উত্তর : দাড়ি মুণ্ডন করা অথবা এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছু কেটে ফেলা নিষেধ। কারণ এটি নবী (ﷺ)-এর হিদায়াত ও তাঁর দাড়ি বাড়তে দেয়ার আদেশের বিরোধিতা করে। আর আদেশ মূলত ফরয হওয়ার অর্থ বহন করে, যতক্ষণ না কোন প্রমাণ পাওয়া যায় যা এ বিধানকে তার আসল অর্থ থেকে সরিয়ে দেয়। অথচ আমরা এমন কোনো প্রমাণ জানি না যা এ বিধানকে সরিয়ে দেয়’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৫/১৩৭ পৃ.)। শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ওয়াজিব হল- দাড়ি বৃদ্ধি করা, তা পূর্ণ রাখা, ছেড়ে দেয়া এবং এর সাথে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ না করা। আর তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) যে হাদীছ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) নাকি দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছু ছাঁটতেনÑ এটি বিদ্বানদের মতে একটি পরিত্যাজ্য (মিথ্যা) রিওয়ায়াত। সুতরাং কোন মুমিনের জন্য এ বাতিল হাদীছকে ভিত্তি বানানো বৈধ নয় এবং কিছু আলিম যে এ বিষয়ে সহজ মতামত দিয়েছেন, তার উপর নির্ভর করাও বৈধ নয়। কেননা সুন্নাহ সবার উপরে বিচারক’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১০/৯৬-৯৭ পৃ.)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘দাড়ি ছাঁটা মানে নবী (ﷺ)-এর আদেশের বিরোধিতা করা, কারণ তিনি বলেছেন, ‘দাড়ি বড় করো’, ‘দাড়ি পূর্ণ করো’, ‘দাড়ি বাড়তে দাও’। অতএব, যে কেউ রাসূল (ﷺ)-এর আদেশ মানতে চাইবে এবং তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করতে চাইবে, সে যেন দাড়ি থেকে কিছুই না কাটে; কেননা রাসূল (ﷺ)-এর হিদায়াত ছিল দাড়ি থেকে কিছুই না কাটা এবং তাঁর আগের নবীদের হিদায়াতও এমনই ছিল’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১১/৮২ পৃ.)।
ইবনু ‘উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (ﷺ) বলেন, ‘তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবেÑ দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯২, ৫৮৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯)। হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وفروا اللحى ‘দাড়ি ঘন করো এবং বাড়তে দাও’ (ফাৎহুল বারী, ১০/৩৫০ পৃ.)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘এই হাদীছের পাঁচটি পৃথক শব্দের রিওয়ায়াত এসেছে, أعفوا (দাড়ি বাড়াও), أوفوا (পূর্ণ করো), أرخوا (ছেড়ে দাও), أرجوا (বাড়তে দাও) এবং وفِّروا (ঘন করো)। এ সকল শব্দের অর্থ একইÑ দাড়িকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে দেয়া। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে পরিস্ফুটিত হল যে, যারা বলে থাকে: ‘দাড়ির দৈর্ঘ্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং পরিচর্যা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ’Ñতাদের এই কথা সুন্নাহর বিরোধী। কেননা সুন্নাহ দাড়ি বাড়িয়ে দেয়া ও তা অবিকৃত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সুতরাং মুসলিমের জন্য উভয় বিষয়ই যরূরী: দাড়ি বৃদ্ধি করা এবং তা থেকে কিছু না কাটা, একইসাথে তার যত্ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা। অতএব, যে মুসলিম তার দ্বীনের ব্যাপারে সতর্ক এবং রাসূল (ﷺ)-এর পূর্ণ অনুসরণ কামনা করে, তার উচিত এ ধরনের কথার প্রতি কর্ণপাত না করা, যা শরী‘আতের সুস্পষ্ট দলীলের বিরোধিতা করে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৫৫১২)।
প্রশ্নকারী : মোল্লা, গোপালগঞ্জ।