রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত উক্তি দ্বারা মূলত সমকামিতার ভয়াবহতা প্রকাশ করা হয়েছে। যেমন ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যেহেতু সমকামিতার অনিষ্টতা সর্বাধিক ধ্বংসাত্মক, সেহেতু ইহকালে ও পরকালে এর শাস্তিও হবে সবচেয়ে ভয়াবহ’ (আল-জাওয়াবুল কাফী, ১/১৬৮ পৃ.)। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেন, مَنْ وَجَدْتُمُوْهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوْطٍ فَاقْتُلُوْا الْفَاعِلَ وَالْـمَفْعُوْلَ بِهِ ‘তোমরা যে মানুষকে লূত্ব সম্প্রদায়ের কুকর্মে (সমকামিতায়) নিয়োজিত পাবে সেই কুকর্মকারীকে এবং যার সাথে কুকর্ম করা হয়েছে তাদের উভয়কেই হত্যা করবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৪৬২; তিরমিযী, হা/১৪৫৬)। রাসূল (ﷺ) লূত্ব জাতির অনুরূপ অপকর্মে লিপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন, اُرْجُمُوْا الْأَعْلَى وَالْأَسْفَلَ اُرْجُمُوْهُمَا جَمِيْعًا ‘তোমরা উপরের এবং নিচের উভয় ব্যক্তিকেই রজম করে অর্থাৎ প্রস্তরাঘাতে হত্যা কর’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৫৬২, ২০৯২; হাকিম, হা/৮০৪৮; মুসনাদ আবূ ইয়া‘আলা, হা/৬৬৮৭; শারহু মুশকিলিল আছার, হা/৩৮৩৩)।

দেশে ইসলামী শাসক নেই সেজন্য তার উপর শাস্তি (দ- বা শাস্তি) কার্যকর করা সম্ভবপর নয়। এক্ষেত্রে গুনাহগার ব্যক্তি দুনিয়াবী তুচ্ছ শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পেলেও কিন্তু পরকালের ভয়াবহ শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে না। তাই পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি প্রাপ্তির জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট অত্যন্ত খালেছভাবে তাওবাহ ও ইস্তিগফার করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা খালিছ তাওবাহর মাধ্যমে শিরকের মত মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক, হত্যার মত ভয়াবহ এবং ব্যভিচারের মত জঘন্য গুনাহকেও ক্ষমা করার ঘোষণা করেছেন (সূরা আল-ফুরক্বান : ৬৮-৭০)। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, وَ اِنِّیۡ لَغَفَّارٌ لِّمَنۡ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ صَالِحًا  ثُمَّ  اہۡتَدٰی  ‘আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবাহ করে, ঈমান আনয়ন করে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে চলতে থাকে’ (সূরা ত্বোহা : ৮২)। নবী করীম (ﷺ) বেেলছেন, ‏التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ ‘গুনাহ থেকে তাওবাহকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০, সনদ হাসান)। উল্লেখ্য যে, তওবাহ্ কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। যথা : ১- পাপকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে। ২- কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে। ৩- ঐ পাপ পুনরায় না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। সুতরাং যদি এর মধ্যে একটি শর্তও লুপ্ত হয়, তাহলে সেই তওবাহ বিশুদ্ধ হবে না। পক্ষান্তরে যদি সেই পাপ মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে তা কবুলের জন্য চারটি শর্ত আছে। উপরিউক্ত তিনটি এবং চতুর্থ শর্ত হল, অধিকারীর অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি অবৈধ পন্থায় কারো মাল বা অন্য কিছু নিয়ে থাকে, তাহলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে’ (রিয়াযুছ ছলিহীন, তাওবাহ্ অনুচ্ছেদ, পৃ. ১৪-২২ পৃ.)।

প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ, রায়ের বাজার, ঢাকা।
 




প্রশ্ন (২২) : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের ইবাদত অধ্যায়ের পাঠ-২ এ লিখা আছে, ‘উৎপন্ন শস্যের যাকাত ধান, গম, যব, খেজুর ইত্যাদি শস্য সেচ প্রদান ছাড়া বৃষ্টির পানিতে জন্মালে ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত’ সব ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ যাকাত আদায় করতে হবে। একে উশর বলে। আর সেচ ব্যবস্থায় উৎপন্ন ফসলের বিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত আদায় করতে হয়’। প্রশ্ন হল- ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত’ কথাটি কি সঠিক? এর ব্যাখ্যা কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : বিকাশ, রকেট এই ধরণের অফিসের আইটি সেক্টরে চাকরি করাটা কি হারাম হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে নগ্ন অবস্থায় ফরয গোসল করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : স্ত্রী প্রচণ্ড রাগী স্বভাবের হওয়ায় ঝামেলা এড়াতে যদি স্বামী কোন ঘটনায় নিজের দোষ না থাকার পরেও নিজেরই ভুল হয়েছে বলে মেনে নেন, তাহলে কি গুনাহ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : ঈদের খুত্ববাহ কয়টি? কোথাও একটি আবার কোথাও দু’টি দিতে দেখা যায়। কোনটি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ছালাতে ক্বিরা‘আতের সময় মাইক ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি কবরে কতদিন থাকবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : যঈফ হাদীছ কি সর্বক্ষেত্রেই বর্জনীয়? কোন কোন ক্ষেত্রে যঈফ হাদীছের উপর আমল করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : যদি কারো মা তার দেবরের সামনে শরী‘আহ মোতাবেক পর্দা না করে এবং ছেলের বাবা তাকে কিছু না বলে, তাহলে ছেলে কি দাইয়ূছ হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : নারীরা সাজগোজ করে মাহরাম ব্যতীত অন্য পুরুষদের সামনে যেতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ছালাতের মধ্যে ক্বিরাআত ছুটে গেলে কিংবা ভুল হলে সহো সিজদা দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : জনৈক ব্যক্তি ওয়েব সাইট ডেভলপার এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। মৌলিকভাবে এসব কাজ হারাম না। তবে স্পষ্ট হারাম যেমন সূদ ভিত্তিক ব্যাংক, মাদক, জুয়া, যৌনতা ইত্যাদি বাদ দিয়ে যেকোন ওয়েব সাইটের কাজ করলে কি তা হালাল হবে? এছাড়া কোন্ কোন্ বিষয়ের সংমিশ্রণ হলে ইনকাম হারাম হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ