শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন
উত্তর : তাহিয়্যাতুল মসজিদকে কেউ কেউ ওয়াজিব বললেও অধিকাংশ আলিম সুন্নাত বলেছেন। এমনকি কিছু আলিম এ বিষয়ে ইজমা’ বা সর্বসম্মতির কথাও উল্লেখ করেছেন (তাবয়িনুল হাক্বায়িক্ব, ১/১৭৩; আল-মাজমূঊ, ৪/৫২; মুগনীউল মুহতাজ, ১/২২৩; আল-ফুরূঊ, ৩/১৮৩; কাশশাফুল কিনা‘, ১/৪৪৪ পৃ.)। আবূ ক্বাতাদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ ‘তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন দুই রাকা‘আত ছালাত না পড়ে না-ই বসে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৪৪, ১১৬৭; ছহীহ মুসলিম, হা/৭১৪)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করা মুস্তাহাব (সুন্নাত) হওয়ার ব্যাপারে আলিমদের সর্বসম্মতি রয়েছে। কোন ওজর ছাড়া তা আদায় না করে বসে পড়া অপসন্দনীয় (আল-মাজমূঊ, ৩/৫৪৪ পৃ.)। সঊদীর আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আলেমগণ বলেন, সুন্নাত হল- যেই ব্যক্তি যে কোন সময় মসজিদে প্রবেশ করবে, সে যেন তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করে; কারণ নবী (ﷺ)-এর সাধারণ বাণী, ‘তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করলে যেন দুই রাকা‘আত না পড়ে না-ই বসে’। এটি সহীহ হাদীছ, বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৭/১৩৭ পৃ.)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ ওয়াজিব হওয়ার কথা একটি শক্তিশালী মত। তবে অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত হল- এটি নিশ্চিত সুন্নাত। আর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহরই’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে উছাইমীন, ১৪/৩৫৪ পৃ.)। ক্বাযী আয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) দাউদ যাহিরী ও তার সঙ্গীদের পক্ষ থেকে একে ওয়াজিব বলার কথা উল্লেখ করেছেন (শারহুন নববী ‘আলা মুসলিম, ৫/২২৬ পৃ.)।

ইবনু রজব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীছে মসজিদে প্রবেশকারীকে বসার আগে দুই রাকা‘আত পড়ার নির্দেশ আছে। তবে এই নির্দেশ সর্বসম্মতভাবে সুন্নাতের জন্য, ওয়াজিব নয়। শুধু কিছু যাহিরির থেকে ওয়াজিব বলার কথা এসেছে। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মানুষ ওযূ ছাড়া মসজিদে প্রবেশ করে এবং এমন সময়েও প্রবেশ করে যখন নফল পড়া বৈধ নয়। তিনি ইঙ্গিত দেনÑ যদি ওয়াজিব হত, তাহলে ওযু বাধ্যতামূলক হত; অথচ কেউ তা বলেননি’ (ফাৎহুল বারী, ২/৪৬২-৪৬৩ পৃ.)। আল-বাজী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইমাম মালিকের উক্তিÑ ’এটি ভালো, কিন্তু ওয়াজিব নয়’। অর্থাৎ মসজিদে প্রবেশের সময় ছালাত আদায় করা ওয়াজিব নয়। এ বিষয়ে সকল ফক্বীহ একমত। কেবল দাঊদ যাহিরী ওয়াজিব বলেছেন। কিন্তু জামহূরের মত সঠিকÑ কারণ নবী (ﷺ)-কে যিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন তার উপর কী কী ছালাত ফরয? তিনি বলেছিলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্তের ছালাত’। ঐ ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘এগুলোর বাইরে কি কিছু আছে?’ তিনি বললেন, ‘না, তবে তুমি ইচ্ছা করলে নফল পড়বে’ (আল-মুনতাক্বা, ১/২৮৭ পৃ.)। ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘বেশিরভাগ আলিমের মতে- মাসজিদে প্রবেশের সাথে ছালাত আদায়ের আদেশটি নফল ও উৎসাহমূলক’ (তাফসীরে কুরতুবী, ১২/২৭৩ পৃ.)।

দ্বিতীয়তঃ নিষিদ্ধ সময়ে কারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছালাত (যেমন তাহিয়্যাতুল মসজিদ ইত্যাদি) আদায় করা নিয়ে আলিমদের মধ্যে মতভেদ আছে। এ বিষয়ে দু’টি মত পরিলক্ষিত হয়। প্রথম মত : নিষিদ্ধ সময়েও কারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছালাত আদায় করা জায়েয। এটি শাফিঈ মাযহাবের, ইমাম আহমাদের একটি বর্ণনা ও কিছু সালাফের মত। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, আমরা আগে উল্লেখ করেছি যে আমাদের মাযহাব হল- এসব ছালাত অর্থাৎ কারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছালাত নিষিদ্ধ সময়ে আদায় করা অপসন্দনীয় নয় এবং এই মতের উপর ছিলেন আলী ইবনে আবী ত্বালিব, জুবাইর ইবনুল আওয়াম ও তাঁর ছেলে, আবূ আইয়ূব, নু‘মান ইবনু বাশীর, তামীম আল-দারী এবং আয়িশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) (আল-মাজমূঊ লিন নববী, ৪/১৭০-১৭১; রাওযাতুত্ব ত্বলিবীন, ১/১৯২; আল-মুগনী, ২/৯০; আল-ইনসাফ, ২/১৪৮ পৃ.)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘যে ছালাতের পূর্বে কোন কারণ থাকে’- এটাই এখানে ‘কারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছালাত’ দ্বারা উদ্দেশ্য। কারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছালাতের অন্তর্ভুক্ত হল- ক্বাযা ছালাত, জানাযার ছালাত, তিলাওয়াতের সাজদাহ ও শুকরিয়ার সাজদাহ, সূর্যগ্রহণের ছালাত, ত্বাওয়াফের পরের ছালাত’ (আল-মাজমূঊ, ৪/১৭০ পৃ.)।

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যে নফল ছালাত কোন কারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, সে ধরনের নফল ছালাত নিষিদ্ধ সময়ে বৈধ নয়। কিন্তু কারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছালাতের ক্ষেত্রে আলিমদের দুই মতের মধ্যে দলীলের দিক থেকে যা শক্তিশালীÑ তা হল: প্রয়োজন হলে এ ছালাতগুলো জায়েয (আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, ১/৪৫২ পৃ.)। দ্বিতীয় মত : নিষিদ্ধ সময়ে কারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছালাত আদায় করা জায়েয নয় (তাবয়িনুল হাক্বায়িক্ব, ১/৮৬; শারহু মুখতাছার খালীল, ১/২২২; ছহীহ বুখারী, হা/৫৮১, ৫৮২, ৫৮৩)।


প্রশ্নকারী : উমার ফারুক, ফরীদপুর।





প্রশ্ন (৩৬) শস্যের যাকাত কখন ফরয হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : স্বামী মারা গেলে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি/আত্মীয় বাড়ি যেতে এবং সেখানে অবস্থান করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া ছেলে বিবাহ করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : বাসর ঘরে স্বামী-স্ত্রী জামা‘আত করে ছালাত আদায় করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : ‘কট জমি’ তথা টাকা ফেরত দেয়ার শর্তে জমি বাবদ টাকা নেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কুরআন যেমন আল্লাহর কালাম অনুরূপ হাদীছের ক্ষেত্রে আমাদের আক্বীদা কেমন হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : মসজিদে ফজরের ছালাতের পর পঠিতব্য দু‘আ পাঠ শেষ হওয়ার আগেই এবং ছুটে যাওয়া সুন্নাত শেষ হওয়ার আগেই, একজন মাইক নিয়ে প্রতিদিন হাদীছ শুনায়, ছালাত শিখায়। এ সময় এভাবে শিক্ষা দেয়া কি শরী‘আত সম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : কেউ তাওবা করে দ্বীনের পথে ফিরে এসেছে। সে যদি অতীতে কাউকে পাপ কাজে সহযোগিতা করে, তাহলে এখনো কি সেই পাপের সমান ভাগীদার হবে? যাকে পাপ কাজে সহযোগিতা করেছে, সে তাকেও ফিরে আসতে বলেছে। কিন্তু সে ফিরে আসতে চাচ্ছে না। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : বদ নযর কী? বদ নযরের প্রভাবে একজন মানুষ কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : ছহীহ হাদীছের অনুসরণ করার কারণে অনেকে ‘জঙ্গী’ বলছে। এ জন্য পরিবারও চিন্তিত। তারাও চাপ সৃষ্টি করছে। এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : লোকসানের অংশীদার হবে এমন শর্তে কোন ইসলামী ব্যাংকে টাকা রেখে তার লভ্যাংশ গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করেছেন কি-না? দলীলসহ জানতে চাই। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ