বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন

ইসলামী ব্যবসা ও মুসলিম ব্যবসায়ী

 - মূসা ইবরাহীম ইবনু রঈসুদ্দীন* 


ভূমিকা 

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা মানুষের ইবাদত, আখলাক্ব, সামাজিকতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সহ সবকিছুর জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। ইসলামী অর্থব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো ব্যবসা ও বাণিজ্য। কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তা‘আলা হালাল ব্যবসাকে বৈধ করেছেন এবং সূদকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। আর এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামে ব্যবসা কেবল পার্থিব লাভের মাধ্যম নয়; বরং তা হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায় ও তাক্বওয়ার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি ইবাদতমূলক কার্যক্রম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন’ (সূরা আল-বাক্বারাহ : ২৭৫)। মুসলিম ব্যবসায়ী তাই কেবল একজন লেনদেনকারী নন; বরং তিনি একজন আমানতদার, সত্যবাদী ও আল্লাহভীরু ব্যক্তি, যাঁর ব্যবসা পরিচালিত হয় শরী‘আতের সীমারেখার ভেতরে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী ক্বিয়ামতের দিন নবী, ছিদ্দীক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে’।[১] এই হাদীছ মুসলিম ব্যবসায়ীর মর্যাদা ও দায়িত্ব উভয়কেই স্পষ্ট করে দেয়।

ইসলামী ব্যবসার মূল বৈশিষ্ট্য হলো- ন্যায়সংগত লেনদেন, প্রতারণা ও ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকা, সূদ, ঘুষ ও হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকা এবং পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করা। সালাফে ছালিহীন ও প্রখ্যাত ফক্বীহগণ সর্বদা এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন যে, ব্যবসায় প্রবেশের আগে ব্যবসা-সংক্রান্ত শরয়ী আহকাম জানা ফরযে আইন। এ বিষয়ে ইমাম আহমদ, ইমাম নববী ও ইবনু তাইমিয়া (রাহিমাহুমুল্লাহ) প্রমুখ আলেম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তাহল- যে কাজের মাধ্যমে মানুষ জীবিকা অর্জন করে, সেই কাজের হালাল-হারাম জানা ব্যতীত তাতে লিপ্ত হওয়া বৈধ নয়। অতএব, ‘ইসলামী ব্যবসা ও মুসলিম ব্যবসায়ী’ বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক আলোচনা নয়; বরং এটি আক্বীদা, ফিকহ, আখলাক ও সমাজব্যবস্থার এক সমন্বিত রূপরেখা। বর্তমান সূদনির্ভর ও নৈতিকতাহীন বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যবসার নীতিমালা মুসলিম উম্মাহর জন্য শুধু বিকল্প নয়; বরং কল্যাণ, ইনসাফ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য পথনির্দেশনা। দু‘আ করছি- আল্লাহ তা‘আলা যেন আমাদেরকে দিয়ে পিচ্ছিল এ বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন, সহজ করেন এবং তাওফীক দান করুন।

ব্যবসা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার গুরুত্ব

আল্লাহ তা‘আলা দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন,

فَلَوۡ لَا نَفَرَ مِنۡ کُلِّ فِرۡقَۃٍ مِّنۡہُمۡ طَآئِفَۃٌ  لِّیَتَفَقَّہُوۡا فِی الدِّیۡنِ وَ لِیُنۡذِرُوۡا قَوۡمَہُمۡ اِذَا رَجَعُوۡۤا اِلَیۡہِمۡ لَعَلَّہُمۡ  یَحۡذَرُوۡنَ

‘তাহলে কেন তাদের প্রত্যেক দলের মধ্য থেকে একটি অংশ বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করে এবং তাদের সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এসে তাদেরকে সতর্ক করেÑ যাতে তারা সতর্ক হতে পারে’ (সূরা আত-তাওবাহ : ১২২)। অতএব একজন মুসলিমের জন্য তার ইবাদত ও কর্মজীবনের জন্য যেসব দ্বীনি বিষয় অপরিহার্য, সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক। হাদীছে নবী (ﷺ) বলেছেন, طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরয’।[২]

আলেমগণ বলেছেন, এখানে ‘ফরয জ্ঞান’ বলতে সেই জ্ঞানকে বোঝানো হয়েছে, যার ওপর ইবাদত ও লেনদেনের শুদ্ধতা নির্ভর করে। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ছালাত, ছিয়াম, যাকাত ও হজ্জ সঠিকভাবে আদায়ের পদ্ধতি জানা যরূরী। একইভাবে যে ব্যক্তি কোন পেশা বা কাজে যুক্ত হবে, তার জন্য সেই কাজের মৌলিক বিধানসমূহ জানা আবশ্যকÑ যেগুলো ছাড়া কাজটি শুদ্ধ হয় না। তাই একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য কেনা-বেচার বিধান, রিবা বা সূদ  সম্পর্কিত আহকাম সহ অনুরূপ অন্যান্য বিধান শেখা অবশ্যকর্তব্য, যাতে সে তা থেকে বেঁচে থাকতে পারে। আলেমগণ শারঈ ইলমকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। যথা:

১- ফরযে ‘আইন (فرض عين)

ফরযে আইন দ্বারা উদ্দেশ্য হল- যে জ্ঞান প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মুসলিমের জন্য অর্জন করা আবশ্যক এবং এ বিষয়ে অজ্ঞতার কোন ওযর গ্রহণযোগ্য নয়। এই শ্রেণীর সীমা হল- যে জ্ঞানের ওপর ইবাদত বা লেনদেনের শুদ্ধতা নির্ভর করে। সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য ওযূ ও ছালাতের পদ্ধতি শেখা যরূরী, ছিয়ামের মৌলিক বিধান জানা আবশ্যক, যদি তার কাছে নিছাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে যাকাতের প্রাথমিক বিধান জানা ফরয। আর যদি সে হজ্জ করার সামার্র্থ্য রাখে, তবে হজ্জের মৌলিক বিধানসমূহ শেখাও তার ওপর আবশ্যক। এভাবেই তাকে তার প্রয়োজনীয় লেনদেন সংক্রান্ত বিধানসমূহ শিখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোন ব্যক্তি মানি এক্সচেঞ্জ বা মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবসায় যুক্ত থাকে, তবে তার জন্য ইসলামী শরী‘আতে মুদ্রা বিনিময়ের বিধানসমূহ শেখা অপরিহার্য। অনুরূপভাবে, তার ইবাদত ও লেনদেনের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের প্রয়োজন হয়, সেসব বিষয়ের আহকাম জানা তার জন্য ফরয। ইমাম নববী (৬৩১-৬৭৬ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

فَرْضُ الْعَيْنِ، وَهُوَ تَعَلُّمُ الْمُكَلَّفِ مَا لَا يَتَأَدَّى الْوَاجِبُ الَّذِي تَعَيَّنَ عَلَيْهِ فِعْلُهُ إِلَّا بِهِ، كَكَيْفِيَّةِ الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ وَنَحْوِهِمَا.

وَعَلَيْهِ حَمَلَ جَمَاعَاتٌ الْحَدِيثَ الْمَرْوِيَّ فِي مُسْنَدِ أَبِي يَعْلَى الْمَوْصِلِيِّ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ 

‘ফরযে আইন হল- মুকাল্লাফ ব্যক্তির সেই জ্ঞান শিক্ষা করা, যার মাধ্যমে ছাড়া তার ওপর নির্ধারিত ফরয আদায় করা সম্ভব হয় না; যেমন ওযূ ও ছালাতের পদ্ধতি ইত্যাদি। এ অর্থেই আবূ ই‘য়ালা আল-মাওসিলীর ‘মুসনাদ’-এ আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে নবী (ﷺ)-এর বর্ণিত হাদীছ, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরয’-কে বহু মুহাদ্দিছ প্রয়োগ করেছেন’।[৩]

ইবনু আবিদীন (১১৯৮-১২৫২ হি./১৭৮৪-১৮৩৬ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘হাশিয়া’-তে আল্লামী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ‘ফুসূল’ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করে বলেন,

مِنْ فَرَائِضِ الْإِسْلَامِ تَعَلُّمُهُ مَا يَحْتَاجُ إلَيْهِ الْعَبْدُ فِي إقَامَةِ دِينِهِ وَإِخْلَاصِ عَمَلِهِ لِلَّهِ تَعَالَى وَمُعَاشَرَةِ عِبَادِهِ. وَفَرْضٌ عَلَى كُلِّ مُكَلَّفٍ وَمُكَلَّفَةٍ بَعْدَ تَعَلُّمِهِ عِلْمَ الدِّينِ وَالْهِدَايَةِ تَعَلُّمُ عِلْمِ الْوُضُوءِ وَالْغُسْلِ وَالصَّلَاةِ وَالصَّوْمِ، وَعِلْمِ الزَّكَاةِ لِمَنْ لَهُ نِصَابٌ، وَالْحَجِّ لِمَنْ وَجَبَ عَلَيْهِ وَالْبُيُوعِ عَلَى التُّجَّارِ لِيَحْتَرِزُوا عَنْ الشُّبُهَاتِ وَالْمَكْرُوهَاتِ فِي سَائِرِ الْمُعَامَلَاتِ. وَكَذَا أَهْلُ الْحِرَفِ، وَكُلُّ مَنْ اشْتَغَلَ بِشَيْءٍ يُفْرَضُ عَلَيْهِ عِلْمُهُ وَحُكْمُهُ لِيَمْتَنِعَ عَنْ الْحَرَامِ فِيهِ

‘ইসলামের ফরযসমূহের অন্তর্ভুক্ত হল- বান্দার জন্য তার দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা, আল্লাহ তা‘আলার জন্য ইখলাছের সঙ্গে আমল করা এবং তাঁর বান্দাদের সঙ্গে সঠিকভাবে আচরণ করার জন্য যতটুকু জ্ঞান প্রয়োজন, তা অর্জন করা। প্রত্যেক দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরুষ ও নারীর ওপর দ্বীন ও হিদায়াতের মৌলিক জ্ঞান শেখার পর, ওযূ, গোসল, ছালাত ও ছিয়ামের জ্ঞান অর্জন করা ফরয। যার কাছে নিছাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তার জন্য যাকাতের জ্ঞান শেখা ফরয; যার ওপর হজ্জ ফরয হয়েছে, তার জন্য হজ্জের জ্ঞান শেখা ফরয; আর ব্যবসায়ীদের জন্য ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান শেখা ফরয, যাতে তারা সকল লেনদেনে সন্দেহযুক্ত ও মাকরূহ বিষয় থেকে বেঁচে থাকতে পারে। একইভাবে কারিগর ও পেশাজীবীসহ যে ব্যক্তি যে কাজে নিয়োজিত, তার জন্য সেই কাজের বিধান ও হুকুম জানা ফরয, যাতে সে ঐ কাজে হারাম থেকে বিরত থাকতে পারে’।[৪]

২- ফরযে কিফায়া  (فرض الكفاية)

ফরযে কিফায়া হল- যে জ্ঞান বা কাজ যদি কিছু লোক সম্পাদন করে, তবে তা দ্বারা সবার পক্ষ থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায় এবং অবশিষ্টদের থেকে গুনাহ রহিত হয়। ইমাম নববী (৬৩১-৬৭৬ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) এটির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন:

وَهُوَ تَحْصِيلُ مَا لَا بُدَّ لِلنَّاسِ مِنْهُ فِي إقَامَةِ دِينِهِمْ مِنْ الْعُلُومِ الشَّرْعِيَّةِ كَحِفْظِ الْقُرْآنِ وَالْأَحَادِيثِ وَعُلُومِهِمَا وَالْأُصُولِ وَالْفِقْهِ وَالنَّحْوِ وَاللُّغَةِ وَالتَّصْرِيفِ: وَمَعْرِفَةِ رُوَاةِ الْحَدِيثِ وَالْإِجْمَاعِ وَالْخِلَافِ: وَأَمَّا مَا لَيْسَ عِلْمًا شَرْعِيًّا وَيُحْتَاجُ إلَيْهِ فِي قِوَامِ أَمْرِ الدُّنْيَا كَالطِّبِّ وَالْحِسَابِ فَفَرْضُ كِفَايَةٍ أَيْضًا

‘ফরযে কিফায়া হল- এমন পরিমাণ শরয়ী জ্ঞান অর্জন করা, যা মানুষের জন্য তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অপরিহার্য; যেমন কুরআন হিফয করা, হাদীছ ও তার শাস্ত্রসমূহ, উছূল, ফিকহ, নাহু, ভাষা ও ছরফ, হাদীছ বর্ণনাকারীদের পরিচিতি, ইজমা‘ ও মতভেদের জ্ঞান। আর যে বিষয়গুলো শরয়ী জ্ঞান নয়, কিন্তু দুনিয়াবী জীবন পরিচালনার জন্য অপরিহার্য, যেমন চিকিৎসা ও হিসাববিদ্যা. তাও ফরযে কিফায়া’।[৫]

৩- নফল (النفل)

এটি হলো শরয়ী জ্ঞান অর্জনে অতিরিক্ত বিস্তৃতি ও গভীরতা লাভ করা; অর্থাৎ ফরয ও কিফায়ার অতিরিক্ত যে জ্ঞান অর্জন করা হয়, তা নফল হিসেবে গণ্য।

উক্ত আলোচনা দ্বারা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিধান শেখা ফরযে আইন। কারণ তাদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের শুদ্ধতা এই জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। এ প্রসঙ্গে ইমাম নববী (৬৩১-৬৭৬ হি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘শরয়ী জ্ঞানের প্রকার তিনটি। প্রথমটি ফরযে আইন। অর্থাৎ মুকাল্লাফ ব্যক্তির সেই জ্ঞান শিক্ষা করা, যার মাধ্যমে ছাড়া তার ওপর নির্ধারিত ফরয আদায় করা সম্ভব হয় না’। তিনি আরো বলেন, ‘আর ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ ইত্যাদি যেসব বিষয়ের মূল কাজ করা ফরয নয়, সে সম্পর্কে ইমামুল হারামাইন, গাযযালী (রাহিমাহুমুল্লাহ) প্রমুখ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এগুলো করতে চায়, তার জন্য এর পদ্ধতি ও শর্তসমূহ জানা অবশ্যকর্তব্য’। আর কেউ বলেছেন, ‘অবশ্যক’ বলা হবে না; বরং বলা হবে, শর্তাবলি জানা ছাড়া এতে প্রবেশ করা হারাম। এই কথাটিই অধিক ছহীহ। তাদের বক্তব্যকেও এ অর্থেই গ্রহণ করা হবে’।[৬]

এ প্রসঙ্গে ইমাম গাযযালী (৪৫০-৫০৫ হি./১০৫৮-১১১১ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘জেনে রাখো- এই অধ্যায়ের (ব্যবসা ও লেনদেনের বিধান) জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক উপার্জনকারী মুসলিমের জন্য আবশ্যক। কারণ জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরয; আর এখানে উদ্দেশ্য হল সেই জ্ঞান, যার প্রয়োজন রয়েছে। উপার্জনকারীর প্রয়োজন হলো উপার্জনের জ্ঞান। যখন সে এই অধ্যায়ের জ্ঞান অর্জন করে, তখন সে লেনদেনের দুর্নীতিসমূহ (মুফসিদাতুল মু‘আমালাত) সম্পর্কে অবগত হয় এবং সেগুলো থেকে আত্মরক্ষা করতে পারে। আর যেসব জটিল ও ব্যতিক্রমী শাখাগত বিষয় রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে সে জটিলতার কারণ বুঝতে পারে এবং সেগুলোতে স্থির থাকে, যতক্ষণ না সে জিজ্ঞাসা করে। কেননা যদি কেউ লেনদেনের নষ্টকারী কারণগুলো সামগ্রিকভাবে না জানে, তবে সে কখন থেমে যাবে এবং কখন জিজ্ঞাসা করবে, তা-ই বা কীভাবে বুঝবে? আর যদি সে বলে, ‘আমি আগে শিখব না; বরং অপেক্ষা করব, যখন কোনো ঘটনা আমার সামনে ঘটবে, তখন শিখব ও ফৎওয়া নেব’। তাকে বলা হবে, তুমি কীভাবে বুঝবে যে ঘটনাটি ঘটেছে, যদি তুমি চুক্তিসমূহের সামগ্রিক নষ্টকারী বিষয়গুলোই না জানো? তখন সে লেনদেন চালিয়েই যাবে এবং সেগুলোকে ছহীহ ও বৈধ মনে করবে। সুতরাং তার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের এই পরিমাণ জ্ঞান অবশ্যই থাকা দরকার, যাতে তার কাছে হালাল ও হারামের পার্থক্য স্পষ্ট হয়, জটিলতার স্থান ও স্পষ্টতার স্থান পৃথক হয়ে যায়। এই কারণেই ‘উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বাজার পরিদর্শন করতেন এবং কিছু ব্যবসায়ীকে বেত্রাঘাত করতেন। তিনি বলতেন, ‘যে ব্যক্তি ফিকহ জানে না, সে আমাদের বাজারে ব্যবসা করবে না; নতুবা সে চাইলেও না চাইলেও সূদে লিপ্ত হয়ে পড়বে’।[৭]

ইমাম শাওকানী (১১৭৩-১২৫০ হি./১৭৫৯-১৮৩৪ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

اَلتَّفَقُّهُ فِي الدِّيْنِ مَأْمُوْرٌ بِهِ فِيْ كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَفِيْ صَحِيْحِ الْأَخْبَارِ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ، وَلَيْسَ ذٰلِكَ بِخَاصٍّ بِنَوْعٍ مِنْ أَنْوَاعِ الدِّيْنِ، بَلْ فِيْ كُلِّ أَنْوَاعِهِ، فَيَنْدَرِجُ تَفَقُّهُ التَّاجِرِ لِلتِّجَارَةِ تَحْتَ الْأَدِلَّةِ الْعَامَّةِ، وَلَا شَكَّ أَنَّ أَنْوَاعَ الدِّيْنِ تَخْتَلِفُ بِاخْتِلَافِ الأَشْخَاصِ دُوْنَ بَعْضٍ، فَمَثَلًا التَّاجِرُ المُبَاشِرُ لِلْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ أَحْوَجُ لِمَعْرِفَةِ مَا يَرْجِعُ إِلَى مَا يُلَابِسُهُ مِنْ غَيْرِهِ مِمَّنْ لَا يُلَابِسُ الْبَيْعَ إِلَّا نَادِرًا

‘দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করার নির্দেশ আল্লাহ তা‘আলার কিতাবে এসেছে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে ছহীহ বর্ণনাসমূহেও তা প্রমাণিত। এটি দ্বীনের কোন একটি নির্দিষ্ট শাখার সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দ্বীনের সকল শাখাকেই অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং ব্যবসায়ীর জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের জ্ঞান অর্জন সাধারণ দলীলসমূহের আওতাভুক্ত। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, দ্বীনের প্রকারভেদ মানুষের অবস্থা ভেদে ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যবসায়ী সরাসরি ক্রয়-বিক্রয়ে নিয়োজিত, তার জন্য সে সম্পর্কিত বিধান জানা, তাদের তুলনায় অধিক যরূরী, যারা কেবল খুব কম ক্ষেত্রেই ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়’।[৮]

ইবনু আবিদীন (১১৯৮-১২৫২ হি./১৭৮৪-১৮৩৬ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) ‘তাবয়ীনুল মাহারিম’ গ্রন্থের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন,

لَا شَكَّ فِي فَرْضِيَّةِ عِلْمِ الْفَرَائِضِ الْخَمْسِ وَعِلْمِ الْإِخْلَاصِ؛ لِأَنَّ صِحَّةَ الْعَمَلِ مَوْقُوفَةٌ عَلَيْهِ وَعِلْمِ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ وَعِلْمِ الرِّيَاءِ؛ لِأَنَّ الْعَابِدَ مَحْرُومٌ مِنْ ثَوَابِ عَمَلِهِ بِالرِّيَاءِ، وَعِلْمِ الْحَسَدِ وَالْعُجْبِ إذْ هُمَا يَأْكُلَانِ الْعَمَلَ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ، وَعِلْمِ الْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ وَالنِّكَاحِ وَالطَّلَاقِ لِمَنْ أَرَادَ الدُّخُولَ فِي هَذِهِ الْأَشْيَاءِ وَعِلْمِ الْأَلْفَاظِ الْمُحَرَّمَةِ أَوْ الْمُكَفِّرَةِ

‘পাঁচ ওয়াক্ত ফরয ইবাদতের জ্ঞান এবং ইখলাছের জ্ঞান যে ফরয- এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই; কারণ আমলের শুদ্ধতা এগুলোর ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে হালাল ও হারামের জ্ঞান এবং রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত)-এর জ্ঞান অর্জন করাও ফরয; কেননা রিয়ার কারণে একজন ইবাদতকারী তার আমলের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়াও হিংসা (হাসাদ) ও আত্মমুগ্ধতা (উজব)-এর জ্ঞান অর্জন করাও যরূরী; কারণ এ দু’টি আমলকে এমনভাবে গ্রাস করে ফেলে, যেমন আগুন কাঠকে গ্রাস করে। তদ্রƒপ, যে ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ ও ত্বালাক্বের মধ্যে প্রবেশ করতে চায়, তার জন্য এসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করাও ফরয। একইভাবে হারাম অথবা কুফরী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারে, এমন শব্দ ও বাক্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও আবশ্যক’।[৯]

‘আল-মাওসূ‘আতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘ফিকহ শিক্ষা করা কখনো কখনো মুকাল্লাফ ব্যক্তির ওপর ফরযে আইন হয়ে যায়। যেমন: যে ফরয কাজ তার ওপর নির্ধারিত হয়েছে, তা সঠিকভাবে আদায় করা যে জ্ঞান ছাড়া সম্ভব নয়; উদাহরণস্বরূপ ওযূ, ছালাত, ছিয়াম ইত্যাদির পদ্ধতি জানা। এই অর্থেই কিছু আলেম আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ)-এর হাদীস: ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরয’-কে প্রয়োগ করেছেন। আর ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ এবং অন্যান্য লেনদেন, যেগুলোর মূল কাজ করা ফরয নয়, এসব ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি এগুলো করতে চায়, তার জন্য সেগুলোর বিধান শেখা আবশ্যক; যাতে সে সন্দেহযুক্ত ও মাকরূহ বিষয় থেকে বেঁচে থাকতে পারে। একইভাবে সকল পেশাজীবীর ক্ষেত্রেও এ বিধান প্রযোজ্য। সুতরাং যে কেউ কোন কাজ বা পেশায় নিয়োজিত, তার জন্য সেই কাজ-সম্পর্কিত শরয়ী বিধান জানা অপরিহার্য, যাতে সে হারাম থেকে বিরত থাকতে পারে’।[১০]

অতএব একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান এবং সূদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ শেখা আবশ্যক, যাতে সে সেগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারে এবং অনুরূপ অন্যান্য মৌলিক আহকামও জানা তার জন্য যরূরী। এই দায়িত্বটি ব্যবসায়ে প্রবেশের আগেই আদায় করা উচিত। কারণ ইলম হল পথপ্রদর্শক, আর আমল তার অনুসারী। বিশেষত আমাদের বাজারসমূহে বহু ব্যবসায়ী ও বিক্রেতা সাধারণ মানুষদের মধ্য থেকে, যারা ক্রয়-বিক্রয়ের অধিকাংশ বিধানই জানে না। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ব্যবসায়ীদেরকে ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিতেন। ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, لاَ يَبِعْ فِى سُوقِنَا إِلاَّ مَنْ قَدْ تَفَقَّهَ فِى الدِّينِ ‘আমাদের বাজারে সে ব্যক্তি ব্যতীত কেউ বিক্রয় করবে না, যে দ্বীনের ফিকহ অর্জন করেছে’।[১১] বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় আমীরুল মুমিনীন উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বাজারে যাকে পেতেন অথচ সে ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান জানত না, তাকে শাস্তি দিতেন এবং বলতেন, ‘আমাদের বাজারে সে ব্যক্তি ছাড়া কেউ বিক্রয় করবে না, যে আমাদের দ্বীনের ফিকহ অর্জন করেছে’।[১২] উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্ত বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে শাইখ আহমাদ মুহাম্মদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হ্যাঁ, যাতে সে বুঝতে পারে, কী গ্রহণ করবে আর কী বর্জন করবে; যাতে সে হালাল ও হারাম চিনতে পারে এবং যেন সে মিথ্যা ও বাতিল পন্থার মাধ্যমে মানুষের ক্রয়-বিক্রয় নষ্ট না করে। আর যেন সে এমন পথে সূদ ঢুকিয়ে না দেয়, যা ক্রেতা বুঝতেও না পারে। সারকথা হল- ব্যবসা যেন খাঁটি ও ছহীহ ইসলামী ব্যবসা হয়; এমন ব্যবসা, যার ওপর মুসলিম ও অমুসলিম উভয়েই আস্থা রাখতে পারে; যেখানে কোন প্রতারণা নেই, কোন ধোঁকা নেই’।[১৩] বিখ্যাত তাবেঈ আতা‘ আল-খুরাসানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন,

مجالس الذِّكر مجالس الحلال والحرام، كيف تشتري وتبيع،وتصلي وتصوم، وتنكح وتطلّق وتحجّ وأشباه هذا

‘যিকরের মজলিস হল- হালাল ও হারামের মজলিস; কীভাবে তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে, ছালাত পড়বে, ছিয়াম রাখবে, বিবাহ করবে, ত্বালাক্ব দেবে, হজ্জ করবেএবং এ ধরনের অন্যান্য বিষয়’।[১৪] আর হানাফী ফকীহ ইবনু নুজাইম (৯৭০ হি./১৫৬৩ খ্রি.) (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আল-বাহরুর রায়েক’ গ্রন্থে বলেন,

وَكَانَ التُّجَّارُ فِي الْقَدِيمِ إذَا سَافَرُوا اسْتَصْحَبُوا مَعَهُمْ فَقِيهًا يَرْجِعُونَ إلَيْهِ وَعَنْ أَئِمَّةِ خُوَارِزْمَ أَنَّهُ لَا بُدَّ لِلتَّاجِرِ مِنْ فَقِيهٍ صَدِيقٍ

‘প্রাচীনকালে ব্যবসায়ীরা যখন সফরে বের হত, তখন তারা সঙ্গে একজন ফকীহ রাখত, যার কাছে তারা (সমস্যা হলে) ফিরে যেত। আর খাওয়ারিজমের ইমামগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে, ব্যবসায়ীর জন্য একজন ফকীহ বন্ধু থাকা অপরিহার্য’।[১৫]

অতএব ইসলামে ব্যবসা কেবল জীবিকা অর্জনের একটি মাধ্যম নয়; বরং এটি ইবাদত, নৈতিকতা ও শরী‘আতের বিধানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি দায়িত্বপূর্ণ কার্যক্রম। উপর্যুক্ত কুরআন, হাদীস ও সালাফে ছালিহীনের বক্তব্যসমূহ থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ব্যবসায়ে প্রবেশের পূর্বে এবং ব্যবসা পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট শরয়ী বিধান জানা একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য অপরিহার্য। কারণ ব্যবসার শুদ্ধতা, উপার্জনের হালালত্ব এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি সরাসরি এ জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। উলামায়ে কেরাম একমত যে, যে জ্ঞান ছাড়া ফরয দায়িত্ব সঠিকভাবে আদায় করা যায় না, তা ফরযে আইন। এই নীতির আলোকে ব্যবসায়ীর জন্য ক্রয়-বিক্রয়, সূদ, প্রতারণা, শর্তাবলী ও চুক্তিসমূহের বিধান জানা ফরযে আইনের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম গাযযালী, ইমাম নববী, ইবনু আবিদীন ও ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুমুল্লাহ) প্রমুখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি কোন কাজে নিয়োজিত হয়, তার জন্য সেই কাজের হালাল-হারাম জানা ছাড়া তাতে লিপ্ত হওয়া বৈধ নয়। অন্যথা সে না জেনেই হারামে লিপ্ত হতে পারে এবং তার আমল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে আমীরুল মুমিনীন উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কার্যপ্রণালি এ বিষয়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বাজারে গিয়ে এমন ব্যবসায়ীদেরকে শাস্তি দিতেন, যারা ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান জানত না এবং স্পষ্ট ঘোষণা দিতেন, যে ব্যক্তি দ্বীনের ফিকহ জানে না, সে মুসলিম বাজারে ব্যবসা করতে পারবে না। এর মাধ্যমে তিনি উম্মাহকে সতর্ক করেছেন যে, অজ্ঞতাপূর্ণ ব্যবসা শেষ পর্যন্ত সূদের মত মহাপাপের দিকে নিয়ে যায়Ñ চাই ব্যবসায়ী তা বুঝুক বা না বুঝুক। সালাফে ছালিহীন ও তাবেঈগণের বক্তব্য থেকেও বোঝা যায় যে, হালাল-হারামের জ্ঞান, লেনদেনের সঠিক পদ্ধতি এবং সন্দেহপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করার সক্ষমতাই প্রকৃত যিকর ও দ্বীনি সচেতনতার মূল। এ কারণেই প্রাচীনকালের ব্যবসায়ীরা সফরে বের হলে সঙ্গে ফকীহ রাখতেন, যাতে প্রতিটি লেনদেন শরী‘আতের আলোকে সম্পন্ন হয়।

অতএব, ব্যবসা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ইসলামে কোন অতিরিক্ত বা ঐচ্ছিক বিষয় নয়; বরং এটি মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য দ্বীনি দায়িত্ব, আত্মরক্ষার উপায় এবং সমাজে ন্যায় ও আস্থাভিত্তিক অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রধান মাধ্যম। এ জ্ঞানই ব্যবসাকে হারাম ও সন্দেহমুক্ত করে হালাল, পবিত্র ও কল্যাণময় ইবাদতে পরিণত করে।

(ইনশাআল্লাহ চলবে)


* রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট, গাজীপুর।

তথ্যসূত্র :
[১]. তিরমিযী, হা/১২০৯; দারেমী, হা/২৫৩৯; সনদ ছহীহ লি গাইরিহি, ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৭৮২; তারাজু‘আতুল আলবানী, হা/১৪৪, পৃ. ১৭৭।
[২]. ইবনু মাজাহ, হা/২২৪; মিশকাত, হা/২১৮, সনদ ছহীহ।
[৩]. আবূ যাকারিয়া মুহীউদ্দীন ইয়াইইয়া ইবনু শারফ আন-নববী, আল-মাজমূ‘ শারহুল মুহাযযাব, ১ম খণ্ড (বৈরূত: দারুল ফিকর, তাবি), পৃ. ২৪।
[৪]. মুহাম্মাদ আমীন ইবনু ‘উমার ইবনু ‘আব্দুল আযীয ‘আবিদীন আদ-দামেস্কী আল-হানাফী, রদ্দুল মুহতার ‘আলাদ দুররুল মুখতার, ১ম খণ্ড (বৈরূত: দারুল ফিকর, ২য় সংস্করণ, ১৪১২ হি./১৯৯২ খ্রি.), পৃ. ৪২।
[৫]. আল-মাজমূ‘ শারহুল মুহাযযাব, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৬।
[৬]. আল-মাজমূ‘ শারহুল মুহাযযাব, ১ম খণ্ড, পৃ. ২৪-২৫।
[৭]. আবূ হামিদ মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ আল-গাযযালী আত-তূসী, ইহইয়াউ ‘ঊলূমিদ দ্বীন, ২য় খণ্ড (বৈরূত: দারুল মা‘আরিফাহ, তাবি), পৃ. ৬৪।
[৮]. মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলী আশ-শাওকানী, ওয়াবলুল গামমাম ‘আলা শিফাইল উওয়াম, ২য় খণ্ড (কায়রো: মাকতাবাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ, ১৪১৬ হি.), পৃ. ১২২।
[৯]. রদ্দুল মুহতার ‘আলাদ দুররুল মুখতার, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪২।
[১০]. আল-মাসূ‘আতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ, ৩২শ খণ্ড (মিসর: মাতাবা‘ঊ দারিস সাফওয়াহ, ১৪২৭ হি.), পৃ. ১৯৪-১৯৫।
[১১]. সুনানুত তিরমিযী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৫৭, হাদীস নং ৪৮৭, সনদ হাসান।
[১২]. ফাতাওয়া আশ-শাবাকাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, ফৎওয়া নং ৬৭৭২৮।
[১৩]. সুনান আত-তিরমিযীর ওপর আহমাদ শাকিরের টীকা, ২য় খণ্ড, পৃ. ৩৫৭।
[১৪]. ‘আব্দুর রাযযাক ইবনু ‘আব্দুল মুহসিন আল-বদর, ফিকহুল আদঈয়্যাহ ওয়াল আযকার, ১ম খণ্ড (কুয়েত: ২য় সংস্করণ, ১৪২৩ হি./২০০৩ খ্রি.), পৃ. ১১৭।
[১৫]. যাইনুদ্দীন ইবনু ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ মা‘রূফ ইবনু নুজাইম আল-মিসরী, আল-বাহরুর রায়িক শারহু কানযুদ দাকাইক, ৫ম খণ্ড (দারুল কিতাবিল ইসলামী, ২য় সংস্করণ, তাবি), পৃ. ২৮২।




প্রসঙ্গসমূহ »: বিবিধ

ফেসবুক পেজ