রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
উত্তর : এমন প্রত্যেক জিনিস যা মানুষের সুবিধার্থে শুধু কল্যাণকর কাজে ব্যবহৃত হয়, তা উৎপাদন করা নিশ্চিতরূপে বৈধ এবং এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করাও বৈধ হবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তিনি পৃথিবীর সব কিছুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৯)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ ‘যা তোমার জন্য কল্যাণকর তা অর্জনে তুমি আগ্রহী হও’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৬৪; ইবনু মাজাহ, হা/৭৯, ৪১৬৮)। হাঁস, মুরগী ও মাছ এগুলো কল্যাণকর ও বানিজ্যিক সম্পদ। কাজেই এগুলোর বংশ বিস্তার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে যে কোন দোষমুক্ত উন্নতমানের পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। তালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘একদা আমি রাসূল (ﷺ)-এর সাথে খেজুর বৃক্ষের মাথায় দাঁড়ানো একদল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। রাসূল (ﷺ) বললেন, এরা কী করছে? লোকেরা বলল, এরা খেজুর গাছের পরাগায়ণ করছে। নর কেশরের সঙ্গে নারী কেশরের সংযোজন করছে, ফলে তা গর্ভ ধারণ করে। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, আমার মনে হয় না এতে কোন লাভ হয়। রাসূল (ﷺ)-এর এ বক্তব্য ছাহাবীদের নিকট পৌঁছানো মাত্র তারা প্রজনন কর্ম থেকে বিরত থাকলেন। অতঃপর রাসূল (ﷺ)-কে এ সংবাদ দেয়া হল যে, ফলে খেজুর ঝরে পড়ল কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, তার উৎপাদন হ্রাস পেল। তিনি বললেন, এতে যদি তাদের লাভ হয়ে থাকে তবে তারা করুক। আমি তো ধারণাপ্রসূত এ কথা বলেছি। তাই তোমরা আমার অনুমানকে ধরে রেখো না। কিন্তু আমি যদি আল্লাহর তরফ হতে কোন কথা বলি, তবে সেটার উপর আমল কর। কারণ আমি আল্লাহর উপর কখনই মিথ্যা অপবাদ দেই না’ (ছহীহ মুসলিম হা/২৩৬১, ২৩৬২, ২৩৬৩; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯৮৬০৪; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৫৯৯৫; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনু উছাইমীন, ১৭শ খণ্ড, প্রশ্ন নং ৯)।

প্রাণীটি যদি নিজে হারাম না হয় এবং ব্যবহার বৈধ কাজে হয়, তবে তা চাষ ও বেচাকেনা জায়েয। কেঁচো শারীরিকভাবে নাপাক নয় এবং সরাসরি মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় না। বরং বৈধ কাজে ব্যবহার করা হয়। ফিক্বাহবিদরা উল্লেখ করেছেন, ঐ প্রাণী বিক্রি জায়েয যার দ্বারা উপকার পাওয়া যায় এবং তা হারাম কাজে ব্যবহৃত না হয়। সুতরাং, মাছের খাদ্য বা মাটির সার তৈরিতে কেঁচো চাষ ও বিক্রি জায়েয। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যেসব প্রাণীর রক্ত প্রবাহিত হয় না-যেমন: খিরাক্বী (রাহিমাহুল্লাহ) স্থলজ প্রাণীর মধ্যে এবং সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে যেগুলোর উদাহরণ দিয়েছেন, তার মধ্যে আছে জোঁক, কেঁচো, কাঁকড়া ইত্যাদি। এগুলো মৃত্যুর মাধ্যমে নাপাক হয় না এবং এগুলো পানিতে মারা গেলে পানি নাপাক হয় না। এ ব্যাপারে ফক্বীহদের সাধারণ মতামত এক-ই। ইবনুল মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এ বিষয়ে আমি কোন মতভেদ জানি না, শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একটি মত ব্যতীত (আল-মুগনী, ১/৩২-৩৩ পৃ.)। তবে ক্ষতিকর ও অকল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কেননা তা অন্যায় ও পাপাচারে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। ইবনে কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)।  আর সজ্ঞানে কারোর ক্ষতি করা যাবে না। কেননা ইসলামের মূলনীতি হল: لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَار ‘নিজের কোন অনিষ্টতা বা ক্ষতি এবং পরস্পরে কারোর ক্ষতি করা যাবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩৪০-২৩৪১; ছহীহুল জামি‘, হা/৭৫১৭; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৫০)।


প্রশ্নকারী : আনাস আহমাদ, চকবাজার, ঢাকা।





প্রশ্ন (১৩) : কোন কারণে গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেলে এবং সিজারের মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ট হলে ঐ মহিলাদ্বয়ের ইদ্দতকাল কতদিন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ক্বিয়ামতের মাঠে কুরবানীর পশুর লোম, শিং ও ক্ষুর  উপস্থিত হবে। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১২): ইনসূরেন্স কোম্পানিতে ১২ বছরের জন্য টাকা রাখা আছে এবং ফিক্সড ডিপোজিটও করা আছে। এগুলো হারাম জানার পর এখন আর চলমান থাকবে না। কিন্তু মূলধন এখন তোলা যাবে না, কয়েক বছর পর তোলা যাবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- প্রতি বছরই কি ঐ টাকার যাকাত দিতে হবে, না- টাকা হাতে আসার পর যাকাত দিতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : বাংলাদেশে কি কোন ছাহাবী এসেছিলেন? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : আমি আগে হানাফী মাযহাবের অনুসারী ছিলাম। কয়েক বছর থেকে আহলেহাদীছের মাসলাক অনুসরণ করে থাকি আলহামদুলিল্লাহ। আগে থেকেই আমার বাসায় অনেক বিদ‘আতী কিতাব আছে। যেমন বেহেস্তি জেওর, নেয়ামুল কোরআন, ফাজায়েলে আমল ইত্যাদি ইত্যাদি রয়েছে। এখন এগুলো পুড়িয়ে ফেলা বা নষ্ট করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২১) : জনৈক ইমাম তাবীযের ব্যবসা করে, জর্দা খায়, মিথ্যা কথা বলে এবং কুরআন ও ছহীহ হাদীছ ভিত্তিক ঈমান ও আমলকে ফিতনা মনে করে বিরোধিতা করে। উক্ত ইমাম দ্বিতীয় বিবাহের পর তন্ত্রমন্ত্র করে প্রথম স্ত্রীকে মেরে ফেলার জন্য হিন্দু গণকের কাছেও গিয়েছিল। এমন ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করা কিংবা তার ইমামতির বৈধতা আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : কোন ব্যক্তি মারা গেলে সাথে সাথে কবর খনন করা হয়। আর দাফন করতে দেরী হলে কবরটিকে বসে বসে পাহারা দেয়া হয়। এর কারণ কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৩) : ‘তুমি বিলম্বে সাক্ষাৎ কর, ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ইসলামী শরী‘আতের আলোকে পানি কয় প্রকার ও কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : রামাযান মাসে ওমরাহ করলে হজ্জের নেকী পাওয়া যায়। এই বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রুকইয়া করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৬) : নানীর আপন ভাইয়ের মেয়ে মাহরাম, না-কি গায়রে মাহরাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ