উত্তর : মাযহাব চতুষ্টয়ের ঐক্যমতানুযায়ী ‘যে সমস্ত নিকটাত্মীয়ের ভরণ-পোষণের দায়-দায়িত্ব আপনার উপর অপরিহার্য নয়, তাদেরকে যাকাতের অর্থ প্রদান করা বৈধ’ (হাশিয়াতুত্ব ত্বাহত্বাবী, পৃ. ৪৭৩; আল-মাজমূঊ লিন নাবাবী, ৬/২২৯; আল-হাবীউল কাবীর, ৮/৫৩৫; আল-ইনছাফ, ৩/১৮৪; আল-মুগনী, ২/৪৮৩ পৃ.)। সালমান ইবনু আমীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘গরীবদের দান-খায়রাত করা শুধু দান বলেই গণ্য হয়, কিন্তু আত্মীয়-স্বজনকে দান করলে তা দানও হয় এবং আত্মীয়তাও রক্ষা করা হয়’ (তিরমিযী, হা/৬৫৮; ইবনু মাজাহ, হা/১৮৪৪)। এখানে রাসূল (ﷺ) ঘোষণা করেছেন, আত্মীয়-স্বজনকে দান করলে তা ছাদাক্বাও হয় এবং আত্মীয়তাও রক্ষা করা হয় এবং তা নফল ছাদাক্বাহ হতে হবে, এমন কোন শর্তারোপ করা হয়নি। সুতরাং তা ফরয ছাদাক্বাও হতে পারে (আল-আমওয়াল লিল ক্বাসীম বিন সালাম, পৃ. ৬৯৫)। শাইখ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘বাবার ত্বালাক্বপ্রাপ্তা স্ত্রীকে প্রয়োজনে যাকার অর্থ প্রদান করা বৈধ। কেননা বিচ্ছেদের পর তার ভরণ-পোষণের দায়-দায়িত্ব বাবার নয়’ (ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-১৪৬২৪১)।
প্রশ্নকারী : মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম, কানাইঘাট, সিলেট।