উত্তর : যদি কেউ অন্যের হক আত্মসাৎ করে থাকে, তাহলে শুধু তওবা করলেই যথেষ্ট হবে না; হকদারের হক ফিরিয়ে দেয়া আবশ্যক। মসজিদ, মাদরাসা বা ইয়াতীমখানায় দান করে দিলেই সেই হক আদায় হয়ে যায় না, যতক্ষণ পর্যন্ত হকদার বা তার উত্তরাধিকারীর কাছে তা পৌঁছানো সম্ভব। আল্লাহ তা’আলা বলেন,
اِنَّ اللّٰہَ یَاۡمُرُکُمۡ اَنۡ تُؤَدُّوا الۡاَمٰنٰتِ اِلٰۤی اَہۡلِہَا
‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন, তোমরা আমানতসমূহ তাদের প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দাও’ (সূরা আন-নিসা: ৫৮)।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,
مَنْ كَانَتْ عِنْدَهُ مَظْلِمَةٌ لِأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ مِنْ شَيْءٍ، فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ، قَبْلَ أَنْ لَا يَكُونَ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمٌ
‘যার কাছে তার কোন মুসলিম ভাইয়ের সম্মান বা সম্পদ-সংক্রান্ত কোন যুল্ম (হক নষ্ট করা) রয়েছে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয় এবং হক আদায় করে দেয়, সেই দিন আসার আগে যেদিন দিরহাম-দিনার কোন কাজে আসবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৯)। যদি হক্বদারকে খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই তার কাছে হক ফিরিয়ে দিতে হবে। লজ্জা বা সংকোচ থাকলে পরিচয় গোপন রেখেও পৌঁছে দেয়া যেতে পারে। আর যদি হক্বদার মারা যান তার ওয়ারিছদের কাছে হক পৌঁছে দিতে হবে; কারণ সম্পদ তাদের অধিকারে চলে গেছে।
যদি হক্বদার বা ওয়ারিছ কাউকেই খুঁজে পাওয়া না যায়। দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও না পাওয়া গেলে, হক্বদারের পক্ষ থেকে ছওয়াবের নিয়তে সমপরিমাণ অর্থ গরীব-মিসকীনকে ছাদাক্বাহ করে দিতে হবে। ভবিষ্যতে যদি হক্বদার বা তার ওয়ারিছকে পাওয়া যায়, তাহলে তাদের জানাতে হবে। তারা চাইলে সেই অর্থ আবার তাদেরকে পরিশোধ করতে হবে; আর যদি তারা ছাদাক্বাকে অনুমোদন করেন, তাহলে সেটিই যথেষ্ট হবে। শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,
فَإِنْ لَمْ يُعْرَفْ صَاحِبُهَا وَأَيسَِ مِنْ مَعْرِفَتِهِ تَصَدَّقَ بِهَا عَنْهُ، وَهَذَا مَذْهَبُ أَحْمَدَ وَغَيْرِهِ مِنَ الْعُلَمَاءِ. فَإِنْ جَاءَ صَاحِبُهَا بَعْدَ ذَلِكَ خُيِّرَ بَيْنَ أَنْ يُجِيزَ الصَّدَقَةَ وَيَكُوْنَ لَهُ أَجْرُهَا، وَبَيْنَ أَنْ يَأْخُذَ مَالَهُ، وَيَكُوْنَ أَجْرُ الصَّدَقَةِ لِلْمُتَصَدِّقِ
‘যদি সম্পদের মালিককে জানানো এবং তাকে খুঁজে পাওয়ার আশা না থাকে, তবে তার পক্ষ থেকে সেই সম্পদ ছাদাক্বাহ করে দেবে। এটি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) ও অন্যান্য আলেমের অভিমত। পরে যদি মালিক এসে যায়, তবে সে চাইলে সেই ছাদাক্বাহকে অনুমোদন করবে এবং এর ছওয়াব পাবে; আর চাইলে নিজের সম্পদ গ্রহণ করবে। তখন ছাদাক্বার ছওয়াব ছাদাক্বাকারীর জন্য হবে’ (মাজমূঊ ফাতাওয়া, ২৯/৩২১-৩২২; ই‘লামুল মুওয়াক্কি‘ঈন, ৪/৩০২-৩০৫)।
প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, কক্সবাজার পতেঙ্গা।