উত্তর : এতে কোন বিরোধ নেই। শাইখ ইবনু বায (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, ‘এই আয়াতে ‘চিরকাল’ শব্দটি তাওবা না করা বা হত্যাকে হালাল মনে করা ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য। তবে যদি কোন মুসলিম ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে হত্যা করে এবং সে তাওবা না করে তবুও সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে এমন নয়। আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন, অথবা কঠিন শাস্তি দিয়ে পরে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবন বায, ৭/৩৫৬ পৃ.)। শাইখ ইবনু উছাইমীন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) সূরা নিসা ৯৩ আয়াতের ‘চিরকাল থাকবে’ কথাটির পাঁচটি দিক (وجه) ব্যাখ্যা করেন, যাতে আয়াত ও হাদীছের মাঝে কোন বিরোধ না থাকে। ব্যাখ্যাগুলো হলো:
(ক) এটি কাফেরদের জন্য নির্দিষ্ট। যদি কেউ হত্যা করে এবং একে হালাল মনে করে, তবে সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায়, এমন অবস্থায় সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।
(খ) এটি আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। আয়াতের শাস্তি চূড়ান্ত নয়, বরং আল্লাহ চাইলে শাস্তি দেবেন, চাইলে ক্ষমা করবেন।
(গ) ‘চিরকাল’ মানে দীর্ঘ সময়, অনন্তকাল নয়। আরবীতে خالدًا শব্দটি শুধু চিরকাল নয়, বরং অনেক দীর্ঘ সময় বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়।
(ঘ) আয়াতটি ভয় দেখানোর জন্য। এটি ‘وعيد’ (হুঁশিয়ারি), যাতে মানুষ এমন গোনাহ থেকে দূরে থাকে।
(ঙ) হত্যা কুফুর -এর দিকে ঠেলে দিতে পারে। কিছু মানুষ গোনাহ করতে করতে এমন সীমা অতিক্রম করে, যা তাকে ঈমান হারিয়ে কুফরীতে ফেলে দেয় (তাফসীরে উছাইমীন, সূরা আন-নিসা: ৯৩-এর ব্যাখ্যা দ্র.)।
প্রশ্নকারী : মীম, বাগেরহাট।