বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
উত্তর : ছহীহ হাদীছ থেকে বুঝা যায় যে, আরাফার দিনে ছিয়াম পালন করতে হবে, যদিও এ বিষয়ে সামান্য মতভেদ রয়েছে। কারণ ছিয়ামের ফযীলতটা আরাফার দিনের কারণেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘আরাফা দিবসের (يوم عرفة) ছিয়ামের ব্যাপারে আল্লাহর নিকট আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্বের এক বছরের এবং পরের এক বছরের পাপ মোচন করে দিবেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১১৬২; মিশকাত, হা/২০৪৪; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/১৯৪১, ৪/২৫০-৫১ পৃ.)। শাইখ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর তত্ত্বাবধানে সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া বোর্ড আরাফার দিন সম্পর্কে বলেছে, يوم عرفة هو اليوم الذي يقف الناس فيه بعرفة ‘যেদিন হাজীগণ আরাফার মাঠে অবস্থান করেন সেটা আরাফার দিন’ (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ, ১০/৩৯৩ পৃ.)। বোর্ড এই বক্তব্যকেই প্রাধান্য দিয়েছে (https://t.ly/bfwj)। বোর্ড আরো উল্লেখ করেছে যে, ‘কেউ চাইলে আগে বা পরেও রাখতে পারে’ (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ, ১০/৩৯৩ পৃ.)। শাইখ সুলায়মান আর-রুহায়লী বলেন, ‘এই দিনটা আরাফার মাঠের সাথে সম্পৃক্ত। আর আরাফার মাঠ অন্যান্য দেশে নেই, এটা সঊদীতে অবস্থিত। তাই সম্ভব হলে এ দিনেই ছিয়াম রাখবে। যদি এই দিনটি অন্যদের ঈদের দিনের সাথে মিলে যায়, তবে তারা আগের দিন রাখবে’ (https://t.ly/BHWU)। শাইখ উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘চাঁদের বিষয় নিয়ে আলেমদের মধ্যে ইখতিলাফ রয়েছে। তিনি অন্যান্য ছিয়ামের মত আরাফার ছিয়ামকেও নিজ নিজ দেশের ৯ তারিখ অনুযায়ী রাখার মতকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং আম দলীল পেশ করেছেন’ (উছায়মীন, মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল, ২০তম খণ্ড, পৃ. ২৮)। উভয় মতের পক্ষে আরো আলোচনা আছে।

এখানে স্পষ্ট হচ্ছে যে, সঊদী আরবের ফাতাওয়া বোর্ড, শাইখ বিন বায, শাইখ উছায়মীন, প্রফেসর ড. সুলায়মান আর-রুহায়লী সবাই অন্যান্য ছিয়াম নিজ নিজ ভূখণ্ডের চাঁদ অনুযায়ী রাখার কথা বলেছেন। কিন্তু আরাফার ছিয়ামকে সঊদী আরবের ফাতাওয়া বোর্ড, শাইখ রুহায়লী আরাফার দিনের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন এবং আগে বা পরে রাখার বিষয়েও ছাড় দিয়েছেন। আর শায়খ উছায়মীন (রাহিমাহুল্লাহ) অন্যান্য ছিয়ামের মত আরাফার ছিয়ামকেও নিজ নিজ দেশের চাঁদ অনুযায়ী রাখার বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। এখানেই সামান্য ইখতিলাফ।

অন্যদিকে নফল ছিয়াম আগে বা পরে রাখার ক্ষেত্রে যে ছাড় রয়েছে, তা স্পষ্ট। যেমন- আইয়ামে বীয-এর ছিয়াম পালনকারী ব্যক্তিগণ যিলহজ্জ মাসে ১৪ ও ১৫ তারিখে ২ দিন ছিয়াম পালন করতে পারেন। যেহেতু ১৩ তারিখ তাশরীক্বের মধ্যে পড়ে যায়, যেদিন ছিয়াম রাখা নিষিদ্ধ। তাই পরের দু’দিন ছিয়াম পালন করলেই যথেষ্ট হবে (নাসাঈ, হা/২৪৩৪, ২৩৯৪, সনদ ছহীহ)। এছাড়া চাইলে ১৬ তারিখ বা ঐ মাসের অন্য কোন দিনে অবশিষ্ট একটি ছিয়াম রাখতে পারবে (আবূ দাঊদ, হা/২৪৫৩, সনদ ছহীহ; শায়খ বিন বায, মাজমূ‘উ ফাতাওয়া, ১৫তম খণ্ড, পৃ. ৩৮০)। অতএব এ বিষয়ে যিদ করা উচিত নয়। আল্লাহই অধিক অবগত।

প্রশ্নকারী : হাবীবুল্লাহ, উত্তরা, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৪) : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদের নিকট থেকে পরীক্ষার ফী বাবদ যে অর্থ গ্রহণ করা হয়ে থাকে, সেই অর্থ কি শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে? উল্লেখ্য, শিক্ষকগণ নির্ধারিত হারে বেতন পেয়ে থাকেন। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : ছাদাক্বাহ অর্থ কী? তা কত প্রকার এবং ছাদাক্বাহ পাওয়ার হক্বদার কে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : গণতন্ত্র কি হারাম? যদি হারাম হয়, তাহলে হারাম প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকারের আনুগত্য করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : কেউ মিথ্যা কথা বললে, ফেরেশতারা মিথ্যার দুর্গন্ধে ১ মাইল দূরে চলে যায়। এই বর্ণনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : একই রাতে দুইবার বিতর পড়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮): খ্রিস্টানদের স্থাপিত স্কুল বা কলেজে পড়াশোনা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : কোনটা নফসের ধোঁকা আর কোনটা শয়তানের ধোঁকা এটা কিভাবে বুঝা যাবে? নফসের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার পথ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২০) : কোন ব্যক্তি পূর্বে যাকাত আদায় না করে থাকলে কী করণীয়? তার মনেও নেই ঐ বছর গুলোতে তার কী পরিমাণ সম্পদ ছিল। এমতাবস্থায় কি শুধু তওবাই যথেষ্ট হবে, না-কি যে কোন পদ্ধতিতে তার অনাদায়কৃত যাকাত পরিশোধ করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : ভিসা প্রসেসিং ব্যবসা কি জায়েয? এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৬) : দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রথম ব্যক্তি সালাম দিলে দ্বিতীয় ব্যক্তি সালামের জবাব দেয়ার পর উল্টো সালাম দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : সাংগঠনিক বায়‘আত সম্পর্কে শায়খ বিন বায এবং শায়খ ইবনু উছায়মীনের ফৎওয়া কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯) : ‘ফাযায়েলে কুরআন’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, ‘ছালাতে কুরআন তেলাওয়াত করা ছালাতের বাইরে কুরআন তেলাওয়াত করা অপেক্ষা উত্তম। ছালাতের বাইরে কুরআন তেলাওয়াত করা ‘সুবহানাল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ বলার চেয়ে উত্তম। ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা ছাদাক্বাহ হতে উত্তম; ছাদাক্বাহ ছিয়াম হতে উত্তম। আর ছিয়াম হচ্ছে জাহান্নামের ঢাল স্বরূপ’ (বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/২০৯৫; মিশকাত, হা/২১৬৬; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২০৬২; ফাযায়েলে আমল, পৃ. ২৩০)। উল্লিখিত বক্তব্যগুলো কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ