বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
উত্তর : চল্লিশ দিন পূর্বে বা রূহ ফুঁকে দেয়ার পূর্বে ভ্রুণমোচন বা গর্ভপাত করা যাবে কি-না সে ব্যাপারে ফক্বীহগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে অধিকাংশ আলেম বলেন, ‘বিশেষ প্রয়োজনে রূহ ফুঁকে দেয়ার পূর্বে ভ্রুণমোচন বা ভূপাতিতকরণ জায়েয (আল-বাহরুর রায়িক্ব, ৩/২১৫; হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন, ৩/১৭৬; আল-গরারুল বাহিয়্যাহ, ৫/৩৩১; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, ১/১২১; মাত্বালীবু আওলান নূহা, ১/২৬৮ পৃ.)। কেননা এখনো তা জমাটবাঁধা রক্তপিণ্ড অবস্থায় থাকে, আর এই অবস্থায় তাকে সন্তান হিসাবে বিবেচনা করা হয় না (মাত্বালীবু আওলান নূহা, ১/২৬৭ পৃ.; লিক্বাউশ শাহরী, লিক্বা নং-৩৮)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত চল্লিশ দিনের পূর্বেও ভ্রুণ বিনষ্ট করা উচিত নয়। তবে হ্যাঁ, শরী‘আতসম্মত কারণে রূহ ফুঁকে দেয়ার পূর্বে দোষনীয় নয়। যেমন মায়ের জীবনের ঝুঁকি কিংবা ভ্রুণের অসম্পূর্ণতা (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ্ দারব্ ইবনে বায, ২১/৪৩০ পৃ.)। ইবনুল হুমাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোনরূপ আকৃতি তৈরি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বৈধ। আর আকৃতি তৈরি বলতে চার মাস বা ১২০ দিন বুঝানো হয়েছে। কেননা এই সময়েই রূহ ফুঁকে দেয়া হয় (ফাৎহুল ক্বাদীর, ৩/৪০১ পৃ.)। রামলী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘অধিক গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী রূহ ফুঁকে দেয়ার পর তা সম্পূর্ণরূপে হারাম। আর বিশেষ প্রয়োজনে রূহ ফুঁকে দেয়ার পূর্বে জায়েয’ (নিহায়াতুল মুহতাজ, ৮/৪৪৩ পৃ.)।

ফিক্বাহবিদদের মধ্যে কেউ কেউ বৈধ হওয়ার জন্য শর্তারোপ করে বলেন, শরী‘আতসম্মত ওযর ছাড়া বৈধ নয় (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, (২/৫৭ পৃ.)। ‘উচ্চ উলামা পরিষদ’ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, (১) যথাযথ শারঈ কারণ ও নির্ধারিত সীমারেখা ব্যতীত গর্ভস্থিত ভ্রুণ যে ধাপেরই হোক না কেন সেটা নষ্ট করা নাজায়েয। (২) যদি গর্ভস্থিত ভ্রুণটি প্রথম ধাপে থাকে অর্থাৎ প্রথম চল্লিশ দিনের মধ্যে এবং যদি গর্ভপাত করার মধ্যে কোন শারঈ কল্যাণ থাকে কিংবা কোন ক্ষতি রোধকরণ থাকে, তাহলে গর্ভপাত করা জায়েয হবে। পক্ষান্তরে এই সময়সীমার মধ্যে গর্ভপাতের কারণ যদি হয় সন্তানদের প্রতিপালনের কষ্ট কিংবা তাদের জীবিকা ও শিক্ষার ব্যয়ভার বহনের ভয় কিংবা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশংকা কিংবা স্বামী-স্ত্রীর যে কয়জন সন্তান আছে তারাই যথেষ্ট ইত্যাদি, তাহলে গর্ভপাত করা নাজায়েয (আল-ফাতাওয়া আল-জামি‘আহ, ৩/১০৫৫ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আরেমগণ বলেন, ‘নারীর গর্ভস্থিত ভ্রুণকে কোন শারঈ কারণ ব্যতীত গর্ভপাত করা নাজায়েয। যদি গর্ভস্থিত বস্তুটি বির্যের অবস্থায় থাকে, আর তা থাকে চল্লিশদিন বা তার চেয়ে কম সময়ের মধ্যে এবং সেটি ভূপাতিত করার মধ্যে কোন শারঈ কল্যাণ থাকে কিংবা মায়ের উপর থেকে সম্ভাব্য কোন ক্ষতি রোধ করার বিষয় থাকে, তাহলে এমতাবস্থায় সেটি ভূপতিত করা জায়েয। তবে সন্তানদের প্রতিপালনের কষ্ট, তাদের ব্যয়ভার বহন বা প্রতিপালনের অক্ষমতা কিংবা যে কয়জন সন্তান আছে তারাই যথেষ্ট ইত্যাদি অ-শারঈ কারণগুলো এর মধ্যে পড়বে না। আর যদি ভ্রুণের বয়স চল্লিশ দিন পার হয়ে যায় তাহলে সেটি নষ্ট করা হারাম। কেননা চল্লিশ দিন পর সেটি রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়, যা মানবাকৃতির সূচনা। তাই এ স্তরে পৌঁছার পর বিশ্বস্ত কোন ডাক্তার গর্ভধারণ চলমান রাখা মায়ের জীবনের জন্য বিপদজনক এবং চলমান রাখলে মায়ের জীবন বিপন্ন হতে পারে মর্মে সিদ্ধান্ত দেওয়া ব্যতীত সেটি নষ্ট করা জায়েয নয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ২১/৪৫০ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফাতাওয়া নং-১১৫৯৫৪)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল জাব্বার, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (১১) : আমরা বন্ধুরা মিলে এক হোটেলে খাওয়ার পর কম বিল দিতাম আর হোটেল বয়কে ঘুষ দিতাম। বিষয়টি ভুল হয়েছে বুঝার পরে হোটেল মালিকের সাথে কথা বলায় ওনি আমাদের মাফ করে দিয়েছেন। এক্ষণে ঐ পরিমাণ টাকা কি পরিশোধ করতে হবে? না মাফ নেয়াই যথেষ্ট হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩) : একই পশুতে কুরবানী ও আক্বীক্বার নিয়ত করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৫) : সরকারী ভ্যাট বা কর হিসাবে যাকাতের টাকা প্রদান করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ সর্বপ্রথম যে বস্তুটি সৃষ্টি করেছিলেন তা হচ্ছে কলম। অতঃপর তিনি কলমকে বললেন, লিখ। কলম বলল, কী লিখব? আল্লাহ বললেন, কদ্‌র তথা তাক্বদীর সম্পর্কে লিখ। সুতরাং কলম- যা ছিল ও ভবিষ্যতে যা হবে, সবকিছুই লিখে ফেলল (আবূ দাঊদ, হা/৪৭০০; মিশকাত, হা/৯৪)। এ হাদীছ দ্বারা প্রথম সৃষ্টি কোন্টি, তা কিভাবে বুঝব? কারণ প্রথম সৃষ্টি তার আগে যা ছিল তা লিখেছে। সুতরাং প্রথম সৃষ্টি কোনটি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : মুক্তিযুদ্ধের ভাতা সরকার ভাই ও বোনকে সমান করে ভাগ করে দিয়েছে। এখন ভাইকে ২ ভাগ দিতে হবে, না-কি যেমন সরকার করে দিয়েছে তেমনি নিতে পারব? এ ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : একাধিকবার গ্লাসে পানি পান করার সময়, প্রতিবারই কি ‘বিসমিল্লাহ’ এবং শেষে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৮) : পিতা মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও তিনি একটি কালিমাও পারেন না। প্রশ্ন হল-তিনি কি মুসলিম? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪০) : জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, বক্তব্যে অতিরঞ্জিত কথা বলা শয়তানের বমি করার শামিল। উক্ত দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২): পিতা যদি ভুলের উপর থাকেন এবং ছেলে সঠিক হয় তাহলে সন্তানের বিরুদ্ধে পিতার বদদু‘আ কবুল হবে কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৯) : ইসলামী শরী‘আতের আলোকে পানি কয় প্রকার ও কী কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : কিছু মানুষ হারাম কাজে লিপ্ত। যেমন- দাড়ি মুণ্ডন করা, ধূমপান করা, হারামের সাথে জড়িত থাকা ইত্যাদি। যদি এগুলো বর্জন করতে বলা হয় তখন সে বলে, ঈমান ঠিক আছে। দাড়ি লম্বা করা, ধুমপান বর্জন করাই শুধু ঈমান নয়। এ ধরনের লোকের পরিণাম কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আমি যদি বর্তমানে আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ)-এর আদেশ মোতাবেক পর্দা শুরু করি এবং পূর্ববর্তী জীবনধারার জন্য তওবা করার পর মৃত্যুবরণ করি, তাহলে আমার মৃত্যুর পর কোন নন-মাহরাম আমার হিজাব বিহীন ছবি দেখলে কবরের আযাব হবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

ফেসবুক পেজ