শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
উত্তর : এই নিকৃষ্টতম অপরাধ থেকে আমরা আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাই! আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, ‘আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতাকে, পাপাচারকে ও অসংগত বিদ্রোহকে...’ (সূরা আল-আ‘রাফ: ৩৩)। দুঃখজনক বিষয় হল- ইদানিং আমাদের মুসলিম সমাজে এই ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক পাপ অধিকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নতির নামে অধঃপতন, অগ্রগতির নামে অশ্লীলতা, সভ্যতার নামে অসভ্যতা, সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতি, পরিবর্তনের নামে উন্মুক্ত যৌনচার, শিক্ষার নামে যৌনশিক্ষা, পোশাকের নামে নগ্নতা এ সবই পাশ্চাত্য সভ্যতার অন্ধ অনুকরণের বিষফল। বিজাতীদের দেখাদেখি নির্বোধ মুসলিমরাও অবাধ যৌনাচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।

নিঃসন্দেহে যিনা কাবীরা গুনাহ এবং এর শাস্তিও অত্যধিক ভয়াবহ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ’ (সূরা বানী ইসরাঈল: ৩২)। সামুরা ইবনু জুনদুব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, ‘... অতঃপর আমরা চললাম এবং চুলার মত একটি গর্তের কাছে পৌঁছলাম। আর সেখানে ভয়ঙ্কর রকমের শোরগোলের শব্দ ছিল। তিনি বলেন, আমরা তাতে উঁকি মারলাম, দেখলাম তাতে বেশ কিছু উলঙ্গ নারী ও পুরুষ রয়েছে। আর নিচ থেকে বের হওয়া আগুনের লেলিহান শিখা তাদেরকে স্পর্শ করছে। যখনই লেলিহান শিখা তাদেরকে স্পর্শ করে, তখনই তারা উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করে উঠে। তিনি বলেন, আমি তাদেরকে বললাম, এরা কারা? তারা আমাকে বলল, এ সকল উলঙ্গ নারী-পুরুষ যারা চুলা সদৃশ গর্তের ভিতর আছে তারা হল ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীর দল (ছহীহ বুখারী, হা/৭০৪৭, ২২৭৫)। কোন বিবাহিত পুরুষ ব্যভিচার করলে তার শাস্তি রজম বা মৃত্যুদণ্ড (ছহীহ বুখারী, হা/৫২৭০-৫২৭১, ৬৮২৫; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৯১)। কোন অবিবাহিত পুরুষ ব্যভিচার করলে তার শাস্তি একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন (সূরা আন-নূর: ২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৬৯০; আবূ দাঊদ, হা/৪৪১৫; তিরমিযী, হা/১৪৩৪)

কিন্তু ইসলামী শাসকের অনুমতি ব্যতীত কোন পাপের শাস্তি স্বরূপ কাউকে হত্যা করা নিষিদ্ধ। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি সহ অন্যান্য আলেম বলেন, ‘হাদ্দ (মৃত্যুদণ্ড, সাজা, শাস্তি) প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়টি মুসলিম ইমাম, সুলতান, শাসক অথবা তার স্থলাভিসিক্ত বা প্রতিনিধির উপর নির্ভরশীল। কারণ, এর ফলে যে বিশৃঙ্খলা, গোলযোগ, অস্থিরতা, অরাজকতা, নৈরাজ্য ও অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হবে তাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কোন ব্যক্তি বা সমাজের নেয়’  (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ২২/৫-১০; কিতাবুল উম্ম, ৬/১৫৪; মাজমূঊ ফাতাওয়া ইবনে বায, ৯/৩০৩ পৃ.; লিক্বাউল-বাব আল-মাফতূহ, লিক্বা নং-৩১)

যেহেতু আমাদের দেশে ইসলামী শাসক নেয় তাই ব্যক্তিগতভাবে বা সামাজিকভাবে হাদ্দ (মৃত্যুদণ্ড, সাজা, শাস্তি) প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভবপর নয়। এক্ষেত্রে গুনাহগার ব্যক্তি দুনিয়াবী তুচ্ছ শাস্তি থেকে পরিত্রাণ পেয়ে গেলেও কিন্তু পরকালের ভয়াবহ শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। তাই পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি প্রাপ্তির জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট কঠোরভাবে তাওবাহ ও ক্ষমাপ্রার্থনা করা উচিত। যে ব্যক্তি খাঁটি ও পবিত্র অন্তরে একনিষ্ঠ ও একাগ্রতার সহিত বিশুদ্ধ তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ ক্ববুল করেন (সূরা আল-ফুরক্বান: ৬৮-৭০)। অতএব উক্ত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বেশি-বেশি তাওবাহ, ইস্তিগফার, আমলে ছালেহ, ছালাত আদায়, ছাদাক্বাহ ইত্যাদি করতে থাকতে হবে।

আর ধ্বংসাত্মক কু-অভ্যাসের ফাঁদ থেকে মুক্তি পাওয়ার চিকিৎসা স্বরূপ এখানে আপনার প্রতি আমাদের মহা উপদেশ হল :
(১) সর্বপ্রথম আপনি আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করুন। আবূ যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাকে বলেছেন,اتَّقِ اللهَ حَيْثُمَا كُنْتَ وَأَتْبِعِ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ تَمْحُهَا وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ ‘তুমি যেখানেই থাক না কেন আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় কর, মন্দ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ভাল কাজ করতে শুরু কর, তাতে মন্দ দূরীভূত হয়ে যাবে এবং মানুষের সাথে উত্তম আচরণ কর’ (তিরমিযী, হা/১৯৮৭)। ব্যভিচারে অভ্যাসী যুবক ঈমান ও আল্লাহভীতিতে খুবই দুর্বল প্রকৃতির হয়।

(২) নির্জনে, গোপনে ও রাতের অন্ধকারে পাপ করা থেকে বাঁচুন। ছাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, আমি আমার উম্মতের কতক দল সম্পর্কে অবশ্যই জানি যারা ক্বিয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমাল নিয়ে উপস্থিত হবে। মহামহিম আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। ছাওবান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের নিকট বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই। তিনি বলেন,

‏أَمَا إِنَّهُمْ إِخْوَانُكُمْ وَمِنْ جِلْدَتِكُمْ وَيَأْخُذُوْنَ مِنَ اللَّيْلِ كَمَا تَأْخُذُوْنَ وَلَكِنَّهُمْ أَقْوَامٌ إِذَا خَلَوْا بِمَحَارِمِ اللهِ انْتَهَكُوْهَا.‏

‘তারা তোমাদেরই ভ্রাতৃগোষ্ঠী এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতই ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক যে, একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে লিপ্ত হবে’ (ইবনু মাজাহ, হা/৪২৪৫)

(৩) আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন এবং পাপাচারের স্থান থেকে পলায়ন করুন। পাপ থেকে বিরত থাকার জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে (তিরমিযী, হা/৩৫৯১)

(৪) নির্জনতা ও একাকীত্ব থেকে বাঁচুন। বিশেষ করে পূর্বে যৌন-উত্তেজক কোন কিছু নযরে পড়ে থাকলে নির্জনে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, শয়তান আপনাকে সেই দেখা জিনিস বারবার মনে করিয়ে দিবে। সুতরাং সৎ বন্ধু বা দ্বীনি ভাইদের সংস্পর্শে এসে একাকীত্ব দূর করতে হবে। একাকীত্ব দূর করতে কোন খারাপ বন্ধুর কাছে বসা বা রাত্রি যাপন করা যাবে না। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, সাবধান! কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনে মিলিত হলে সেখানে অবশ্যই তৃতীয়জন হিসাবে শইতান অবস্থান করে (এবং পাপাচারে প্ররোচনা দেয়)। তোমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বসবাস কর। বিচ্ছিন্নতা হতে সাবধান থেকো। কেননা, শইতান বিচ্ছিন্নজনের সাথে থাকে এবং সে দু’জন হতে অনেক দূরে অবস্থান করে। যে লোক জান্নাতের মধ্যে সবচাইতে উত্তম জায়গার ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকে (মুসলিম সমাজে)। যার সৎ আমল তাকে আনন্দিত করে এবং অসৎ আমল কষ্ট দেয় সেই হল প্রকৃত ঈমানদার (তিরমিযী, হা/২১৬৫; ইবনু মাজাহ, হা/২৩৬৩; ছহীহুল জামি‘, হা/২৫৪৬)।  

(৫) শরী‘আত মোতাবেক বিয়ে করুন। এই ধ্বংসাত্মক কু-অভ্যাসকে দমন করতে একটি মৌলিক হাতিয়ারের প্রয়োজন, আর তা হল বিবাহ। তখন হালাল উপায়ে কামপ্রবৃত্তি নিবারণ করতে ও প্রাণভরে যৌনসুখ লুটতে কোন বাধা থাকবে না (ছহীহ বুখারী, হা/১৯০৫)।

(৬) যে সমস্ত জিনিস ও কাজ ব্যক্তিকে এই ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক পাপের প্রতি উদ্ধুদ্ধ করে, সে সমস্ত মাধ্যম থেকে বিরত থাকতে হবে। যেমন নোংরা ম্যাগাজিন, পত্র-পত্রিকা, প্রেম-কাহিনীমূলক উপন্যাস, চলচ্চিত্র জগতের মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকাদের উলঙ্গ বা অর্ধ-উলঙ্গ চিত্র। এমন স্থানে ভ্রমণে না যাওয়া যেখানে নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা। যেমন মেলা, সৌখিন বাজার, পার্ক ও সমুদ্র-সৈকতে। নচেৎ এ অভ্যাস ত্যাগ করা সম্ভবপর হবে না (সূরা আল-আন‘আম: ১৫১; সুরা আন-নূর: ১৯, ৩১)

(৭) বিভিন্ন প্রকার ইবাদত ও যিকির-আযকারে নিজেকে ও নিজের অন্তরকে ব্যস্ত রাখতে হবে। সর্বদা কিছু একটা করতে থাকুন, বই-পুস্তক পড়ুন, অর্থসহ কুরআন তিলাওয়াত করুন, কুরআন অথবা ইসলামী বক্তৃতা শুনুন (তিরমিযী, হা/৩৩৭৫)।

(৮) ছিয়াম রাখুন। এই মারাত্মক কু-অভ্যাস থেকে রক্ষা পেতে রাসূল (ﷺ)-এর দেয়া চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, আর তা হল ছিয়াম (ছহীহ বুখারী, হা/১৯০৫)


প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা।





প্রশ্ন (২৯) : আমি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত। আমার প্রতিষ্ঠানের পার্শ্বে একটি ক্যাফিটেরিয়া আছে, যেখানে সরকারীভাবে শুধু ব্যাচেলর সৈনিকদের খাবার খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ খাবার অতিরিক্ত থেকে যায়। নিধার্রিত সময় শেষ হলে ঐ খাবারগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়। নির্ধারিত সময় শেষে ঐ খাবার নিয়ে এসে খেলে হালাল হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : একজন পুরুষ চারটি বিয়ে করতে পারবে। প্রশ্ন হল চারটি বিয়ে করার পর এদের মধ্যে একজন মারা গেলে বা ত্বালাক্ব হলে আবারও বিয়ে করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : যেকোন মসজিদে ই‘তিকাফ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : ছালাতে ক্বিরা‘আতের সময় মাইক ব্যবহার করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : খ্রিষ্টানদের পরিচালিত কলেজে অধ্যয়ন করার কারণে নিয়মানুযায়ী ক্রুশযুক্ত পোশাক পরতে হয়। এই পোশাক পরা কি শরী‘আতসম্মত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : মৃত ব্যক্তিকে গালি-গালাজ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১) : যাওয়ালের ছালাত বলতে কোন্ ছালাতকে বুঝায়? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : যারা ফজরের ফরয ছালাত আদায় করে না ইসলামী শরী‘আতে তাদের হুকুম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : পূর্ববর্তী কিতাবগুলো ছহীফা আকারে নাযিল হয়েছিল। এগুলো কি আল্লাহর কালাম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : এক ব্যক্তি বিবাহ করার পর তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানা গেল যে, ঐ ব্যক্তির স্ত্রী তার দুধ বোন। এখন তাদের দু’জনের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : কেউ সূদী ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে মারা গেলে তার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত কি তার কবরে শাস্তি হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৫) : আমি আমার স্বামীর কাছ থেকে খোলা ত্বালাক্ব নিয়েছি। কারণ সে ছালাত আদায় করে না, ছিয়াম পালন করে না। এ ব্যাপারে তাকে অনেক দিন থেকে নছীহত করা সত্ত্বেও তার কোন পরিবর্তন হয়নি। অথচ আমি ছালাত আদায় করলে, ছিয়াম পালন করলে, কুরআন ও হাদীছ পড়াশোনা করলে অত্যাচার করে। তাই খোলা ত্বালাক্ব নিতে বাধ্য হয়েছি। ১ মাস পার হয়েছে। এখন একজন ছালাত আদায়কারী ছেলে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। আমি তাতে রাজিও আছি কিন্তু আমার পিতা রাজি হচ্ছে না। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ