রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
উত্তর : প্রথমতঃ আল-হাকাম ইবনু হাযন্ আল-কুলাফী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘আমরা একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়েছিলাম এবং বেশ কয়েকদিন (মদীনাতে) অবস্থান করেছিলাম। এ সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে জুমু‘আর ছালাতও আদায় করেছি। জুমু‘আর খুত্ববায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি লাঠি অথবা ধনুকের উপর ভর দিয়ে কতক হালকা, পবিত্র ও বরকতপূর্ণ কথার মাধ্যমে আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং তাঁর উত্তম ও পবিত্র গুণাবলী বর্ণনা করেন (আবূ দাঊদ, হা/১০৯৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৮৫৬; ইবনু খুযাইমাহ, হা/১৪৫২; ইরওয়াউল গালীল, হা/৬১৬, ৩/৭৮ পৃ.; বাইহাক্বী, হা/৫৯৬০, ৩/২০৬ পৃ. সনদ হাসান)। ইমাম সানা‘আনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, উপরিউক্ত হাদীছ প্রমাণ করে যে, কোন কিছুর উপর ভর দিয়ে জুমু‘আর খুত্ববাহ প্রদান করা মুস্তাহাব (সুবুলুস সালাম, ২/৫৯ পৃ.)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, আল-হাকাম ইবনু হাযন আল-কুলাফী (রাহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত হাদীছ প্রমাণ করে যে, খুত্ববাহতে লাঠি অথবা ধনুকের উপর ভর দেয়া শরী‘আত সম্মত (আশ-শামিল ফী ফিক্বহিল খত্বীব ওয়াল খুত্ববাহ, পৃ. ১৫৫)।

দ্বিতীয়তঃ জমহূর আলেম, মালিকী মাযহাব, শাফিঈ মাযহাব, হাম্বালী মাযহাব ও হানাফী মাযহাবের কিছু আলেমের মতানুযায়ী লাঠি অথবা ধনুকের উপর ভর দিয়ে খুত্ববাহ প্রদান করা মুস্তাহাব (আল-মুগনী, ২/৭৮ পৃ.;, আর-রিসালাহ, পৃ. ৪৭; আশ-শারহুল কাবীর, ১/৩৮২ পৃ.; আল-মুদাউওয়ানাতুল কুবরা, ১/২৩২ ও ১/১৫১ পৃ.; আল-উম্মু, ১/২৭২ পৃ.; আল-মাজমূঊ, ৪/৪৪৭ পৃ; আল-মুহাযযাব, ১/১১২ পৃ.; হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন, ২/১৬৩ পৃ.)। ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইবনু শিহাব বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যখন মিম্বারের উপর দাঁড়াতেন, তখন লাঠির উপর ভর দিতেন। অতঃপর আবূ বরক ছিদ্দীক্ব, ওমর ফারুক, উছমান ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এরূপই করতেন। সুতরাং এখান থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইমামগণের জন্য লাঠির উপর ভর দিয়ে খুত্ববাহ প্রদান করা মুস্তাহাব। আমরা এরূপই করতে দেখেছি ও শুনেছি‌ (আল-মুদাউওয়ানাতুল কুবরা, ১/২৩২ ও ১/১৫১ পৃ.)। ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) আলেমদের ইজমা নকল করে বলেন, ‘খত্বীবের লাঠি অথবা ধনুকের উপর ভর দিয়ে খুত্ববা প্রদান করা ইজমা দ্বারা প্রমাণিত। লাঠি হাতে নেয়ার বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে’ (তাফসীরে কুরতুবী, ১১/১৮৮ পৃ.)।

তৃতীয়তঃ অবশ্য কিছু আলেম মনে করেন যে, হাদীছে বর্ণিত ঘটনাটি মিম্বার তৈরির পূর্বের, পরবর্তীতে তিনি আর লাঠির উপর ভর দেননি। ওয়াল্লাহু আ’লাম (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৭/১০৯-১১০ পৃ.)। ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বার তৈরির পূর্বে লাঠির উপর ভর দিয়ে খুতবাহ প্রদান করতেন। মিম্বার তৈরির পর তিনি লাঠির উপর ভর দিয়েছেন মর্মে কোন তথ্য প্রমাণিত নয়’ (যাদুল মা‘আদ, ১/৪২৯ পৃ.)। শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) উপরিউক্ত বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে খুত্ববাহ প্রদান কালে লাঠির উপর ভর দিয়েছেন মর্মে কোন স্পষ্ট হাদীছ প্রমাণিত নয়’ (সিলসিলা যঈফাহ, ২/৩৮০-৩৮৩ পৃ., হা/৯৬৪)। শায়খ উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন, এর একটি সমাধান হল, ‘প্রয়োজনে লাঠির উপর ভর দেয়া জায়েয। যেমন যদি খত্বীব দুর্বল হয়। আর যদি প্রয়োজন না হয় সেক্ষেত্রে লাঠি নেয়ার দরকার নেই’ (আশ-শারহুল মুমতি’, ৫/৬২-৬৩ পৃ.)।

চতুর্থতঃ সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী মিম্বারের উপর দণ্ডায়মান অবস্থায় লাঠির উপর ভর দিয়ে খুত্ববাহ প্রদান করাটাই শরী‘আতসম্মত। কারণ (১) মিম্বার তৈরি হয়েছে ৫ম হিজরীতে আর আল-হাকাম ইবনু হায্ন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ৮ম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করে মদীনায় আগমন করেন এবং জুমু‘আর দিনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে হাতে লাঠি নিয়ে খুতবাহ দিতে দেখেন (ইতহাফুল কিরাম শরহে বুলূগুল মারাম, পৃ. ১৩২)‌। (২) হাতে লাঠি নিয়ে খুতবাহ দেয়ার হাদীছটি ব্যাপক। আর এটি যে মিম্বার তৈরির পূর্বের ঘটনা এ মর্মে কোন স্পষ্ট দলীল নেই। (৩) মিম্বার তৈরির পর তিনি আর লাঠি নিয়ে খুতবাহ দেননি, এ কথার পক্ষে কোন দলীল নেই। (৪) খুলাফায়ে রাশিদীন ও অন্যান্য ছাহাবীও মিম্বারে দণ্ডায়মান অবস্থায় লাঠির উপর ভর দিয়ে খুত্ববাহ প্রদান করতেন (তারীখে বাগদাদ, ১৪/৩৮ পৃ.)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল হালিম, নাটোর।





প্রশ্ন (৬) : পায়ের লোম অতিরিক্ত বড় হলে কেটে ফেলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : এশার ছালাত কখন আদায় করা উত্তম? আউয়াল ওয়াক্তে, না-কি দেরিতে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : পুরাতন কবরের উপর ঘরবাড়ি করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : জনৈক বক্তা নিম্নের হাদীছটি পেশ করেন, তোমরা বরকতপূর্ণ জয়তুন গাছের তেল ব্যবহার কর এবং ঔষধ হিসাবে ব্যবহার কর।‌ কারণ তা অর্শ রোগের আরোগ্য দানকারী (ত্বাবরাণী হা/১৪১৯৩)। হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কোন জঙ্গলে বা জনবসতিহীন এলাকায় উৎপন্ন ফল বা সবজি খাওয়া হালাল হবে কি? উল্লেখ্য, ফল বা সবজিগুলোর মালিক থাকলেও আসে না, যে কারণে সেগুলো পরিপক্ক হয়ে মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : অনিয়মিত ছালাত আদায়কারীর জানাযার বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১০) : জনৈক খত্বীব বলেছেন যে, খিযির (আলাইহিস সালাম) পানিতে থাকেন। আর মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে যখন তার মা সাগরে ফেলে দেন তখন খিযির (আলাইহিস সালাম) তাকে রক্ষা করেছেন। এটা কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৪) : হজ্জের সফরে গিয়ে একাধিক ওমরা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : জুমু‘আর খুৎবা চলছে। এমতাবস্থায় ইমামের সঙ্গে মুক্তাদীগণ প্রয়োজনীয় কোন কথা বলতে পারে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : ইহরাম বাঁধার পূর্বে কোন মহিলা ঋতুবতী হলে তার বিধান কি হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : আমার নামটি জাপানিজ শব্দের। আমি আমার নাম পরিবর্তন করতে চাই। নাম পরিবর্তন করলে আক্বীক্বা দিতে হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : রাসূল (ﷺ) তাঁর মায়ের কবরের পার্শ্বে গিয়ে আল্লাহর কাছে দু‘আ করলে আল্লাহ তাকে জীবিত করে দেন। অতঃপর রাসূল (ﷺ)-এর উপরে ঈমান আনেন মর্মে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত হাদীছ কি ছহীহ? অনুরূপভাবে নবীজীর ‘পিতা-মাতা’ উভয়ের ঈমান আনার যে বর্ণনা প্রচলিত আছে, সেগুলো ছহীহ কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ