শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
উত্তর : নিজ ভাষায় দু‘আ করা যাবে না। কারণ কেউ এটাকে হারাম বলেছেন, কেউ অপসন্দ করেছেন, আবার কেউ অপারগ ও অসমর্থদের জন্য জায়েয বলেছেন (আল-মাউসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, ১১/১৭২ পৃ.)। শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘ছালাতের বাইরে ইংরেজি ভাষা অথবা অন্য যে কোন ভাষায় দু‘আ করা জায়েয। কিন্তু ছালাতের মধ্যে জমহূর আলেমের মতানুযায়ী আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় দু‘আ করা জায়েয নয়। বিশেষ করে যারা আরবী দু‘আ জানে তাদের জন্য আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় দু‘আ করা জায়েয নয়’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১১৫৮৮, ২৬২২৫৪, ২০৯৫৩)।

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মানুষের উচিত কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহতে বর্ণিত দু‘আর মাধ্যমে দু‘আ করা। কেননা এর গুরুত্ব, মাহাত্ম্য ও সৌন্দর্যের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই এবং এটিই সরল পথ। আলিমগণ এবং ইমামগণ শরী‘আতসম্মত দু‘আর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁরা নতুন উদ্ভাবিত বিদ‘আতী দু‘আ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সুতরাং এরই অনুসরণ করা উচিত (মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ১/৩৪৬ ও ৩৪৮ পৃ.)। দ্বিতীয় খলীফা ওমর ফারূক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন,

لَا تَعَلَّمُوْا رَطَانَةَ الْأَعَاجِمِ وَلَا تَدْخُلُوْا عَلَى الْمُشْرِكِيْنَ فِيْ كَنَائِسِهِمْ يَوْمَ عِيْدِهِمْ فَإِنَّ السَّخْطَةَ تَنْزِلُ عَلَيْهِمْ

‘তোমরা অনারবদের দুর্বোধ্য ও বিদেশী ভাষা শিখবে না এবং মুশরিকদের অনুষ্ঠানের দিনে তাদের গির্জা ঘরে প্রবেশ করবে না। কেননা সেই সময় তাদের উপর গযব নেমে আসে’ (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক, হা/১৬০৯, ১/৪১১ পৃ.; মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ, হা/২৬২৮১; বাইহাক্বী, সুনানুল কুবরা, হা/১৮৮৬১; মাজমূঊল ফাতাওয়া ইবনু তাইমিয়্যাহ, ২৫/৩২৫)।

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) ও শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘বিতরের ছালাতে কুনূত পাঠ করা অপরিহার্য নয়, বরং তা সুন্নাত। সেই জন্য যদি কেউ দু‘আয়ে কুনূত নাও পড়ে তবুও তার ছালাত শুদ্ধ হবে’ (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ, ২/১৫৯ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯০৬১)। অতএব বিতরের কুনূতে মাতৃভাষায় দু‘আ করা থেকে বিরত থাকায় সর্বাধিক নিরাপদ হবে। কারণ (১) যেহেতু দু‘আয়ে কুনূত ছাড়াও ছালাত শুদ্ধ হবে এবং (২) বাংলায় দু‘আ করার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্যও আছে।


প্রশ্নকারী : গোলাম রাব্বী, বরিশাল।





প্রশ্ন (১২) : মানুষ একবার মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। প্রশ্ন হল, ঈসা (আলাইহিস সালাম) যাদের জীবিত করেছিলেন তারা কি মারা গেছে, না-কি এখনো তারা জীবিত আছে, তারা কোথায় আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন : (৭) জঙ্গলে বা জনবসতিহীন এলাকায় উৎপন্ন ফল বা সবজি খাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ‘একই বিক্রয়ে দু’টি শর্ত বৈধ নয়’ (তিরমিযী, হা/১২৩৪) হাদীছের সঠিক ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : বিভিন্ন ধরনের ঔষধ, খাবার বা অন্যান্য প্যাকেটের সাথে মানুষ বা জীবজন্তুর ছবি দেয়া থাকে। এগুলো থেকে বাঁচার উপায় কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : বর্তমানে বিবাহ উপলক্ষে কনে পক্ষ বরকে সোনার আংটি উপহার দিয়ে থাকে এবং সে তা ব্যবহারও করে থাকে। ইসলামী শরী‘আতে এর অনুমোদন আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : ছেলে যদি তার টাকা বা স্ত্রীর স্বর্ণালংকারের উপর যাকাত না দেয়, তাহলে বাবাকে কি তাদের পক্ষ থেকে যাকাত দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : যদি কোন ব্যক্তি ত্বাওয়াফ করার সময় সন্দেহে পড়ে যে কয় চক্কর হল, তাহলে কি সাহু সেজদা দিবে? কারণ বায়তুল্লাহ্‌কে ত্বাওয়াফ করা ছালাততুল্য। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ উন্নয়নে নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : মানুষের একথা বলা যে, যদি এ কুকুর না থাকত তবে রাত্রে চোর আমাদের ঘরে ঢুকে পড়ত, যদি হাঁস বাড়ীতে না থাকত তবে চুরি হয়ে যেত, কারও একথা বলা যে, যা আল্লাহ চান ও আপনি চান, যদি আল্লাহ না হতেন অমুক না হতো ইত্যাদি জাতীয় কথা বলা কি শিরকের অন্তর্ভুক্ত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : বাবার চার ছেলে, মেয়ে নেই। প্রথম ছেলে ও দ্বিতীয় ছেলে ১৫-১৬ বছর থেকে শহরে ব্যবসা করেন। ৩য় ছেলে ১৬-১৭ বছর যাবৎ বাবার সংসারে এখনো হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সংসার দেখাশুনা করে যাচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলে বাবার সংসার থেকে চাল ডাল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়মিত নিয়েছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ছেলেকে বাবা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতাও করেছেন, এখন তারা সাবলম্বী। চতুর্থ ছেলে ছোট হওয়ায় লেখাপড়া করে ও বর্তমানে বিবাহ করে বাবার সংসারে খায় আর সারাদিন ঘুরে বেড়ায়। প্রশ্ন হল- যখন বাবা সব ছেলেকে কিছু কিছু করে জমি লিখে দিতে চাইলেন, তখন তৃতীয় ছেলে সবার উপস্থিতিতে প্রস্তাব করল, ‘আমি যেহেতু ১৬-১৭ বছর ধরে সংসার দেখাশুনা করছি তাই এজমালিতে আমাকে এক বিঘা জমি দেয়া হোক’। উক্ত শর্তে দ্বিতীয় ও চতুর্থ ছেলের কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু প্রথম ছেলে উক্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে তৃতীয় ছেলে বলে, আমি যেহেতু পরিশ্রম করেছি তাই এটা আমার অধিকার। পরবর্তীতে বাবা তৃতীয় ছেলেকে এক বিঘা জমি লিখে দেন। এক্ষেত্রে প্রথম ছেলে তৃতীয় জনকে ভাই হিসাবে স্বীকার করতে নারাজ এবং তাকে জাহান্নামী ও হারামখোর বলে প্রচার করতেছে। উল্লেখ্য যে, বাবার জমির পরিমাণ ৪০ বিঘার উপরে। এক্ষেত্রে বাবা কি অপরাধ করেছেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : রামাযানের ছিয়াম যদি ক্বাযা থাকে, অসুস্থতার কারণে যদি পরবর্তী এক বছরে তা আদায় করা না যায়, তাহলে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : যিলহজ্জের দশ তারিখের বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ