উত্তর : ইসলামের নির্ধারিত শারঈ নীতি ও শর্তাবলী রক্ষা করে একজন মহিলার পক্ষে বিমান চালক বা ‘পাইলট’ হিসাবে চাকুরী করা সাধারণভাবে কঠিন ও অসম্ভব। তাই এটি তার জন্য জায়েয নয়। মহিলাদের কর্মসংস্থান ও সফরের ক্ষেত্রে ইসলামী শরী‘আতের কয়েকটি মৌলিক শর্ত রয়েছে। যেমন :
(১) মাহরাম ছাড়া সফর নিষিদ্ধ: পাইলটের চাকুরীতে দেশ-বিদেশে ঘন ঘন সফর করতে হয়, যেখানে অনেক সময় সফরসূচী একাধিক দিনব্যাপী হয়ে থাকে। শরী‘আত অনুযায়ী মাহরাম (স্বামী বা যার সাথে স্থায়ীভাবে বিবাহ হারাম) ছাড়া কোন মহিলার সফর করা হারাম। নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন নারী যেন মাহরাম অভিভাবক ছাড়া সফর না করে’ (ছহীহ বুখারী, হা/১৮৬২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৩৪১)।
(২) বেগানা পুরুষের সাথে নির্জনতা: ককপিটে পাইলট ও কো-পাইলটকে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে অবস্থান করতে হয়। অশুভ উদ্দেশ্যে না হলেও শরী‘আতের দৃষ্টিতে কোন বেগানা পুরুষের সাথে একান্তে অবস্থান করা নিষিদ্ধ। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘কোন পুরুষ যেন কোন নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করে; কারণ তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান’ (তিরমিযী, হা/১১৭১, সনদ ছহীহ)।
(৩) পূর্ণাঙ্গ পর্দা রক্ষা ও ফিতনাহ মুক্ত থাকা: পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পূর্ণাঙ্গ শারঈ পর্দা (চেহারা ও হাতসহ) রক্ষা করা এবং ফিতনাহ মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা এ জাতীয় চাকুরীতে অসম্ভব। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের ঘরে অবস্থান কর এবং মূর্খতার যুগের মত নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়িও না’ (সূরা আল-আহযাব : ৩৩)। শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) এ জাতীয় পেশা ও সফর সম্পর্কে বলেন, ‘নারীদের এমন কোন পেশা গ্রহণ করা বৈধ নয়, যেখানে মাহরাম ছাড়া সফর করতে হয় কিংবা পরপুরুষের সাথে নির্জনতা বা মেলামেশার (ইখতিলাত্ব) সৃষ্টি হয়’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ও রাসাইল লিইবনি উছাইমীন, ১২/২৭৩ পৃ.)। সঊদীর আরবের স্থায়ী ফাতওয়া কমিটিও মাহরাম ব্যতীত নারীদের দূরবর্তী চাকুরীতে সফর করাকে অবৈধ ঘোষণা করেছে (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়েমা, ১৭/৩৩৯ পৃ.)।
প্রশ্নকারী : সাবরিনা, ঢাকা।