মুসলিমকে গালি দেওয়া পাপাচার
- গিয়াসুদ্দীন বিন আব্দুল মালেক*
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অমিয় বাণী
عَنِ ابْنِ مَسعُوْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (ﷺ) سِبَابُ المُسْلِمِ فُسُوْقٌ وَقِتالُهُ كُفْرٌ
সরল বাংলা অনুবাদ
‘আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী (মহান আল্লাহর অবাধ্যাচরণ) এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী।[১]
হাদীসের ব্যাখ্যা
হাদীসের প্রথম অংশে বলা হয়েছে
سِبَابُ المُسْلِمِ فُسُوْقٌ
অর্থাৎ- কেনো মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী।
গালি মানে মন্দ কথা। যে কথা শোনার উপযোগী নয়। শুনতে খারাপ লাগে। যাকে এককথায় বলে অশ্রাব্য ভাষা। অশ্লীল ও নোংরা বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে মা-বাবা, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী বা বোনের নাম নিয়ে বাজে কথা বলাকে গালি বলা হয়। এটা গুনাহের কাজ। মু’মিন বান্দা কাউকে গালি দিতে পারে না। চাই সেটা যে কোনো প্রেক্ষাপটেই হোক না কেন। অধীনের কর্মচারী নিয়ন্ত্রণ বা গালগপ্পে বন্ধুর আসর। কোনো অবস্থাতেই মু’মিন ব্যক্তির মুখের ভাষা অশ্লীল হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿والَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ المُؤْمِنِيْنَ
والْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوْا فَقَدِ احْتَمَلُوْا بُهْتْانًا وإثْمًا
مُبِيْنًا﴾
অর্থাৎ- “যারা বিনা অপরাধে বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।”[২]
ইসলামি শরিয়তে গালিগালাজ, অশালীন ও অশ্লীল কথাবার্তা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো- গালিগালাজ, অশ্লীল কথাবার্তা বলার সময় মানুষের নৈতিকতার সীমা লংঘন হয়ে যায়। কেউ যদি কারো বাবাকে গালি দেয় তো অপরজন তার বাবা-মাসহ সবাইকে গালি দিয়ে বসে। এভাবে সীমালংঘন হয়ে যায়। যার ফলে মারামারি, ঝগড়াঝাটি ও রক্তপাতের মুখোমুখিও হয়।
নবী (ﷺ) গালি দেওয়াকে ফুসুক বলেছেন। ফুসুক শব্দের আভিধানিক অর্থ বের হয়ে যাওয়া। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাওয়াকে ফুসুক বলে।[৩] এ হাদীসের ব্যাখ্যায় মুফতি রাফি উসমানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদীসে মুত্তাকী বা নেককার শব্দের উল্লেখ করা হয়নি, এতে বোঝা যায়, যে কোনো শ্রেণির মুসলমানকে গালি দেওয়া জায়িয নেই।”[৪]
পক্ষান্তরে প্রকৃত ঈমানদার ব্যক্তি কখনো এসব কথাবার্তায় নিজেকে জড়িত করে না। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (ﷺ) "لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالطَّعَّانِ وَلَا
اللَّعَّانِ وَلَا الْفَاحِشِ وَلَا الْبَذِيْءِ".
‘আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মু’মিন কখনো দোষারোপকারী ও নিন্দাকারী হতে পারে না, অভিসম্পাতকারী হতে পারে না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না।[৫]
যারা অশালীন ও অশ্লীল কথাবার্তা বলতে অভ্যস্ত, লোকেরা তাদের ঘৃণা করে। কেউ তাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে চায় না। গালমন্দ করা অভদ্রতা ও সভ্যতার পরিপন্থী কাজ। এতে অন্য মানুষ কষ্ট পায়। আর কোনো মানুষকে কথা বা কাজ দ্বারা কষ্ট দেওয়াও নিষিদ্ধ। হাদীসে নবী (ﷺ) এ ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন এভাবে,
اَلْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُوْنَ مِنْ
لِّسَانِهِ وَ يَدِهِ.
প্রকৃত মুসলমান তো সেই ব্যক্তি, যার কথা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপাদ থাকে।[৬]
মনে রাখতে হবে নবী (ﷺ) আমাদের আদর্শ। তিনি কেমন ছিলেন। তিনি কখনো কাউকে মন্দ বা কটু কথা বলেননি। কারো প্রতি রাগ করেননি। হাদীসে এসেছে- আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ) গালিগালাজকারী, অশালীনভাষী এবং অভিসম্পাতকারী ছিলেন না। আমাদের কারো উপর তিনি নারাজ হলে শুধু এটুকু বলতেন যে, তার কি হলো! তার কপাল ধুলিময় হোক।[৭]
সুতরাং মু’মিন মুসলমানের উচিত, অশালীন ও অশ্লীল কথাবার্তা বলে কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা। যে কোনো ধরনের মন্দ বা কটু কথা এবং গালিগালাজ করা সম্পূর্ণ অনুচিত।
গালির শাস্তি হিসেবে হাদীসে এসেছে,
عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ قَالَ: قُلْتُ:
يَا رَسُوْلَ اللهِ، الرَّجُلُ يَسُبُّنِيْ؟ قَالَ النَّبِيُّ (ﷺ):
الْمُسْتَبَّانِ شَيْطَانَانِ يَتَهَاتَرَانِ وَيَتَكَاذَبَانِ.
ইয়ায ইবনু হিমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অমুক ব্যক্তি আমাকে গালি দিয়ে থাকে। তখন নবী করীম (ﷺ) বললেন: যারা একে অপরকে গালি দেয় তারা উভয়েই শয়তান, উভয়েই কটু কথা বলে এবং উভয়েই মিথ্যুক।[৮]
عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ
اللهِ (ﷺ): إِنَّ اللهَ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوْا حَتّٰى لَا يَبْغِيَ
أَحَدٌ عَلٰى أَحَدٍ، وَلَا يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلٰى أَحَدٍ، فَقُلْتُ: يَا رَسُوْلَ
اللهِ، أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلًا سَبَّنِيْ فِيْ مَلَأٍ هُمْ أَنْقُصُ مِنِّيْ،
فَرَدَدْتُ عَلَيْهِ، هَلْ عَلَيَّ فِي ذٰلِكَ جُنَاحٌ؟ قَالَ:
الْمُسْتَبَّانِ شَيْطَانَانِ يَتَهَاتَرَانِ وَيَتَكَاذَبَانِ. قَالَ عِيَاضٌ:
وَكُنْتُ حَرْبًا لِرَسُوْلِ اللهِ (ﷺ) فَأَهْدَيْتُ إِلَيْهِ نَاقَةً، قَبْلَ
أَنْ أُسْلِمَ، فَلَمْ يَقْبَلْهَا وَقَالَ: إِنِّيْ أَكْرَهُ زَبْدَ
الْمُشْرِكِيْنَ.
ইয়ায ইব্ন হিমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা আমাকে এই মর্মে প্রত্যাদেশ করেছেন যে, পরস্পরে বিনয়ী হও, কেহ কারো সাথে বাড়াবাড়ি করিও না, একে অপরকে গর্ব প্রদর্শন করিও না। আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি কোনো ব্যক্তি আমাকে আমার চাইতে কম মর্যাদাসম্পন্ন লোকদের সম্মুখে গালি দেয়, আর আমিও তার প্রত্যুত্তর করি তবে এ ব্যাপারে আপনি কি বলেন? এতে কি আমার পাপ হবে? তিনি বললেন, যারা একে অপরকে গালি দেয় তাদের উভয়েই শয়তান, উভয়েই কটু কথা বলে এবং তারা উভয়েই মিথ্যুক। ইয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, আমি ছিলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতিপক্ষ, ইসলাম গ্রহণের পূর্বে আমি তাঁকে একটি উট হাদিয়া দিতে চাইলাম। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না। তিনি তখন বললেন, মুশরিকদের হাদিয়া গ্রহণে আমার রুচি হয় না।[৯]
হাদীসের দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে-
অর্থাৎ- একজন মুসলিমের সাথে লড়াই করা কুফরী।
ইসলামে একজন মুসলিমের সাথে অন্যজন মুসলিমের লড়াই বা যুদ্ধ করা সম্পূর্ণ হারাম এবং মহাপাপ। রাসূল (ﷺ) বলেন,
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ (ﷺ):
«الْمُسْلِمُ أَخُوْ الْمُسْلِمِ لَا يَظْلِمُهُ وَلَا يَخْذُلُهُ وَلَا يَحْقِرُهُ
التَّقْوَى هَهُنَا». وَيُشِير إِلَى صَدره ثَلَاث مرار بِحَسْبِ امْرِئٍ مِنَ
الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ
حَرَامٌ: دَمُهُ ومالهُ وَعرضه.
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এক মুসলিম অপর মুসলিমের (দীনী) ভাই। মুসলিম ব্যক্তি অপর মুসলিমের ওপর অবিচার করবে না, তাকে অপদস্থ করবে না এবং অবজ্ঞা করবে না। আল্লাহভীতি এখানে! এ কথা বলে তিনি (ﷺ) নিজের বক্ষের দিকে তিনবার ইঙ্গিত করে বললেন: একজন মানুষের জন্য এতটুকু অন্যায়ই যথেষ্ট যে, সে নিজের মুসলিম ভাইকে হেয় জ্ঞান করবে। মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের রক্ত, ধন-সম্পদ ও মান-সম্মান হারাম।[১০]
عَنْ ابْنِ عُمَرَ (k) أَتَاهُ رَجُلَانِ فِيْ
فِتْنَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ فَقَالَا إِنَّ النَّاسَ صَنَعُوْا وَأَنْتَ ابْنُ
عُمَرَ وَصَاحِبُ النَّبِيِّ (ﷺ) فَمَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَخْرُجَ فَقَالَ
يَمْنَعُنِيْ أَنَّ اللهَ حَرَّمَ دَمَ أَخِيْ فَقَالَا أَلَمْ يَقُلْ اللهُ:
(وَقٰتِلُوْهُمْ حَتّٰى لَا تَكُوْنَ فِتْنَةٌ): فَقَالَ قَاتَلْنَا حَتّٰى لَمْ
تَكُنْ فِتْنَةٌ وَكَانَ الدِّيْنُ لِلّٰهِ وَأَنْتُمْ تُرِيْدُوْنَ أَنْ
تُقَاتِلُوْا حَتّٰى تَكُوْنَ فِتْنَةٌ وَيَكُوْنَ الدِّيْنُ لِغَيْرِ اللهِ.
‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত। তাঁর কাছে দুই ব্যক্তি ‘আব্দুল্লাহ ইবনু যুবায়রের যুগে সৃষ্ট ফিতনার সময় আগমন করল এবং বলল, লোকেরা সব ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আর আপনি ‘উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পুত্র এবং নবী (ﷺ)-এর সাহাবী! কী কারণে বের হন না? তিনি উত্তর দিলেন আমাকে নিষেধ করেছে এই কথা-নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আমার ভাইয়ের রক্ত হারাম করেছে। তারা দু’জন বললেন, আল্লাহ তা‘আলা কি এ কথা বলেননি যে, তোমরা তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো ততক্ষণ যাবৎ যতক্ষণ না ফিতনার অবসান ঘটে। তখন ইবনু ‘উমার (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বললেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি যাবৎ না ফিতনার অবসান ঘটেছে এবং দ্বীনও মহান আল্লাহর জন্য হয়ে গেছে। আর তোমরা ফিতনা প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করার ইচ্ছা করছ যেন আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্যের জন্য দ্বীন হয়ে গেছে।[১১]
যদি কোনো মুসলিম অন্যায়ভাবে আরেকজন মুসলিমকে হত্যা করে, তবে তার শাস্তি জাহান্নাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَ مَنْ یَّقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُہٗ
جَهَنَّمُ خٰلِدًا فِیْهَا وَ غَضِبَ اللّٰهُ عَلَیْهِ وَ لَعَنَہٗ وَ اَعَدَّ لَہٗ
عَذَابًا عَظِیْمًا﴾
“কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মু’মিনকে হত্যা করলে, তার শাস্তি জাহান্নাম; সেখানে সে স্থায়ী হবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন, তাকে লানত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখবেন।”[১২]
দু’টি মুসলিম দলের মধ্যে বিবাদ বা যুদ্ধ শুরু হলে অন্য মুসলিমদের দায়িত্ব হলো তাদের মধ্যে মীমাংসা বা শান্তি-সমঝোতা করিয়ে দেওয়া। আল্লাহ বলেন,
﴿اِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ اِخْوَۃٌ فَاَصْلِحُوْا
بَیْنَ اَخَوَیْکُمْ وَ اتَّقُوْا اللّٰهَ لَعَلَّکُمْ تُرْحَمُوْنَ﴾
“নিশ্চয় মু’মিনরা পরস্পর ভাই ভাই। কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করে দাও। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হবে।”[১৩]
হাদীসের শিক্ষা
১). মুসলিমদের ইজ্জত ও রক্তকে সম্মান করা আবশ্যিক।
২). বিনা অধিকারে কোনো মুসলিমকে গালি দেয়ার পরিণাম গুরুতর; কারণ বিনা অধিকারে যে গালি দেয়, সে ফাসিক (পাপী)।
৩). একজন মুসলিমকে বকা দেওয়া এবং তার সাথে লড়াই করা ঈমানকে দুর্বল ও ক্ষুন্ন করে।
৪). কিছু ‘আমলকে কুফর বলা হয়; যদিও বড় কুফরী পর্যন্ত না পৌঁছায় যা ইসলাম থেকে বের করে দেয়।
৫). এখানে কুফর দ্বারা ছোট কুফর উদ্দেশ্য যা আহলুস সুন্নাহদের ঐকমত্যে দীন থেকে বের করে দেয় না; কারণ আল্লাহ মু’মিনদের পরস্পর যুদ্ধ ও ঝগড়ার সময় তাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও ঈমানকে সাব্যস্ত করেছেন।
উপসংহার
ইসলাম বিশ্বময় চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানবভ্রাতৃত্ব তথা বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ইসলাম মানবীয় ভ্রাতৃত্বের এমন এক অনুপম ধারণা পেশ করেছে যা অতুলনীয়। ইসলামি আদর্শে গালমন্দ, অশ্লীল কথা ও কটূবাক্যের স্থান নেই। তাই একজন প্রকৃত মুসলমান হিসেবে আমাদের সব ধরনের গালাগালি, কটুক্তি ও অপরজন কষ্ট পায় এমন আচরণ থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে। তবেই আমরা নিজেদের মহান আল্লাহর প্রকৃত বান্দা হিসেবে দাবি করতে পারবো।
- প্রভাষক (আরবী), মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদ্রাসা, গাইবান্ধা।
তথ্যসূত্র :
[১] সহীহুল বুখারী- ৪৮, ৬০৪৪; সহীহ মুসলিম- ২৩০।
[২] সূরা আল-আহযা-ব: ৫৮।
[৩] ফাতহুল মুলহিম- ২/২১।
[৪] দরসে মুসলিম- ৪২০।
[৫] তিরমিযী-হা. ১৯৭৭; সহীহাহ্- ৩২০।
[৬] সহীহ বুখারী।
[৭] সহীহ বুখারী।
[৮] আল-আদাবুল মুফরাদ- ইমাম বুখারী (রাহিমাল্লাহু), ৪২৮।
[৯] আল-আদাবুল মুফরাদ- ৪২৯।
[১০] সহীহ মুসলিম- ২৫৬৪; সহীহ আত্ তারগীব- ২৯৫৮; আহমাদ- ৭৭২৭; শু‘আবুল ঈমান- ৬৬৬০; আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী- ১১৮৩০; মিশকাত- ৪৯৫৯।
[১১] সহীহ বুখারী- ৪৫১৩।
[১২] সূরা আন্-নিসা: ৯৩।
[১৩] সূরা আল-হুজুরা-ত: ১০।