বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
উত্তর : কোন মুসলিমের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত ত্যাগ করা অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ। কুরআন-হাদীছের হুকুম বিশ্লেষণ করে সালাফদের অনেকেই বলেছেন ছালাত পরিত্যাগকারী ব্যক্তি মুসলিম দাবী করতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

مَا سَلَکَکُمۡ  فِیۡ سَقَرَ- قَالُوۡا  لَمۡ  نَکُ مِنَ الۡمُصَلِّیۡنَ

‘তোমাদেরকে কী কারণে সাকার (জাহান্নামে) প্রবেশ করিয়েছে? তারা বলবে, আমরা ছালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না’ (সূরা আল-মুদ্দাছছির : ৪২-৪৩)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ

‘মানুষের মধ্যে এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো ছালাত পরিত্যাগ করা’ (ছহীহ মুসলিম, হা/ ৮২)। অন্যত্র রাসূল (ﷺ) বলেছেন,

الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ

‘আমাদের ও তাদের মধ্যে অঙ্গীকার হলো ছালাত; অতএব যে ছালাত পরিত্যাগ করল, সে কুফর করল’ (তিরমিযী, হা/২৬২১; নাসায়ী, হা/৪৬৩)।

ছালাত ত্যাগকারীর হুকুম

এখানে দু’টি অবস্থা পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে। যথা: প্রথমতঃ কোন ব্যক্তি যদি ছালাতের ফরযিয়ত অস্বীকার করে, অর্থাৎ জেনে-বুঝে বলে যে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত ফরয নয়, তাহলে সে ইসলামের অকাট্যভাবে প্রমাণিত একটি ফরয বিধান অস্বীকার করার কারণে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। এ বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে- যদি তার কাছে বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও সে জেনে-বুঝে অস্বীকার করে। দ্বিতীয়তঃ কোন ব্যক্তি ছালাতের ফরযিয়ত স্বীকার করে, কিন্তু অলসতা, অবহেলা বা প্রবৃত্তির কারণে ছালাত আদায় করে না, তাহলে তার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে। যেমন: ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রসিদ্ধ মত এবং একদল সালাফের মতে ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগকারী কাফির।

উপরিউক্ত ছহীহ হাদীছগুলো তাঁরা এর অন্যতম প্রধান দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। আর অধিকাংশ ফক্বীহ—হানাফী, মালিকী ও শাফেঈ মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতে ছালাতের ফরযিয়াত অস্বীকার না করে অলসতার কারণে ছালাত ত্যাগ করলে সে কাফির হবে না; বরং সে অত্যন্ত বড় গুনাহগার ফাসিক মুসলিম। তবে ছালাত ত্যাগের অপরাধ এতই গুরুতর যে ইসলামী শরী‘আতে তার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর বিধান রয়েছে।

ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) ছহীহ মুসলিমের উক্ত হাদীছের ব্যাখ্যায় ছালাত ত্যাগকারীকে কাফির বলা হবে কি না—এ বিষয়ে আলেমদের এই মতভেদ উল্লেখ করেছেন। সুতরাং ‘যে ছালাত পড়ে না, সে কোনভাবেই নিজেকে মুসলিম বলতে পারবে না’—এ কথাটি সর্বাবস্থায় ও নিঃশর্তভাবে বলা সঠিক নয়। কারণ ছালাতের ফরযিয়ত অস্বীকারকারী এবং ফরযিয়ত স্বীকার করেও অলসতাবশত ছালাত ত্যাগকারী—দুজনের হুকুম এক নয়। তবে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগ করে, তার জন্য বিষয়টি অত্যন্ত ভয়াবহ। কারণ ছহীহ হাদীছে ছালাত ত্যাগকে সরাসরি ‘কুফর’ বলা হয়েছে। তাই কোন মুসলিমের জন্য কখনোই ছালাত পরিত্যাগ করা বা এটিকে সামান্য বিষয় মনে করা বৈধ নয়।


প্রশ্নকারী : সাগর, রংপুর।




প্রশ্ন (১৫) : আমরা অনেকেই সরকারী চাকরী করি। অধিকাংশ মন্ত্রণালয় বিভিন্নভাবে সূদ ও ঘুষের সাথে জড়িত। উক্ত চাকরির বেতন হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : এক ওয়াক্ত ছালাত ক্বাযা করলে এবং পরে পড়ে নিলেও ২ লক্ষ ৮৮ বছর জাহান্নামে থাকতে হবে (ফাযায়েলে নামায, পৃ. ১১৬)। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : ‘আমার পরে কেউ যদি নবী হত, তাহলে ওমরই হত’- বক্তব্যটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : ঝাড়-ফুঁক করা কি শরী‘আতে জায়েয? কুরআনের আয়াত লিখে গলায় ঝুলিয়ে রাখা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০): সাহু সিজদার সঠিক পদ্ধতি কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : জেনে শুনে জর্দা খাওয়া ইমামের পেছনে ছালাত আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির যাকাত ফরয হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর ত্বাওয়াফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : জনৈক ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার কারণে দেউলিয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধের জন্য উক্ত ব্যক্তিকে সহযোগিতা করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৪) : কুরবানী করার সময় কোন্ দু‘আ পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, যে রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর দরূদ পাঠ করে তার জন্য সত্তর জন ফেরেশতা এক হাজার দিন পর্যন্ত নেকী লিখেন। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : ‘যে ব্যক্তি সকালে ও বিকালে সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে সে যেন একশ’টি হজ্জ আদায় করল বা একশ’টি উট আল্লাহর ওয়াস্তে দান করল। যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল সে যেন আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ১০০টি ঘোড়ার পিঠে মুজাহিদ প্রেরণ করলো অথবা আল্লাহর রাস্তায় ১০০ টি গাযওয়া বা অভিযানে শরীক হলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করলো, সে যেন ইসমাঈল বংশের একশ’ ব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করলো। আর যে ব্যক্তি এই দুই সময়ে ১০০ বার করে ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ঐ দিনে তার চেয়ে বেশি আমল আর কেউ করতে পারবে না। তবে যদি কেউ তার সমান এই যিকরগুলো পাঠ করে বা তার চেয়ে বেশি পাঠ করে তাহলে ভিন্ন কথা। (তাহলে সেই শুধু তার উপরে উঠতে পারবে।) ইমাম নাসাঈর বর্ণনায় ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র পরিবর্তে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুআ আলা কুলিল শাইয়্যিন কাদীর’ ১০০ বার পাঠ করার কথা বলা হয়েছে (তিরমিযী, ৫/৫১৩, নং ৩৪৭১; নাসাঈ, আস-সুনানুল কুবরা, ৬/২০৫)। উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছ কি আমলযোগ্য? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ