দাসতূরুল আখলাক্ব ফিল কুরআন
- আল-ইখলাছ ডেস্ক
ব্যক্তিগত আখলাক্ব
প্রথমতঃ আদেশসমূহ
১- সাধারণ শিক্ষা অর্জন করা (تعليم عام) : মহান আল্লাহর বলেন, فَسْـَٔلُوْۤا اَهْلَ الذِّكْرِ اِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَۙ ‘তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞাস কর’ (সূরা আন-নাহল: ৪৩)।
২- নৈতিক শিক্ষা অর্জন করা (تعليم أخلاقي) : মহান আল্লাহ বলেন, وَ مَا كَانَ الْمُؤْمِنُوْنَ لِيَنْفِرُوْا كَآفَّةً١ؕ فَلَوْ لَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِّنْهُمْ طَآىِٕفَةٌ لِّيَتَفَقَّهُوْا فِي الدِّيْنِ وَ لِيُنْذِرُوْا قَوْمَهُمْ اِذَا رَجَعُوْۤا اِلَيْهِمْ ‘আর মুমিনদের এটাও সমীচীন নয় যে, (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়ে; সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের প্রত্যেকটি বড় দল হতে এক একটি ছোট দল বহির্গত হয়, যাতে তারা দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করতে পারে, আর যাতে তারা নিজ কওমকে (নাফারমানী হতে) ভয় প্রদর্শন করে যখন তারা ওদের নিকট প্রত্যাবর্তন করে’ (সূরা আত-তাওবাহ: ১২২)।
৩- নৈতিক প্রচেষ্টা করা (جهد أخلاقي) : মহান আল্লাহ বলেন,
فَلَا
اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَٞۖ۰۰۱۱ وَ مَاۤ اَدْرٰىكَ مَا الْعَقَبَةُؕ۰۰۱۲ فَكُّ رَقَبَةٍۙ۰۰۱۳ اَوْ اِطْعٰمٌ فِيْ يَوْمٍ ذِيْ مَسْغَبَةٍۙ۰۰۱۴ يَّتِيْمًا ذَا مَقْرَبَةٍۙ۰۰۱۵ اَوْ
مِسْكِيْنًا ذَا مَتْرَبَةٍؕ۰۰۱۶ ثُمَّ
كَانَ مِنَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَ تَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ وَ تَوَاصَوْا
بِالْمَرْحَمَةِؕ.
‘কিন্তু সে দুর্গম গিরি পথে প্রবেশ করল না। তুমি কী জান যে, দুর্গম গিরি পথটি কী? এটা হচ্ছে, কোন দাসকে মুক্ত করা; অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে খাদ্য দান; কোন ইয়াতীম, আত্মীয়কে, অথবা ধূলায় লুন্ঠিত দরিদ্রকে, তারপর তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যারা ঈমান এনেছে এবং যারা পরস্পরকে উপদেশ দেয় ধৈর্যধারণের ও দয়া করুণার’ (সূরা আল-বালাদ: ১১-১৭)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ الَّذِيْنَ جَاهَدُوْا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا ‘যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমরা তাদেরকে অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব’ (সূরা আল-‘আনকাবূত: ৬৯)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, وَ الَّذِيْنَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًى وَّ اٰتٰىهُمْ تَقْوٰىهُمْ ‘যারা সৎপথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করেন এবং তাদেরকে তাক্বওয়া দান করেন’ (সূরা মুহাম্মাদ: ১৭)। মহান আল্লাহ বলেন,
اِنَّ
سَعْيَكُمْ لَشَتّٰىؕ۰۰۴ فَاَمَّا مَنْ اَعْطٰى وَ اتَّقٰىۙ۰۰۵ وَ صَدَّقَ بِالْحُسْنٰى ۙ۰۰۶ فَسَنُيَسِّرُهٗ لِلْيُسْرٰى ؕ۰۰۷ وَ اَمَّا مَنْۢ بَخِلَ وَ اسْتَغْنٰىۙ۰۰۸ وَ كَذَّبَ بِالْحُسْنٰى ۙ۰۰۹ فَسَنُيَسِّرُهٗ لِلْعُسْرٰى.
‘অবশ্যই তোমাদের প্রচেষ্টা বিভিন্নমুখী। অনন্তর যে দান করে ও মুত্ত্বাকী হয়, যা উত্তম তাকে সত্য মনে করল, অচিরেই আমি তার জন্য সুগম করে দেব সহজ পথ। পক্ষান্তরে কেউ কার্পণ্য করল ও বেপরওয়া হল। আর উত্তম জিনিসকে মিথ্যা মনে করল, অচিরেই তার জন্য আমি সুগম করে দেবো কঠোর পরিণামের পথ’ (সূরা আল-লাইল: ৪-১০)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَ اللّٰهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِيْنَ ‘আর আল্লাহ উত্তমরূপে পবিত্রতা সম্পাদনকারীদেরকে পসন্দ করেন’ (সূরা আত-তাওবাহ: ১০৮)।
৪- আত্মার পবিত্রতা (طهارة النفس) : মহান আল্লাহ বলেন, قَدْ اَفْلَحَ مَنْ زَكّٰىهَا۪ۙ۰۰۹ وَ قَدْ خَابَ مَنْ دَسّٰىهَاؕ۰۰۱ ‘অবশ্যই সে সফলকাম হবে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করবে এবং নিশ্চয় সে ব্যর্থ হবে, যে নিজেকে কলুষিত করবে’ (সূরা আশ-শামস: ৯-১০)। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, وَ لَا تُخْزِنِيْ يَوْمَ يُبْعَثُوْنَۙ۰۰۸۷ يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَّ لَا بَنُوْنَۙ۰۰۸۸ اِلَّا مَنْ اَتَى اللّٰهَ بِقَلْبٍ سَلِيْمٍؕ۰۰۸۹ ‘এবং আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না পুনরুত্থান দিবসে। যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না। সেদিন উপকৃত হবে শুধু সে, যে আল্লাহ্র নিকট আসবে বিশুদ্ধ অন্তকরণ নিয়ে’ (সূরা আশ-শু‘আরা: ৮৭-৮৯)। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَ
اُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِيْنَ غَيْرَ بَعِيْدٍ۰۰۳۱ هٰذَا مَا تُوْعَدُوْنَ لِكُلِّ اَوَّابٍ حَفِيْظٍۚ۰۰۳۲ مَنْ خَشِيَ الرَّحْمٰنَ بِالْغَيْبِ وَ جَآءَ بِقَلْبٍ مُّنِيْبِۙ۰۰۳۳
‘আর জান্নাতকে নিকটস্থ করা হবে মুত্ত্বাকীদের জন্য, কোন দূরত্ব থাকবে না। এরই প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল, প্রত্যক আল্লাহ অভিমুখী, হিফাযতকারীর জন্য। যারা না দেখে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে এবং অনুক্ত হৃদয়ে উপস্থিত হয়’ (সূরা ক্বাফ: ৩১-৩৩)।
৫- হক্বের উপর দৃঢ়তার সাথে প্রতিষ্ঠিত থাকা (الإستقامة) : মহান আল্লাহ বলেন, قُلْ اِنَّمَاۤ اَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوْحٰۤى اِلَيَّ اَنَّمَاۤ اِلٰهُكُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ فَاسْتَقِيْمُوْۤا اِلَيْهِ وَ اسْتَغْفِرُوْهُ ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী হয় যে, তোমাদের মা‘বূদ একমাত্র মা‘বূদ। অতএব তাঁরই পথ দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর এবং তারই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর’ (সূরা হামীম সাজদাহ: ৬)। অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, فَاسْتَقِمْ كَمَاۤ اُمِرْتَ ‘অতএব, তুমি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছ, সেভাবে দৃঢ় থাক’ (সূরা হূদ: ১১২)।