বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত উক্তি দ্বারা মূলত সমকামিতার ভয়াবহতা প্রকাশ করা হয়েছে। যেমন ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যেহেতু সমকামিতার অনিষ্টতা সর্বাধিক ধ্বংসাত্মক, সেহেতু ইহকালে ও পরকালে এর শাস্তিও হবে সবচেয়ে ভয়াবহ’ (আল-জাওয়াবুল কাফী, ১/১৬৮ পৃ.)। ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেন, مَنْ وَجَدْتُمُوْهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوْطٍ فَاقْتُلُوْا الْفَاعِلَ وَالْـمَفْعُوْلَ بِهِ ‘তোমরা যে মানুষকে লূত্ব সম্প্রদায়ের কুকর্মে (সমকামিতায়) নিয়োজিত পাবে সেই কুকর্মকারীকে এবং যার সাথে কুকর্ম করা হয়েছে তাদের উভয়কেই হত্যা করবে’ (আবূ দাঊদ, হা/৪৪৬২; তিরমিযী, হা/১৪৫৬)। রাসূল (ﷺ) লূত্ব জাতির অনুরূপ অপকর্মে লিপ্ত ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন, اُرْجُمُوْا الْأَعْلَى وَالْأَسْفَلَ اُرْجُمُوْهُمَا جَمِيْعًا ‘তোমরা উপরের এবং নিচের উভয় ব্যক্তিকেই রজম করে অর্থাৎ প্রস্তরাঘাতে হত্যা কর’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৫৬২, ২০৯২; হাকিম, হা/৮০৪৮; মুসনাদ আবূ ইয়া‘আলা, হা/৬৬৮৭; শারহু মুশকিলিল আছার, হা/৩৮৩৩)।

দেশে ইসলামী শাসক নেই সেজন্য তার উপর শাস্তি (দ- বা শাস্তি) কার্যকর করা সম্ভবপর নয়। এক্ষেত্রে গুনাহগার ব্যক্তি দুনিয়াবী তুচ্ছ শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পেলেও কিন্তু পরকালের ভয়াবহ শাস্তি থেকে রক্ষা পাবে না। তাই পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি প্রাপ্তির জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট অত্যন্ত খালেছভাবে তাওবাহ ও ইস্তিগফার করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা খালিছ তাওবাহর মাধ্যমে শিরকের মত মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক, হত্যার মত ভয়াবহ এবং ব্যভিচারের মত জঘন্য গুনাহকেও ক্ষমা করার ঘোষণা করেছেন (সূরা আল-ফুরক্বান : ৬৮-৭০)। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, وَ اِنِّیۡ لَغَفَّارٌ لِّمَنۡ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ صَالِحًا  ثُمَّ  اہۡتَدٰی  ‘আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবাহ করে, ঈমান আনয়ন করে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে চলতে থাকে’ (সূরা ত্বোহা : ৮২)। নবী করীম (ﷺ) বেেলছেন, ‏التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ ‘গুনাহ থেকে তাওবাহকারী নিষ্পাপ ব্যক্তিতুল্য’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৫০, সনদ হাসান)। উল্লেখ্য যে, তওবাহ্ কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে। যথা : ১- পাপকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে। ২- কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে। ৩- ঐ পাপ পুনরায় না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। সুতরাং যদি এর মধ্যে একটি শর্তও লুপ্ত হয়, তাহলে সেই তওবাহ বিশুদ্ধ হবে না। পক্ষান্তরে যদি সেই পাপ মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে তা কবুলের জন্য চারটি শর্ত আছে। উপরিউক্ত তিনটি এবং চতুর্থ শর্ত হল, অধিকারীর অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি অবৈধ পন্থায় কারো মাল বা অন্য কিছু নিয়ে থাকে, তাহলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে’ (রিয়াযুছ ছলিহীন, তাওবাহ্ অনুচ্ছেদ, পৃ. ১৪-২২ পৃ.)।

প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ, রায়ের বাজার, ঢাকা।
 




প্রশ্ন (২৭) : বিভিন্ন ভাষায় রচিত গল্প, নাটক, উপন্যাসের বই বিক্রি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক আলেম বলেন, মসজিদে এমন কোন বস্তু রাখা যাবে না, যা মুছল্লীকে আকৃষ্ট করে। তাই কা‘বার ছবি, নববীর ছবি, মিনারের ছবি ইত্যাদি রাখা যাবে না। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : পায়ের লোম অতিরিক্ত বড় হলে কেটে ফেলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : মৃত ব্যক্তির নামে খাওয়ানো, চার দিন পর দু‘আ অনুষ্ঠান, চল্লিশা উৎযাপন, মৃত্যু বার্ষিকী উৎযাপন ইত্যাদির মাধ্যমে কি মৃত ব্যক্তি শাস্তিপ্রাপ্ত হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ছালাত কি ব্যক্তিগত ইবাদত? কারণ অনেককে ছালাতের জন্য ডাকলে তারা বলে, নামাজ পড়া না পড়া আমার ব্যাপার। এ ধরনের কথা বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : এশার ছালাত কখন আদায় করা উত্তম? আউয়াল ওয়াক্তে, না-কি দেরিতে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নাম কয়টি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আমরা ‘বায়তুল্লাহর মুসাফির’ নামে একটি হজ্জ ও ওমরা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করছি। যারা আলেম, ইমাম বা দাঈ হিসাবে আমাদের সাথে যুক্ত থাকবেন, তাদের মাধ্যমে যদি কেউ হজ্জে যান, তাহলে আমরা তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সম্মাননা, ওমরার সুযোগ বা অর্থ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। এভাবে বলা যায় যে, ‘কেউ যদি আমাদের নির্দিষ্ট সংখ্যক হাজী দেন, তাহলে তাকে ওমরা করানোর ব্যবস্থা করা হবে’। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এভাবে কাজ করাটা জায়েয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২): যে ব্যক্তির ডিউটি টাইম ফজর পর্যন্ত বিলম্বিত সে কি যোহর-আছর একত্রে আদায় করতে পারবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ছালাত আদায় করার সময় শুধু রুকূ‘ পেলেই কি পুরো রাকা‘আত পাওয়া হবে, না-কি পরবর্তীতে ঐ রাক‘আত আবার পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : গ্রাম বা শহরে বিবাহ অনুষ্ঠানের খাওয়া-দাওয়া শেষে বর/কনে পক্ষকে উপহার দেয়ার চিরাচরিত নিয়মটা ইসলাম কতটুকু সমর্থন করে? সমাজ রক্ষার্থে ঐখানে গিয়ে বাধ্য হয়ে কোন উপহার দিলে পাপ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : জনৈক বক্তা বলেছেন, যার নিছাব পরিমাণ সম্পদ আছে, তার উপর ফিতরা ওয়াজিব। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? কতটুকু খাবার থাকলে ফিতরা দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ