উত্তর : যদি পিতামাতা কোন কারণ ছাড়াই সন্তানের উপর রাগান্বিত হোন সেক্ষেত্রে সন্তানের কোন গুনাহ হবে না ইনশাআল্লাহ। অকারণে সন্তানদের উপর বদ-দু‘আ করা পিতা-মাতার জন্য জায়েয নয়। জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, তোমরা তোমাদের উপর এবং তোমাদের সন্তানদের উপর এবং নিজের ধন-সম্পদের উপর বদ-দু‘আ করো না। এমন যেন না হয় যে, তোমরা এমন মুহূর্তে বদ-দু‘আ করছো যখন আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া হলে, তা ক্ববুল হয়ে যায় (ছহীহ মুসলিম, হা/৩০০৯; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-২৯৬০৫৩)। শাইখ মুহাম্মাদ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘এটি আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ অনুগ্রহ যে, তিনি রাগান্বিত ও ক্রোধান্বিত অবস্থায় সন্তানদের উপর পিতা-মাতার বদ-দু‘আ ক্ববুল করেন না। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘আর আল্লাহ্ যদি মানুষের অকল্যাণে (সাড়া দিতে) তরান্বিত করতেন, যেভাবে তিনি তাদের কল্যাণে (সাড়া দিতে) তরান্বিত করেন, তাহলে অবশ্যই তারা ধ্বংস হয়ে যেত। সুতরাং যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না, আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার মধ্যে ঘুরপাক খেতে ছেড়ে দিই’ (সূরা ইউনুস : ১১)।
উপরিউক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় বান্দাদের উপর তাঁর অনুগ্রহ, দয়া, সহানুভূতি, সহৃদয়তা ও কোমলতা সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন। যখন তারা ক্রুদ্ধ ও রাগান্বিত অবস্থায় নিজেদের উপর অথবা সন্তানদের উপর অথবা ধন-সম্পদের উপর বদ-দু‘আ করে, তখন তিনি তা ক্ববুল করেন না’ (তাফসীরে ইবনু কাছীর, ২/৫৫৪ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯০১৭৮)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘বান্দার দু‘আ সর্বদা গৃহীত হয়, কিন্তু যদি সে অন্যায় ও অবৈধ উদ্দেশ্যে অথবা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করার জন্য অথবা দু’আতে তাড়াহুড়া করে, তবে তার দু‘আ গৃহীত হয় না। জিজ্ঞেস করা হল- হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! (দু‘আয়) তাড়াহুড়া করা বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন, সে বলতে থাকে, আমি দু‘আ তো করেছি, আমি দুআ তো করেছি; কিন্তু আমি কবুল হওয়া দেখতে পেলাম না। তখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, এবং দু‘আ করা পরিত্যাগ করে (ছহীহ মুসলিম, হা/২৭৩৫, ৬৮২৯; ছহীহুল জামি‘, হা/৭৭০৫)।
সামাজিক কলহ, ঝগড়া, তর্কাতর্কি ও মতবিরোধের কারণে কোন মুসলিম ভাইকে বদ-দু‘আ বা অভিশাপ দেয়া জায়েয নয়। সামুরা ইবনু জুনদাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পর পরস্পরকে আল্লাহ তা‘আলার অভিসম্পাত, তাঁর গযব ও জাহান্নামের বদ-দু‘আ কর না’ (তিরমিযী, হা/১৯৭৬; আবূ দাঊদ, হা/৪৯০৬)। তিনি আরো বলেন, ‘মুমিন কখনো দোষারোপকারী, নিন্দাকারী এবং অভিসম্পাতকারী হতে পারে না, আর অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না’ (তিরমিযী, হা/১৯৭৭; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/৩২০)। আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ)-কে বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি মুশরিকদের উপর বদ-দু‘আ করুন। তিনি বললেন, আমি তো অভিশাপকারীরূপে প্রেরিত হইনি, বরং আমি রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছি’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯৯)। আবূ হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘একজন সত্যবাদীর জন্য অভিসম্পাতকারী হওয়া সমীচীন নয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯৭)।
প্রশ্নকারী : আবূ হুরাইরা সিফাত, মান্দা, নওগাঁ।