প্রশ্ন (৩) : হানাফী দেওবন্দী ইমামের আক্বীদা প্রকাশ পেলে তার পিছনে ছালাত পড়া যাবে কি? এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিখ্যাত সালাফী উলামা মাশায়েখের মতামত কী?
উত্তর : হানাফী দেওবন্দী হোক কিংবা অন্য কোন মানহাজের ব্যক্তি হোন- কোন্ ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করবেন এ বিষয়ে কিছু মূলনীতি রয়েছে। আর বিদ‘আতীদের পেছনে ছালাতের হুকুম হল- যদি তাদের বিদ‘আত শিরকী পর্যায়ের হয়, যেমন: আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা, অন্যের নামে মানত করা কিংবা তাদের পীর-মাশায়েখদের ব্যাপারে এমন আক্বীদা পোষণ করা যা কেবল আল্লাহর জন্যই খাছ (যেমন: বিপদ দূর করা বা উপকার করার ক্ষমতা রাখা), তবে তাদের পেছনে ছালাত শুদ্ধ হবে না’ (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দাইমাহ, ৭/৩৫৩; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১২/২০৯ পৃ.)। অধিকাংশ হানাফী দেওবন্দীরা সাধারণত আশ‘আরী ও মাতুরীদী আক্বীদার অন্তর্ভুক্ত। এ ব্যাপারে মুহাম্মদ বিন ছালিহ আল উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আশ‘আরী বা অন্যান্য অবিনাশী বিদ‘আতের (যা কাফির বানায় না) দিকে সম্পৃক্ত ইমামদের পেছনে ছালাত পড়া ছহীহ (শুদ্ধ)। তবে মানুষের উচিত এমন ইমাম অনুসন্ধান করা যিনি সুন্নাহ্র সবচেয়ে নিকটবর্তী... কারণ ইমামতি একটি মহান দায়িত্ব, আক্বীদা ও আমলের দিক থেকে যিনি এর সবচেয়ে যোগ্য, তারই এই দায়িত্ব নেয়া উচিত’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল আল-উছাইমীন, ১২/৩১৪ পৃ.)
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন মুক্তাদীর ছালাত তার নিজস্ব মতাদর্শের বিরোধী ইমামের পেছনে পড়া ছহীহ। আর এটি ছাহাবী, তাবেঈন এবং চার ইমামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (ইত্তেফাক)...ইজতেহাদী মাসআলায় ইমাম যদি কোন বিষয় জায়েয মনে করেন যা মুক্তাদী জায়েয মনে করেন না (বা এর বিপরীত হয়), তবুও তার পেছনে মুক্তাদীর ছালাত ছহীহ হবে’ (মাজমূঊল ফাতাওয়া, ২৩/৩৭৮-৩৮০ পৃ.)। সুতরাং বিদ‘আতে মুকাফফিরাহ বা যে বিদ‘আত মুমিনকে কাফের বানায় বা এ জাতীয় আক্বীদায় বিশ্বাসী হলে তার পিছনে নিঃসন্দেহে ছালাত আদায় করা যাবে না। যেমন আল্লাহ নিরাকার, তিনি সর্বত্র বিরাজমান, আল্লাহ মানুষের মধ্যে বিলীন হয়ে যান বা মানুষ আল্লাহর মাঝে ফানা হয়ে যায় ইত্যাদি। আর আক্বীদা যদি কুফরের স্তরে না যায় তাহলে অন্য ইমাম না পাওয়া গেলে তারা পিছনে পড়ার কিছুটা অবকাশ রয়েছে। তবে ভিন্ন ইমাম পেলে সেটাও পরিত্যাজ্য।
প্রশ্নকারী : আব্দুল্লাহ, ঢাকা।