীরে ইবনে কাছীর, ৬/৩১০ পৃ.)।

মূলত আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্ন সময়ে পাপের শাস্তিস্বরূপ বজ্রপাত ঘটিয়ে থাকেন। যথা : ১- শিরক, বিদ‘আত ও পৃথিবীতে অতি মাত্রায় যুল্‌ম, অত্যাচার, অবিচার, নির্যাতন, নিপীড়ন, উৎপীড়ন বেড়ে গেলে বজ্রপাত হয় (সূরা আন-নিসা : ১৫৩)। ২- অপরাধের শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তা‘আলা বজ্রপাত নাযিল করেন (সূরা আল-‘আনকাবূত : ৪০)। ৩- আল্লাহর বিধান অমান্য করার কারণে বজ্রপাত হয়। আল্লাহদ্রোহীতা, যুলম্-অত্যচার ও গুণাহের কাজের প্রবণতা যত বাড়বে বজ্রপাতের আধিক্যতাও তত বাড়বে (সূরা আয-যারিয়াত : ৪৪)।

অতএব বজ্রপাতের গর্জন থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর বিধানের সামনে নতমস্তক হওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। বজ্র নিনাদের মাধ্যমে প্রকৃতি মহান আল্লাহর একচ্ছত্র আধিপত্য, তাঁর পরিপূর্ণতা এবং মহিমা বর্ণনা করে থাকে। এছাড়া, মেঘমালা সৃষ্টি এবং বৃষ্টিপাত ঘটানোর দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতারা মেঘের গর্জনের ফলে সৃষ্ট আতঙ্কে আরো বেশি আল্লাহর মহিমা প্রকাশ করে। এ সবই সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় সংঘটিত হয়, তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত বজ্রপাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

দ্বিতীয়তঃ বজ্রপাতের সময় নবী (ﷺ) আলাপ-আলোচনা বন্ধ করে আল্লাহ তা‘আলার নিকটে দু‘আ করতেন। ছাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় রাসূল (ﷺ) যখন বজ্রধ্বনি শুনতে পেতেন তখন আলাপ-আলোচনা বন্ধ করে দিয়ে বলতেন, يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيْفَتِهِ ‘সুবহানাল্লাজি ইউসাব্বিহুর-রা‘দদু বি-হামদিহি ওয়াল মালা-ইকাতু মিন খি-ফাতিহি। অর্থাৎ মহাপবিত্র সেই সত্তা বজ্রধ্বনি যাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতাকুল যার ভয়ে শংকিত। অতঃপর তিনি বলতেন, এটা হলো জগদ্বাসীর জন্য চরম ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি (আল-আদাবিল মুফরাদ, হা/৫৫৬, ৭২৮, সনদ ছহীহ)।

প্রশ্নকারী : রোকনুযযামান, শিবগঞ্জ, বগুড়া।





প্রশ্ন (৪) : ‘তাওহীদে আসমা ওয়াছ ছিফাত’ কাকে বলে এবং এর দাবি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : সঊদী আরবে দেখা যায় যে, মাসবূক ব্যক্তি ছালাতের ইমামতি করছে। প্রশ্ন হল- এরূপ করা কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মেয়ে শিশুর কানে আযান দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : কেউ যদি অজানা অবস্থায় শিরক করে, তাহলে তার আমল বাতিল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : শুক্রবারে ‘আরাফার দিন হলে সেই হজ্জ ৭ হজ্জের সমান- এ কথা কি ঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : স্ত্রীর বোন বা শালীর সাথে অপকর্মে লিপ্ত হলে স্ত্রী কি ত্বালাক্ব হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০): ‘যে ব্যক্তি এমন কোন ইয়াতীমের অভিভাবক হয়েছে যার মাল রয়েছে, সে যেন তা ব্যবসায় লাগায় এবং ফেলে না রাখে, যাতে যাকাত তাকে শেষ না করে দেয়’ মর্মে বর্ণিত বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : সাত আসমানে সাতজন মুহাম্মাদ (ﷺ) আছেন। এই দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : কোন অসুস্থ ব্যক্তি দু‘আ চাইলে শুক্রবারে জুমু‘আর ছালাতের পর সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জানাযা ছালাত, না-কি দু‘আ? যদি ছালাত হয়, তাহলে রুকূ নেই কেন? সূরা ফাতিহা ব্যতীত জানাযার ছালাত কি শুদ্ধ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : আহলেহাদীছদের বাহ্যিক নিদর্শনগুলো কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ