শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
উত্তর : চল্লিশ দিন পূর্বে বা রূহ ফুঁকে দেয়ার পূর্বে ভ্রুণমোচন বা গর্ভপাত করা যাবে কি-না সে ব্যাপারে ফক্বীহগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে অধিকাংশ আলেম বলেন, ‘বিশেষ প্রয়োজনে রূহ ফুঁকে দেয়ার পূর্বে ভ্রুণমোচন বা ভূপাতিতকরণ জায়েয (আল-বাহরুর রায়িক্ব, ৩/২১৫; হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন, ৩/১৭৬; আল-গরারুল বাহিয়্যাহ, ৫/৩৩১; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, ১/১২১; মাত্বালীবু আওলান নূহা, ১/২৬৮ পৃ.)। কেননা এখনো তা জমাটবাঁধা রক্তপিণ্ড অবস্থায় থাকে, আর এই অবস্থায় তাকে সন্তান হিসাবে বিবেচনা করা হয় না (মাত্বালীবু আওলান নূহা, ১/২৬৭ পৃ.; লিক্বাউশ শাহরী, লিক্বা নং-৩৮)। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত চল্লিশ দিনের পূর্বেও ভ্রুণ বিনষ্ট করা উচিত নয়। তবে হ্যাঁ, শরী‘আতসম্মত কারণে রূহ ফুঁকে দেয়ার পূর্বে দোষনীয় নয়। যেমন মায়ের জীবনের ঝুঁকি কিংবা ভ্রুণের অসম্পূর্ণতা (ফাতাওয়া নূরুন আলাদ্ দারব্ ইবনে বায, ২১/৪৩০ পৃ.)। ইবনুল হুমাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোনরূপ আকৃতি তৈরি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বৈধ। আর আকৃতি তৈরি বলতে চার মাস বা ১২০ দিন বুঝানো হয়েছে। কেননা এই সময়েই রূহ ফুঁকে দেয়া হয় (ফাৎহুল ক্বাদীর, ৩/৪০১ পৃ.)। রামলী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, ‘অধিক গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী রূহ ফুঁকে দেয়ার পর তা সম্পূর্ণরূপে হারাম। আর বিশেষ প্রয়োজনে রূহ ফুঁকে দেয়ার পূর্বে জায়েয’ (নিহায়াতুল মুহতাজ, ৮/৪৪৩ পৃ.)।

ফিক্বাহবিদদের মধ্যে কেউ কেউ বৈধ হওয়ার জন্য শর্তারোপ করে বলেন, শরী‘আতসম্মত ওযর ছাড়া বৈধ নয় (আল-মাওসূ‘আতুল ফিক্বহিয়্যাহ, (২/৫৭ পৃ.)। ‘উচ্চ উলামা পরিষদ’ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, (১) যথাযথ শারঈ কারণ ও নির্ধারিত সীমারেখা ব্যতীত গর্ভস্থিত ভ্রুণ যে ধাপেরই হোক না কেন সেটা নষ্ট করা নাজায়েয। (২) যদি গর্ভস্থিত ভ্রুণটি প্রথম ধাপে থাকে অর্থাৎ প্রথম চল্লিশ দিনের মধ্যে এবং যদি গর্ভপাত করার মধ্যে কোন শারঈ কল্যাণ থাকে কিংবা কোন ক্ষতি রোধকরণ থাকে, তাহলে গর্ভপাত করা জায়েয হবে। পক্ষান্তরে এই সময়সীমার মধ্যে গর্ভপাতের কারণ যদি হয় সন্তানদের প্রতিপালনের কষ্ট কিংবা তাদের জীবিকা ও শিক্ষার ব্যয়ভার বহনের ভয় কিংবা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশংকা কিংবা স্বামী-স্ত্রীর যে কয়জন সন্তান আছে তারাই যথেষ্ট ইত্যাদি, তাহলে গর্ভপাত করা নাজায়েয (আল-ফাতাওয়া আল-জামি‘আহ, ৩/১০৫৫ পৃ.)। সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটির আরেমগণ বলেন, ‘নারীর গর্ভস্থিত ভ্রুণকে কোন শারঈ কারণ ব্যতীত গর্ভপাত করা নাজায়েয। যদি গর্ভস্থিত বস্তুটি বির্যের অবস্থায় থাকে, আর তা থাকে চল্লিশদিন বা তার চেয়ে কম সময়ের মধ্যে এবং সেটি ভূপাতিত করার মধ্যে কোন শারঈ কল্যাণ থাকে কিংবা মায়ের উপর থেকে সম্ভাব্য কোন ক্ষতি রোধ করার বিষয় থাকে, তাহলে এমতাবস্থায় সেটি ভূপতিত করা জায়েয। তবে সন্তানদের প্রতিপালনের কষ্ট, তাদের ব্যয়ভার বহন বা প্রতিপালনের অক্ষমতা কিংবা যে কয়জন সন্তান আছে তারাই যথেষ্ট ইত্যাদি অ-শারঈ কারণগুলো এর মধ্যে পড়বে না। আর যদি ভ্রুণের বয়স চল্লিশ দিন পার হয়ে যায় তাহলে সেটি নষ্ট করা হারাম। কেননা চল্লিশ দিন পর সেটি রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়, যা মানবাকৃতির সূচনা। তাই এ স্তরে পৌঁছার পর বিশ্বস্ত কোন ডাক্তার গর্ভধারণ চলমান রাখা মায়ের জীবনের জন্য বিপদজনক এবং চলমান রাখলে মায়ের জীবন বিপন্ন হতে পারে মর্মে সিদ্ধান্ত দেওয়া ব্যতীত সেটি নষ্ট করা জায়েয নয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ (ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমা, ২১/৪৫০ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফাতাওয়া নং-১১৫৯৫৪)।


প্রশ্নকারী : আব্দুল জাব্বার, সাতক্ষীরা।





প্রশ্ন (৪২) : ‘তোমরা বেশী বেশী আল্লাহর যিকির কর, যেন লোকেরা পাগল বলে’ (ফাযায়েলে আমল (বাংলা), পৃ. ৩৬৭) মর্মে বর্ণনাটি কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৮) : জনৈক ব্যক্তি বলেন, বড় বড় আলেমকে মাওলানা, হযরত না বলে শায়খ বলতে হবে। তার দাবী কি সঠিক? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৭) : আমি একজন অটো ড্রাইভার। অভাব-অনটনের কারণে বছর খানেক আগে NGO থেকে দুই লাখ টাকা লোন নিয়েছিলাম, যার কিস্তি এখনো চলমান। পরবর্তীতে জানতে পারি যে, সূদ ভিত্তিক লোন দেয়া-নেয়া দুটোই হারাম কাজ। এখন আমি তাওবাহ করতে চাচ্ছি। সেক্ষেত্রে কি লোন শোধ করে তাওবাহ করতে হবে, না-কি কিস্তি চলমান অবস্থায় তাওবাহ করলে হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩০) : প্রচলিত নির্বাচনে অংগ্রহণ করা এবং ভোট দেয়ার সুযোগ আছে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৪) : কোন এলাকার মসজিদে আযান ও ছালাত না হলে সেখানকার মুসলিমদের কী অবস্থা হবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৯) : ইসলামের দৃষ্টিতে বজ্রপাতের ব্যাখ্যা কী এবং এ সময় আমাদের করণীয় কী? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২২) : হজ্জের সময় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করতে হয় কী কারণে? সেখানে কি শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১১) : ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি একটি মসজিদ তৈরি করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করবেন’ মর্মে হাদীছ দ্বারা কি একজন ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে, না-কি সম্মিলিত সকলকে বুঝানো হয়েছে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩২) : কোন ব্যক্তি যদি খেজুর গাছ লাগায়, বীজ বপন করে কিংবা অন্য কিছু লাগায় এবং তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিছগণ এর থেকে উপকৃত হয়; তাহলে কি সে এর প্রতিদান পাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (৩৯) : জীবিত থাকাবস্থায় স্বামী যদি স্ত্রীর মোহরানা পরিশোধ না করে, তাহলে স্ত্রীর মৃত্যুর পর তা পরিশোধ করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (১৩) : আছরের ছালাত ক্বাযা হলে মাগরিব ছালাতের সময় আদায় করা যাবে কি? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ
প্রশ্ন (২৫) : ছালাতের মধ্যে হাসির শব্দ যদি নিজের কানে শুনি কিন্তু অন্য কেউ না শুনে, তাহলে কি উক্ত ছালাত নষ্ট হয়ে যাবে? - ফাতাওয়া বোর্ড, মাসিক আল-ইখলাছ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ