রবিবার, ০৭ Jun ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
উত্তর : এমন প্রত্যেক জিনিস যা মানুষের সুবিধার্থে শুধু কল্যাণকর কাজে ব্যবহৃত হয়, তা উৎপাদন করা নিশ্চিতরূপে বৈধ এবং এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করাও বৈধ হবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তিনি পৃথিবীর সব কিছুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৯)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ ‘যা তোমার জন্য কল্যাণকর তা অর্জনে তুমি আগ্রহী হও’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৬৪; ইবনু মাজাহ, হা/৭৯, ৪১৬৮)। হাঁস, মুরগী ও মাছ এগুলো কল্যাণকর ও বানিজ্যিক সম্পদ। কাজেই এগুলোর বংশ বিস্তার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে যে কোন দোষমুক্ত উন্নতমানের পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। তালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘একদা আমি রাসূল (ﷺ)-এর সাথে খেজুর বৃক্ষের মাথায় দাঁড়ানো একদল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। রাসূল (ﷺ) বললেন, এরা কী করছে? লোকেরা বলল, এরা খেজুর গাছের পরাগায়ণ করছে। নর কেশরের সঙ্গে নারী কেশরের সংযোজন করছে, ফলে তা গর্ভ ধারণ করে। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, আমার মনে হয় না এতে কোন লাভ হয়। রাসূল (ﷺ)-এর এ বক্তব্য ছাহাবীদের নিকট পৌঁছানো মাত্র তারা প্রজনন কর্ম থেকে বিরত থাকলেন। অতঃপর রাসূল (ﷺ)-কে এ সংবাদ দেয়া হল যে, ফলে খেজুর ঝরে পড়ল কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, তার উৎপাদন হ্রাস পেল। তিনি বললেন, এতে যদি তাদের লাভ হয়ে থাকে তবে তারা করুক। আমি তো ধারণাপ্রসূত এ কথা বলেছি। তাই তোমরা আমার অনুমানকে ধরে রেখো না। কিন্তু আমি যদি আল্লাহর তরফ হতে কোন কথা বলি, তবে সেটার উপর আমল কর। কারণ আমি আল্লাহর উপর কখনই মিথ্যা অপবাদ দেই না’ (ছহীহ মুসলিম হা/২৩৬১, ২৩৬২, ২৩৬৩; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯৮৬০৪; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৫৯৯৫; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনু উছাইমীন, ১৭শ খণ্ড, প্রশ্ন নং ৯)।

প্রাণীটি যদি নিজে হারাম না হয় এবং ব্যবহার বৈধ কাজে হয়, তবে তা চাষ ও বেচাকেনা জায়েয। কেঁচো শারীরিকভাবে নাপাক নয় এবং সরাসরি মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় না। বরং বৈধ কাজে ব্যবহার করা হয়। ফিক্বাহবিদরা উল্লেখ করেছেন, ঐ প্রাণী বিক্রি জায়েয যার দ্বারা উপকার পাওয়া যায় এবং তা হারাম কাজে ব্যবহৃত না হয়। সুতরাং, মাছের খাদ্য বা মাটির সার তৈরিতে কেঁচো চাষ ও বিক্রি জায়েয। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যেসব প্রাণীর রক্ত প্রবাহিত হয় না-যেমন: খিরাক্বী (রাহিমাহুল্লাহ) স্থলজ প্রাণীর মধ্যে এবং সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে যেগুলোর উদাহরণ দিয়েছেন, তার মধ্যে আছে জোঁক, কেঁচো, কাঁকড়া ইত্যাদি। এগুলো মৃত্যুর মাধ্যমে নাপাক হয় না এবং এগুলো পানিতে মারা গেলে পানি নাপাক হয় না। এ ব্যাপারে ফক্বীহদের সাধারণ মতামত এক-ই। ইবনুল মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এ বিষয়ে আমি কোন মতভেদ জানি না, শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একটি মত ব্যতীত (আল-মুগনী, ১/৩২-৩৩ পৃ.)। তবে ক্ষতিকর ও অকল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কেননা তা অন্যায় ও পাপাচারে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। ইবনে কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)।  আর সজ্ঞানে কারোর ক্ষতি করা যাবে না। কেননা ইসলামের মূলনীতি হল: لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَار ‘নিজের কোন অনিষ্টতা বা ক্ষতি এবং পরস্পরে কারোর ক্ষতি করা যাবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩৪০-২৩৪১; ছহীহুল জামি‘, হা/৭৫১৭; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৫০)।


প্রশ্নকারী : আনাস আহমাদ, চকবাজার, ঢাকা।





প্রশ্ন (২১) : ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা ভলিবল খেলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : আল্লাহর যেমন হাত, পা, চেহারা আছে, তেমন আল্লাহর রূহু আছে কি? অর্থাৎ এরকম কোন বর্ণনা আছে কুরআন ও হাদীছে আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : জনৈক বক্তা বলেছেন, দাজ্জাল ‘জেরুজালেম’ থেকে বের হবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৩) : তাওহীদ ৩ প্রকার। তাওহীদে রুবূবিয়্যাহ, উলূহিয়্যাহ, আসমা ওয়াছ ছিফাত। এভাবে তাওহীদের প্রকার করা ও এই নামগুলো কখন থেকে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৭): যাকাতুল ফিতর কখন আদায় করতে হয়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : বউ-শাশুড়ীর মাঝে পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ লাগলে মীমাংসার জন্য স্বামী যদি কৌশলে মায়ের সাথে স্ত্রীর নামে মিথ্যা কথা বলে এবং স্ত্রীর সাথে মায়ের নামে মিথ্যা কথা বলে, তাহলে বৈধ হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : কুড়িয়ে পাওয়া সম্পদের ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : নানীর আপন ভাইয়ের মেয়ে মাহরাম, না-কি গায়রে মাহরাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪৯) : আযানের পূর্বে ‘বিসমিল্ল­াহ’ বলা, কুরআনের আয়াত পড়া, ইসলামী গযল বলা, বিভিন্ন দু‘আ পড়া, মানুষকে ডাকাডাকি করা, ফজরের আযানের পূর্বে ‘আছ-ছালাতু খায়রুম মিনান্নাঊম’ বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : যদি কোন ব্যক্তি কোন পাপ করে এবং সেই মুহূর্তে মনে করে বা অনুভব করে যে ‘এতে কোন দোষ নেই’, কিন্তু পরে বুঝতে পারে ও স্বীকার করে যে এটি আসলে পাপ ছিল- তাহলে এটি কি কুফরি হিসাবে গণ্য হবে? এবং এমন অবস্থার জন্য কীভাবে তাওবা (অনুতাপ) করতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : মিশকাতের ২৯৯০ নং হাদীছ অনুযায়ী বুঝা যায় যে, কুরআন পড়িয়ে টাকা নেয়া হারাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অথবা ছাহাবীগণ কি কুরআন পড়িয়ে হাদিয়া নিতেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : কোন জঙ্গলে বা জনবসতিহীন এলাকায় উৎপন্ন ফল বা সবজি খাওয়া হালাল হবে কি? উল্লেখ্য, ফল বা সবজিগুলোর মালিক থাকলেও আসে না, যে কারণে সেগুলো পরিপক্ক হয়ে মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ