বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
উত্তর : উক্ত সম্পত্তি ভোগ করা আপনার জন্য দোষনীয় নয়। কেননা আপনি ফুফুদের কম দেয়ার ব্যাপারে সহযোগী বা সাক্ষী ছিলেন না। তবে সন্তান হিসাবে বাবা ও চাচাদের ভুলটা শুধরে নেয়া আপনার দায়িত্ব। যতটুকু বঞ্চিত করা হয়েছে, সেই পরিমাণ টাকা বা সম্পত্তি ফিরিয়ে দেয়া আপনার কর্তব্য। শায়খ ছালিহ আল-মুনাজ্জিদ (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন, ‘এতে কোন সন্দেহ নেয় যে, ক্বিয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজ নিজ পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা কারোর উপর বিন্দুমাত্র যুল্ম করবেন না। আর কেউ অন্য কারোর পাপের বুঝা বহন করবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘প্রত্যেকেই স্বীয় কৃতকর্মের জন্য দায়ী হবে এবং কেউ অন্য কারো ভার বহন করবে না’ (সূরা আল-আন‘আম: ১৬৪)। অন্যত্র বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ’ (সূরা আত-তূর: ২১; সূরা আল-মুদ্দাছছির: ৩৮; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৩১৮৬৯৮)।

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘যে সৎকাজ করে সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই করে এবং কেউ মন্দ কাজ করলে তার প্রতিফল সে-ই ভোগ করবে। আর আপনার রব তাঁর বান্দাদের প্রতি মোটেও যুলুমকারী নন’ (সূরা আল-ফুছছিলাত: ৪৬)। তবে হ্যাঁ, যদি কেউ কাউকে গুনাহের কাজে সহযোগিতা করে, উৎসাহিত করে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বাধা প্রদান না করে, তবে সেও তার গুনাহে অংশীদার হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাক্বওয়ায় পরস্পর সহযোগিতা কর। মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে একে অন্যের সহযোগিতা করো না। আর আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ আযাব প্রদানে কঠোর’ (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যাতে ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এখানে আল্লাহ তা‘আলা মু‘মিন ব্যক্তিদেরকে ভালো কাজে সহযোগিতা করতে আদেশ করেছেন এবং অন্যায়, অসৎ ও হারাম কাজে সাহায্য, সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (তাফসীর ইবনু কাছীর, ২/১২; তাফসীরে কুরতুবী, ৬/৪৬-৪৭ পৃ.)। যেহেতু পাপের কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কোন ভাবেই সাহায্য করা যাবে না, তাই নিজস্ব ভাগের মধ্যে যতটুকু অংশ ফুফুরা পাবেন সেই পরিমাণ টাকা বা সম্পত্তি ফিরিয়ে দেয়াই উত্তম হবে।

দ্বিতীয়তঃ মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয়ে তাওবাহ করার পূর্বে অধিকারীর নিকট তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে অথবা তার থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হবে। কেননা রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রমহানি বা অন্য কোন বিষয়ে যুল্মের জন্য দায়ী থাকে’, (তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে, ‘যে তার কোন ভাইয়ের মান-সম্মান ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে যুল্ম করেছে), সে যেন আজই তার কাছ হতে মাফ করিয়ে নেয়, সেদিন আসার পূর্বে যে দিন তার কোন দ্বীনার বা দিরহাম থাকবে না। যদি সেদিন তার কোন সৎকর্ম থাকে, তাহলে তার যুল্মের পরিমাণ তার থেকে নিয়ে নেয়া হবে, আর যদি তার কোন সৎকর্ম না থাকে, তাহলে মাযলূমের সমপরিমাণ পাপ তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৯, ৬৫৩৪; তিরমিযী, হা/২৪১৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/৯৬১৩; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৮৩০৯৯; ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ১৫/৩৫২ পৃ.)। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘...যদি পাপের সম্পর্ক মানুষের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে তাওবাহ ক্ববুলের জন্য অধিকারীর অধিকার ফিরিয়ে দেয়া শর্ত। যদি অবৈধ পন্থায় কারো মাল বা অন্য কিছু নিয়ে থাকে, তাহলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে’ (রিয়াযুছ ছালিহীন, ‘তাওবাহ’ অনুচ্ছেদ, পৃ. ১৪-২২)। ইমাম ইবনুল ক্বাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘মালিকের অনুমতি ব্যতীত কোন জিনিস নিলে তা ফিরিয়ে দেয়া অপরিহার্য‘ (যাদুল মা‘আদ, ৫/৬৯০ পৃ.)। শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু ছালিহ আল-উছাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কারোর কিছু চুরি করলে, তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলতে হবে যে, আপনার এই মালটা আমার কাছে থেকে গিয়েছিল। অতএব আপনি তা ফেরত নিন এবং দু’জনের মধ্যে সমাধান করে নিতে হবে (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যা, ৪/১৬২; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৮৩০৯৯)।

তৃতীয়তঃ সন্তান হিসাবে আপনার উচিত পিতা-মাতার জন্য বেশি বেশি দু‘আ করা, দান-ছাদাক্বাহ করা, তাদের ভুলভ্রান্তি গুলোকে সংশোধন করা এবং তাদের জন্য তাওবাহ ইস্তিগফার করা। কেননা রাসূল (ﷺ) বলেছেন, إِنَّ الرَّجُلَ لَتُرْفَعُ دَرَجَتُهُ فِي الْجَنَّةِ فَيَقُوْلُ أَنَّى هَذَا فَيُقَالُ بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ ‘জান্নাতে কিছু মানুষের মর্যাদা অবশ্যই বৃদ্ধি করা হবে। সে বলবে, এটা (মর্যাদা বৃদ্ধি) কিভাবে হলো? সুতরাং তাকে বলা হবে, তোমার জন্য তোমার সন্তান-সন্ততিদের মাগফিরাত কামনা করার কারণে’ (ইবনু মাজাহ, হা/৩৬৬০; ইবনু আবী শায়বাহ, হা/২৯৭৪০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০৬১০; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/১৫৯৮; ছহীহুল জামি‘, হা/১৬১৭)।


প্রশ্নকারী : মোঃ আবু তাহের সৈকত, গাবতলি, বগুড়া।





প্রশ্ন (৯) : মেয়েরা হাতে-পায়ে আলতা দিতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৭) : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন আল্লাহ তা‘আলা যমীন সৃষ্টি করলেন তখন তা দুলতে লাগল। অতঃপর পাহাড়গুলো সৃষ্টি করে সেগুলো পৃথিবীর উপর স্থীর করেন। অতঃপর পৃথিবী স্থীর হয়ে গেল। ফেরেশতাগণ পাহাড়ের এ শক্তি দেখে আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পাহাড় অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ; আর সেটা লোহা। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল, হে প্রভু! আপনার সৃষ্টির মধ্যে লোহা অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগুন। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আগুন অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; পানি। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে পানি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; বাতাস। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির মধ্যে বাতাস অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী আর কোন সৃষ্টি আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আদম সন্তান। যে তার ডান হাতে দান করে আর দানকে বাম হাত হতে গোপন রাখে। এ ঘটনাটি কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : বিয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত কী কী? স্বামীর আক্বীদা ছহীহ না হলে বিবাহ দেয়া যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৬) : কোন মুসলিম নামের সাথে prince ব্যবহার করতে পারবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৫) : শুনা যায় যে, সমস্ত পশু পাখির বিচার শেষে তাদের দিয়ে বেহেস্তের মাটি তৈরি করা হবে। এরূপ কথার কি কোন শারঈ ভিত্তি আছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়াদের ব্যাপারে একজন মুমিনের কেমন ধারণা থাকা উচিত? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : ছাদাক্বাহ অর্থ কী? তা কত প্রকার এবং ছাদাক্বাহ পাওয়ার হক্বদার কে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৬) : ছালাতে মাঝে মধ্যে রুকূতে সিজদার তাসবীহ অথবা সিজদাতে রুকূ-র তাসবীহ পড়ে ফেলি। রুকূ‘-সিজদাহ সম্পূর্ণ হওয়ার পর মনে পড়ে আমি ভুল করেছি। এই ক্ষেত্রে করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৮) : কুরআন খতমের পর নিম্নের দু‘আ পড়ার কোন ছহীহ দলীল আছে কি? اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي بالقُرْءَانِ وَاجْعَلهُ لِي إِمَاماً وَنُوراً وَهُدًى وَرَحْمَةً اللَّهُمَّ ذَكِّرْنِي مِنْهُ مَانَسِيتُ وَعَلِّمْنِي مِنْهُ مَاجَهِلْتُ وَارْزُقْنِي تِلاَوَتَهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ وَاجْعَلْهُ لِي حُجَّةً يَارَبَّ العَالَمِينَ - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৮) : ‘আপনাকে প্রেরণের উদ্দেশ্য না হলে আমি বিশ্বমণ্ডল সৃষ্টি করতাম না’ মর্মে প্রচলিত বর্ণনাট কি ছহীহ? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৪) : কারো খাবার হালাল না-কি হারাম এটা যদি জানা না যায়, তাহলে তার খাবার গ্রহণ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : কারো স্বামী যদি ফেসবুক, ইমু, মেসেঞ্জারে অন্য মেয়েদের সাথে চ্যাট করে, প্রেমালাপ করে তবে স্বামীকে ঐ পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য স্ত্রী কী করতে পারে? স্বামীর মনে স্ত্রীর প্রতি প্রচ- ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য বিশেষ কোন আমল আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ