বৃহস্পতিবার, ২৩ Jul ২০২৬, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
উত্তর : দাড়ি মুণ্ডন করা অথবা এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছু কেটে ফেলা নিষেধ। কারণ এটি নবী (ﷺ)-এর হিদায়াত ও তাঁর দাড়ি বাড়তে দেয়ার আদেশের বিরোধিতা করে। আর আদেশ মূলত ফরয হওয়ার অর্থ বহন করে, যতক্ষণ না কোন প্রমাণ পাওয়া যায় যা এ বিধানকে তার আসল অর্থ থেকে সরিয়ে দেয়। অথচ আমরা এমন কোনো প্রমাণ জানি না যা এ বিধানকে সরিয়ে দেয়’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৫/১৩৭ পৃ.)। শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ওয়াজিব হল- দাড়ি বৃদ্ধি করা, তা পূর্ণ রাখা, ছেড়ে দেয়া এবং এর সাথে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ না করা। আর তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) যে হাদীছ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) নাকি দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছু ছাঁটতেনÑ এটি বিদ্বানদের মতে একটি পরিত্যাজ্য (মিথ্যা) রিওয়ায়াত। সুতরাং কোন মুমিনের জন্য এ বাতিল হাদীছকে ভিত্তি বানানো বৈধ নয় এবং কিছু আলিম যে এ বিষয়ে সহজ মতামত দিয়েছেন, তার উপর নির্ভর করাও বৈধ নয়। কেননা সুন্নাহ সবার উপরে বিচারক’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১০/৯৬-৯৭ পৃ.)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘দাড়ি ছাঁটা মানে নবী (ﷺ)-এর আদেশের বিরোধিতা করা, কারণ তিনি বলেছেন, ‘দাড়ি বড় করো’, ‘দাড়ি পূর্ণ করো’, ‘দাড়ি বাড়তে দাও’। অতএব, যে কেউ রাসূল (ﷺ)-এর আদেশ মানতে চাইবে এবং তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করতে চাইবে, সে যেন দাড়ি থেকে কিছুই না কাটে; কেননা রাসূল (ﷺ)-এর হিদায়াত ছিল দাড়ি থেকে কিছুই না কাটা এবং তাঁর আগের নবীদের হিদায়াতও এমনই ছিল’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১১/৮২ পৃ.)।

ইবনু ‘উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)  নবী (ﷺ) বলেন, ‘তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবেÑ দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯২, ৫৮৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯)। হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وفروا اللحى ‘দাড়ি ঘন করো এবং বাড়তে দাও’ (ফাৎহুল বারী, ১০/৩৫০ পৃ.)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘এই হাদীছের পাঁচটি পৃথক শব্দের রিওয়ায়াত এসেছে, أعفوا (দাড়ি বাড়াও), أوفوا (পূর্ণ করো), أرخوا (ছেড়ে দাও), أرجوا (বাড়তে দাও) এবং وفِّروا (ঘন করো)। এ সকল শব্দের অর্থ একইÑ দাড়িকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে দেয়া। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে পরিস্ফুটিত হল যে, যারা বলে থাকে: ‘দাড়ির দৈর্ঘ্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং পরিচর্যা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ’Ñতাদের এই কথা সুন্নাহর বিরোধী। কেননা সুন্নাহ দাড়ি বাড়িয়ে দেয়া ও তা অবিকৃত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সুতরাং মুসলিমের জন্য উভয় বিষয়ই যরূরী: দাড়ি বৃদ্ধি করা এবং তা থেকে কিছু না কাটা, একইসাথে তার যত্ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা। অতএব, যে মুসলিম তার দ্বীনের ব্যাপারে সতর্ক এবং রাসূল (ﷺ)-এর পূর্ণ অনুসরণ কামনা করে, তার উচিত এ ধরনের কথার প্রতি কর্ণপাত না করা, যা শরী‘আতের সুস্পষ্ট দলীলের বিরোধিতা করে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৫৫১২)।


প্রশ্নকারী : মোল্লা, গোপালগঞ্জ।





প্রশ্ন (২১) : প্যান্টের সাথে সংযুক্ত মোজার উপর মাসেহ করার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : ‘দেবর মৃত্যু সমতুল্য’ এই হাদীছের তাৎপর্য কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : তাওহীদ ৩ প্রকার। তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ, উলূহিয়্যাহ, আসমা ওয়াছ ছিফাত। এভাবে তাওহীদের প্রকার করা ও এই নামগুলো কখন থেকে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১): কোন্ কোন্ দিন ছিয়াম পালন করা নিষেধ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক বক্তা বলেন, কুরবানীর মাংস তিনদিনের বেশি খাওয়া যাবে না। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : জুমু‘আহ মসজিদে প্রথম জামা‘আতের পর আর জামা‘আত করা যাবে কি? পরের জামা‘আতে ইক্বামত দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১): শিল্পী ও নর্তকীদের উপার্জন কি হালাল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : নমরূদ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে আগুনে নিক্ষেপ করলে আগুন ফুলবাগানে পরিণত হয়। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : যোহরের ছালাত আদায় করতে গিয়ে দেখা যায় যে, জামা‘আত শুরু হতে কিছু সময় বাকী আছে, এমতাবস্থায় কোন ব্যক্তির যদি ফজর ক্বাযা থাকে, তাহলে সে আগে ক্বাযা আদায় করবে, না-কি যোহরের সুন্নাত পড়বে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : স্বর্ণ ও রৌপ্যের নিছাব কত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৭) : সাত আসমানে সাতজন মুহাম্মাদ (ﷺ) আছেন। এই দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : জানাযার ছালাতের সময় লাশ সামনে রেখে মৃতের ঋণ ও অছিয়ত সংক্রান্ত কথা বলা ছাড়াও সমাজের বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলোচনার সুযোগ দেয়া হয়। এরূপ করা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ