শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
উত্তর : এমন প্রত্যেক জিনিস যা মানুষের সুবিধার্থে শুধু কল্যাণকর কাজে ব্যবহৃত হয়, তা উৎপাদন করা নিশ্চিতরূপে বৈধ এবং এর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করাও বৈধ হবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তিনি পৃথিবীর সব কিছুই তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৯)। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ ‘যা তোমার জন্য কল্যাণকর তা অর্জনে তুমি আগ্রহী হও’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৬৬৪; ইবনু মাজাহ, হা/৭৯, ৪১৬৮)। হাঁস, মুরগী ও মাছ এগুলো কল্যাণকর ও বানিজ্যিক সম্পদ। কাজেই এগুলোর বংশ বিস্তার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে যে কোন দোষমুক্ত উন্নতমানের পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। তালহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘একদা আমি রাসূল (ﷺ)-এর সাথে খেজুর বৃক্ষের মাথায় দাঁড়ানো একদল লোকের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। রাসূল (ﷺ) বললেন, এরা কী করছে? লোকেরা বলল, এরা খেজুর গাছের পরাগায়ণ করছে। নর কেশরের সঙ্গে নারী কেশরের সংযোজন করছে, ফলে তা গর্ভ ধারণ করে। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, আমার মনে হয় না এতে কোন লাভ হয়। রাসূল (ﷺ)-এর এ বক্তব্য ছাহাবীদের নিকট পৌঁছানো মাত্র তারা প্রজনন কর্ম থেকে বিরত থাকলেন। অতঃপর রাসূল (ﷺ)-কে এ সংবাদ দেয়া হল যে, ফলে খেজুর ঝরে পড়ল কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, তার উৎপাদন হ্রাস পেল। তিনি বললেন, এতে যদি তাদের লাভ হয়ে থাকে তবে তারা করুক। আমি তো ধারণাপ্রসূত এ কথা বলেছি। তাই তোমরা আমার অনুমানকে ধরে রেখো না। কিন্তু আমি যদি আল্লাহর তরফ হতে কোন কথা বলি, তবে সেটার উপর আমল কর। কারণ আমি আল্লাহর উপর কখনই মিথ্যা অপবাদ দেই না’ (ছহীহ মুসলিম হা/২৩৬১, ২৩৬২, ২৩৬৩; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৯৮৬০৪; ইসলাম ওয়েব, ফৎওয়া নং-৫৯৯৫; মাজমূঊ ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল ইবনু উছাইমীন, ১৭শ খণ্ড, প্রশ্ন নং ৯)।

প্রাণীটি যদি নিজে হারাম না হয় এবং ব্যবহার বৈধ কাজে হয়, তবে তা চাষ ও বেচাকেনা জায়েয। কেঁচো শারীরিকভাবে নাপাক নয় এবং সরাসরি মানুষের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় না। বরং বৈধ কাজে ব্যবহার করা হয়। ফিক্বাহবিদরা উল্লেখ করেছেন, ঐ প্রাণী বিক্রি জায়েয যার দ্বারা উপকার পাওয়া যায় এবং তা হারাম কাজে ব্যবহৃত না হয়। সুতরাং, মাছের খাদ্য বা মাটির সার তৈরিতে কেঁচো চাষ ও বিক্রি জায়েয। ইমাম ইবনু কুদামাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যেসব প্রাণীর রক্ত প্রবাহিত হয় না-যেমন: খিরাক্বী (রাহিমাহুল্লাহ) স্থলজ প্রাণীর মধ্যে এবং সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে যেগুলোর উদাহরণ দিয়েছেন, তার মধ্যে আছে জোঁক, কেঁচো, কাঁকড়া ইত্যাদি। এগুলো মৃত্যুর মাধ্যমে নাপাক হয় না এবং এগুলো পানিতে মারা গেলে পানি নাপাক হয় না। এ ব্যাপারে ফক্বীহদের সাধারণ মতামত এক-ই। ইবনুল মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, এ বিষয়ে আমি কোন মতভেদ জানি না, শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একটি মত ব্যতীত (আল-মুগনী, ১/৩২-৩৩ পৃ.)। তবে ক্ষতিকর ও অকল্যাণকর কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কেননা তা অন্যায় ও পাপাচারে সহযোগিতা করার অন্তর্ভুক্ত (সূরা আল-মায়িদাহ : ২)। ইবনে কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা মুমিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন’ (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)।  আর সজ্ঞানে কারোর ক্ষতি করা যাবে না। কেননা ইসলামের মূলনীতি হল: لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَار ‘নিজের কোন অনিষ্টতা বা ক্ষতি এবং পরস্পরে কারোর ক্ষতি করা যাবে না’ (ইবনু মাজাহ, হা/২৩৪০-২৩৪১; ছহীহুল জামি‘, হা/৭৫১৭; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৫০)।


প্রশ্নকারী : আনাস আহমাদ, চকবাজার, ঢাকা।





প্রশ্ন (৩১) : ইসলামিক বিধান অনুসারে মৃত মহিলা তার পিতা হতে প্রাপ্ত সম্পত্তির হকদার কি শুধু সন্তানেরা, নাকি তার স্বামীও? যদি স্বামী হকদার হয় এবং পরবর্তীতে বিয়ে করে তবে প্রাপ্ত সে সম্পত্তি কি তার দ্বিতীয় স্ত্রী বা তার সন্তানেরা পাবে? নাকি শুধু তার প্রথম স্ত্রীর সন্তানেরা পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : বক্তব্য বা কথা-বার্তা শেষ করার শারঈ পদ্ধতি কী? যেমন কারো সাথে মোবাইলে কথা বলার সময় সালাম দিয়ে শুরু করা হয়। কিন্তু শেষ করার সময় কী বলতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : আযানের সময় কোন ওয়ায বা কথা বলা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ইসলামের দৃষ্টিতে AI (Artificial Intelligence)-এর ব্যবহার বিধি কীরূপ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৯): বাংলাদেশের অনেক যুবক আমেরিকার বিভিন্ন সার্ভেসাইটে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু তারা বাংলাদেশে বসে আমেরিকার আইপি এড্রেস ব্যবহার করে এবং আমেরিকার নাগরিকের তথ্য ব্যবহার করে কাজ করে। এভাবে ইনকাম হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২) : জনৈক আলেম বলেন, রাতে ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর যে ব্যক্তি নিম্নের দু‘আটি পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদি সে দু‘আ করে, তবে তার দু‘আ কবুল হবে। আর সে যদি উঠে ওযয় করে ছালাত আদায় করে, তাহলে তার ছালাত কবুল হবে। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪২) : সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য ভ্রু প্লাক (pluck) করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : হালাক্বায়ে যিকির কাকে বলে? সম্মিলিত যিকির করা কি জায়েয? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩১) : ‘ইহুদীরা সালাম দেয় আঙ্গুলের ইশারায় আর খ্রিষ্টানরা সালাম দেয় হাতের তালুর ইশারায়’ মর্মে বর্ণিত হাদীছটি কি সহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : জুমু‘আর দিন অনেকে মুছল্লীদের খিচুড়ি খাওয়ায়। এর ফলে মসজিদে অনেক হৈচৈ হয়। মসজিদে এরূপ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : ফজরের আযানের পর মসজিদে গিয়ে সময় থাকলে মসজিদে প্রবেশের ২ রাক‘আত পড়া যাবে কি, না সরাসরি ২ রাক‘আত সুন্নাত পড়তে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : লোকসানের অংশীদার হবে এমন শর্তে কোন ইসলামী ব্যাংকে টাকা রেখে তার লভ্যাংশ খাওয়া যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ