রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:০৪ অপরাহ্ন
উত্তর : দাড়ি মুণ্ডন করা অথবা এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছু কেটে ফেলা নিষেধ। কারণ এটি নবী (ﷺ)-এর হিদায়াত ও তাঁর দাড়ি বাড়তে দেয়ার আদেশের বিরোধিতা করে। আর আদেশ মূলত ফরয হওয়ার অর্থ বহন করে, যতক্ষণ না কোন প্রমাণ পাওয়া যায় যা এ বিধানকে তার আসল অর্থ থেকে সরিয়ে দেয়। অথচ আমরা এমন কোনো প্রমাণ জানি না যা এ বিধানকে সরিয়ে দেয়’ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৫/১৩৭ পৃ.)। শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘ওয়াজিব হল- দাড়ি বৃদ্ধি করা, তা পূর্ণ রাখা, ছেড়ে দেয়া এবং এর সাথে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ না করা। আর তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) যে হাদীছ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) নাকি দাড়ির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থেকে কিছু ছাঁটতেনÑ এটি বিদ্বানদের মতে একটি পরিত্যাজ্য (মিথ্যা) রিওয়ায়াত। সুতরাং কোন মুমিনের জন্য এ বাতিল হাদীছকে ভিত্তি বানানো বৈধ নয় এবং কিছু আলিম যে এ বিষয়ে সহজ মতামত দিয়েছেন, তার উপর নির্ভর করাও বৈধ নয়। কেননা সুন্নাহ সবার উপরে বিচারক’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ১০/৯৬-৯৭ পৃ.)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘দাড়ি ছাঁটা মানে নবী (ﷺ)-এর আদেশের বিরোধিতা করা, কারণ তিনি বলেছেন, ‘দাড়ি বড় করো’, ‘দাড়ি পূর্ণ করো’, ‘দাড়ি বাড়তে দাও’। অতএব, যে কেউ রাসূল (ﷺ)-এর আদেশ মানতে চাইবে এবং তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করতে চাইবে, সে যেন দাড়ি থেকে কিছুই না কাটে; কেননা রাসূল (ﷺ)-এর হিদায়াত ছিল দাড়ি থেকে কিছুই না কাটা এবং তাঁর আগের নবীদের হিদায়াতও এমনই ছিল’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনে উছাইমীন, ১১/৮২ পৃ.)।

ইবনু ‘উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)  নবী (ﷺ) বলেন, ‘তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবেÑ দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫৮৯২, ৫৮৯৩; ছহীহ মুসলিম, হা/২৫৯)। হাফিয ইবনে হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, وفروا اللحى ‘দাড়ি ঘন করো এবং বাড়তে দাও’ (ফাৎহুল বারী, ১০/৩৫০ পৃ.)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘এই হাদীছের পাঁচটি পৃথক শব্দের রিওয়ায়াত এসেছে, أعفوا (দাড়ি বাড়াও), أوفوا (পূর্ণ করো), أرخوا (ছেড়ে দাও), أرجوا (বাড়তে দাও) এবং وفِّروا (ঘন করো)। এ সকল শব্দের অর্থ একইÑ দাড়িকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে দেয়া। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে পরিস্ফুটিত হল যে, যারা বলে থাকে: ‘দাড়ির দৈর্ঘ্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং পরিচর্যা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা গুরুত্বপূর্ণ’Ñতাদের এই কথা সুন্নাহর বিরোধী। কেননা সুন্নাহ দাড়ি বাড়িয়ে দেয়া ও তা অবিকৃত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সুতরাং মুসলিমের জন্য উভয় বিষয়ই যরূরী: দাড়ি বৃদ্ধি করা এবং তা থেকে কিছু না কাটা, একইসাথে তার যত্ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা। অতএব, যে মুসলিম তার দ্বীনের ব্যাপারে সতর্ক এবং রাসূল (ﷺ)-এর পূর্ণ অনুসরণ কামনা করে, তার উচিত এ ধরনের কথার প্রতি কর্ণপাত না করা, যা শরী‘আতের সুস্পষ্ট দলীলের বিরোধিতা করে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৫৫১২)।


প্রশ্নকারী : মোল্লা, গোপালগঞ্জ।





প্রশ্ন (৪) : আখেরী চাহার শোম্বা কী? শরী‘আতে এর কোন ভিত্তি আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : বর্তমানে ফেসবুকে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়ের মধ্য দিয়ে কূপনের মাধ্যমে লটারী ড্র করে উমরাহ পালন, মোরটসাইকেল, এসি, ফ্রিজসহ আরো অনেক কিছু উপহার দেয়া হয়। এগুলোতে অংশগ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১): শিল্পী ও নর্তকীদের উপার্জন কি হালাল? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : অনেকে জীব-জন্তু বা মানুষের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা ব্যানার তৈরি করেন। উক্ত ব্যানার বা কার্ডের ডিজাইনের কাজ করা কি হালাল হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) :  জনৈক খত্বীব বলেন, জুম‘আর দিন হল গরীবের হজ্জের দিন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম কাকে বস্ত্র পরিধান করানো হবে? কেউ কেউ বলে যে, ‘বস্ত্র পরিধান করেই রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্বিয়ামতের দিন উঠবেন’, একথা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : এক মসজিদের সভাপতি বলেছেন, আমার মসজিদের আশে পাশে সব মানুষ সালাফী নয়। তাই উনি সালাফী, দেওবন্দী, জামা‘আতী সবাইকে দিয়ে খুৎবা দেওয়ান। কেউ দাঁড়িয়ে খুতবাহ দেন, কেউ বসে দেন। সভাপতি বলেন, এটা দাওয়াতের হিকমাহ। এক্ষেত্রে সালাফদের নীতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : পিতা কর্তৃক ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিড থেকে ওয়ারিছসূত্রে প্রাপ্ত টাকা দ্বারা হজ্জ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : প্রচলিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা এবং ভোট দেয়ার সুযোগ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২) : ছিয়াম অবস্থায় শ্বাসকষ্টের কারণে ইনহেইলার গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : যে ব্যক্তি রামাযান মাসের শেষ জুমু‘আয় দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ছালাত আদায় করবে তার ঐ বছরের ছুটে যাওয়া ছালাতের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে। উক্ত বর্ণনা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭) : মক্কায় একদিনের ছিয়াম বাইরের এক লক্ষ ছিয়ামের সমতুল্য। সেখানে এক দেরহাম খরচ করলে এক লক্ষ দেরহামের সমান এবং একটি নেকী করলে এক লক্ষ নেকীর সমান ছওয়াব পাওয়া যায়। বিভিন্ন হাদীছে মসজিদে নববীর ছওয়াব সমজিদে আক্বছার চেয়ে অধিক এসেছে। অথচ এখানে উভয় মসজিদের ছওয়াব পঞ্চাশ হাজার বলা হয়েছে। এর অর্থ করা হয়েছে, প্রত্যেক মসজিদের ছওয়াব পূর্ববর্তী মসজিদ হিসাবে বলা হইয়াছে অর্থাৎ জামে মসজিদের ছওয়াব পাঁচশ’ ছালাত নয়, বরং মহল্লার মসজিদ হতে পাঁচশ’ গুণ বেশী। এই হিসাব মতে জামে মসজিদে বার হাজার পাঁচশ’ (১২৫০০) ছালাতের ছওয়াব। মসজিদে আকছার ছওয়াব বাষট্টি কোটি পঞ্চাশ লক্ষ (৬২৫০০০০০০), মদীনার মসজিদের ছওয়াব তিন নিল বার খর্ব পঞ্চাশ আরব (৩১২৫০০০০০০০০০০) এবং হারাম শরীফের ছওয়াব একত্রিশ শঙ্ঘ পঁচিশ পদ্ম, (৩১২৫০০০০০০০০০০০০০০০) (ফাযায়েলে হজ্জ, পৃ. ৯২)। তাবলীগী নিসাবের ‘ফাযায়েলে হজ্জ’ কিতাবে বর্ণিত উক্ত ফযীলত কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ