কুরআনের নিরন্তন চ্যালেঞ্জ: পারলে অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসো!
আবূ সা‘আদ আব্দুল মোমেন বিন আব্দুস্ সামাদ*
আল্লাহ তা‘আলার বাণী
﴿وَ اِنۡ كُنۡتُمۡفِیۡ رَیۡبٍ مِّمَّا نَزَّلۡنَا عَلٰی عَبۡدِنَا فَاۡتُوۡا بِسُوۡرَۃٍ مِّنۡمِّثۡلِهٖ ۪ وَ ادۡعُوۡا شُهَدَآءَكُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ اِنۡ كُنۡتُمۡصٰدِقِیۡنَ﴾
সরল বাংলায় আনুবাদ
“আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা নাযিল করেছি, যদি তাতে তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে তাহলে তার মতো একটি সূরা এনে দাও এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা তোমাদের সাক্ষীগণকে/সাহায্যকারীদেরকে (সাহায্যের জন্য) ডাকো; যদি তোমরা সত্যবাদী হয়।”[১]
শাব্দিক অনুবাদ
رَیۡبٍ -সন্দেহ, نَزَّلۡنَا -আমি অবতীর্ণ করেছি, عَبۡدِنَا - আমার বন্দা, فَاۡتُوۡا -নিয়ে আসো (অক্ষমতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ), بِسُوۡرَۃٍ -কুরআনের নির্দিষ্ট অংশ (সূরা), مِّنۡ مِّثۡلِهٖ -কুরআনের মতো, তার অনুরূপ, شُهَدَآءَكُمۡ -সাহায্যকারী ও সমর্থক, اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ -যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট
পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রুবূবিয়্যাত, উলূহিয়্যাত এবং বান্দাদের প্রতি অসংখ্য নিয়ামতের কথা উল্লেখ করে তাওহীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অতঃপর আলোচ্য আয়াতাংশে তিনি নবী (ﷺ)-এর নবুওয়াত ও রিসালাতের সত্যতা, কুরআনুল কারীমের অলৌকিকতা, চিরন্তন মু‘জিজাসহ এটি যে মহান আল্লাহরই অমীয় বাণী- তার অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।
তাফসীর (বিশ্লেষণ)
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَ اِنۡ كُنۡتُمۡفِیۡ رَیۡبٍ مِّمَّا نَزَّلۡنَا عَلٰی عَبۡدِنَا﴾
অর্থাৎ- “আমি আমার বান্দার প্রতি যা নাযিল করেছি, তাতে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে।”
মক্কার কাফির-মুশিরকরা কুরআনকে মহান আল্লাহর কালাম হিসেবে বিশ্বাস করতো না; বরং একে মানুষের মনগড়া রচনা বলে অপবাদ দিত। তাদের এই চরম অবিশ্বাস ও সংশয়কেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এখানে اِنۡ (যদি-শর্তবাচক অব্যয়) এবং رَیۡبٍ (সন্দেহ/সংশয়) শব্দ দু’টি দিয়ে ব্যক্ত করেছেন।
رَیۡبٍ শব্দের বিশ্লেষণ: আরবী ভাষায় ‘রাইব’ (رَیۡبٍ) এমন সন্দেহকে বলা হয়, যার সাথে অস্থিরতা, দ্বিধা এবং কুধারণা মিশে থাকে। ইমাম বাগভী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর তাফসীরে বলেন-
لأن الله تعالى علم أنهم شاكون.
অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলা ভালো করেই জানতেন যে, তারা বাস্তবিকই গভীর সন্দেহের মধ্যে নিমজ্জিত।
نَزَّلۡنَا শব্দের তাৎপর্য: مِّمَّا نَزَّلۡنَا বলে তিনি কুরআনকে বুঝিয়েছেন। এখানে أَنْزَلْنَا শব্দটি ব্যবহার না হয়ে نَزَّلۡنَا শব্দটি ব্যবহার হয়েছে। কারণ কুরআন ধীরে ধীরে, বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন অংশে নাযিল হয়েছে। আরবি ব্যকরণ অনুসারে (فَعَّلَ) এই বাবের ক্রিয়া সাধারণত কাজের ধারাবাহিকতা ও পুনরাবৃত্তি নির্দেশ করে।
আল্লামা যামাখশারী তাঁর আল-কাশ্শাফ গ্রন্থে একটি সূক্ষ্ম কারণ উল্লেখ করে বলেন- আরব মুশরিকরা আপত্তি করে বলত:
لولا أنزل عليه القرآن جملة واحدة.
অর্থাৎ- তার উপর তাহলে কুরআন কেন একবারেই নাযিল করা হলো না?
তাদের এই আপত্তির প্রেক্ষিতে نَزَّلۡنَا শব্দের ব্যবহার অধিক তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ হয়েছে।
عَبۡدِنَا শব্দের মর্যাদা: তারপর আল্লাহ তা‘আলা নবী মুহাম্মদ (ﷺ)-এর পরিচয় হিসেবে عَبۡدِنَا শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এতে একদিকে তাঁর নবুওয়াতের সম্মান প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে এটি প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহর বান্দা হওয়াই সর্বোচ্চ মর্যাদা। কারণ, ইবাদত ও দাসত্ত্বই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয় ও সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা নবী (ﷺ)-এর উপর তাঁর কালাম (কুরআন) অবতীর্ণ করে তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানিত করেছেন।
অবিশ্বাসীদের অপবাদ ও আল্লাহ তা‘আলার চ্যালেঞ্জ: তৎকালীন আরবরা তাদের ভাষা ও সাহিত্যের ওপর অত্যন্ত অহংকারী ছিল। তারা নিজেদেরকে ‘আরব’ (স্পষ্টভাসী) এবং বিশ্বের বাকি সকলকে ‘আজম’ (বোবা বা মূক) মনে করত। উম্মী নবী মুহাম্মদ (ﷺ) যখন প্রথাগত শিক্ষা ছাড়াই কুরআনের অতুলনীয় ছন্দ ও অলঙ্কারশাস্ত্র উপস্থাপন করলেন, তখন আরবের শ্রেষ্ঠ কবিদের অহংকার চূর্ণ হয়ে যায়। কুরআনের এই অলৌকিক সাহিত্যিক শ্রেষ্ঠত্বকে মোকাবেলা করতে না পেরে ও নিজেদের পরাজয় ঢাকতে তারা একে ‘উচ্চমার্গীয় কবিতা’, ‘গনকের অতীন্দ্রিয় কথা’, ‘জাদু’ বা ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে অপবাদ দেয়। তাদের এই অপবাদের প্রেক্ষিতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর অবতীর্ণ বাণীর মাধ্যমেই ধাপে ধাপে একটি যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ছুঁড়ে দেওয়া এই ঐতিহাসিক সাহিত্যিক চ্যালেঞ্জটিকে ‘তাহাদ্দি’ বা ‘ঐশী অলৌকিকত্বেও চ্যালেঞ্জ’ বলা হয়। চ্যালেঞ্জের প্রথম স্তরে মহান আল্লাহর অবতীর্ণ বাণীর সমকক্ষ একটি সম্পূর্ণ গ্রন্থ রচনার জন্য মানব ও জিন উভয় সম্প্রদায়কে সামষ্টিক আহ্বান জানানো হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿قُلۡ لَّئِنِاجۡتَمَعَتِ الۡاِنۡسُ وَ الۡجِنُّ عَلٰۤی اَنۡ یَّاۡتُوۡا بِمِثۡلِ هٰذَاالۡقُرۡاٰنِ﴾
অর্থ- “বলো, যদি চাও জিন্ ও মানুষ সকলে মিলে কুরআনের অনুরূপ একটি গ্রন্থ রচণা করো!”[২]
অবিশ্বাসীদের অক্ষমতা প্রকাশ পাওয়ার পর চ্যালেঞ্জের স্তরকে আরো সহজ করে দেওয়া হয়। এবার আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ১০টি সূরা রচনার নির্দেশ দিয়ে বলেন,
﴿قُلۡ فَاۡتُوۡابِعَشۡرِ سُوَرٍ مِّثۡلِهٖ مُفۡتَرَیٰتٍ وَّ ادۡعُوۡا مَنِ اسۡتَطَعۡتُمۡ مِّنۡدُوۡنِ اللّٰهِ اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ﴾
অর্থ- “বলো, ‘তাহলে তোমরা এর মতো দশটি সূরা রচনা করে আনো, আর (এ কাজে সাহয্য করার জন্য) আল্লাহকে ছাড়া যাকে ডাকতে চাও ডেকে নাও যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।”[৩]
চ্যালেঞ্জের চূড়ান্ত পর্যায়ে অলৌকিকত্বের কষ্টিপাথরকে আরো সংকুচিত করে মাত্র একটি সূরায় নিয়ে আসা হয়। সূরা আল-বাক্বারাহর এই ২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়,
﴿فَاۡتُوۡا بِسُوۡرَۃٍ مِّنۡ مِّثۡلِهٖ﴾
অর্থাৎ- “অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসো।”
এখানে فاء (ফা) এসেছে পূর্ববর্তী اِنۡ (যদি-শর্তবাচক অব্যয়)’র উত্তরে। পূর্বে বলা হয়েছে, ﴿وَإِنْ كُنْتُمْ فِيْ رَيْبٍ﴾ অর্থ- “যদি তোমরা সন্দেহে থাকো।” উত্তরে বলা হচ্ছে- فأتوا অর্থ- তাহলে নিয়ে আসো। অর্থাৎ- যদি সন্দেহ করো, তাহলে এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো। فأتوا এটি এমন একটি আদেশ যার উদ্দেশ্য তাদের অক্ষমতা প্রকাশ করা। এটাকে বলা হয়- أمر التعجيز অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলা সত্যিই চাননি যে তারা কুরআনের মতো সূরা রচনা করুক; বরং উদ্দেশ্য ছিল- তাদের অক্ষমতা প্রমাণ করা। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা জানতেন- তারা কখনও তা পারবে না।
‘সূরা’ শব্দটির বিশ্লেষণ: কুরআনের কিছু নির্দিষ্ট অংশের জন্য ‘সূরা’ শব্দকে একটি সাধারণ নাম হিসেবে ব্যবহার করা কুরআন নিজেই চালু করেছে। ‘সূরা’ নামে কুরআনের অধ্যায়গুলোর নামকরণ মানুষের তৈরি নয়। কুরআন নিজেই এই পরিভাষা প্রবর্তন করেছে। যেমন- কুরআনে এসেছে- ﴿فَأْتُوْابِسُوْرَةٍ مِنْ مِثْلِهِ﴾ অর্থ- “তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসো।” আরবী سورة (সূরা) শব্দটির ব্যুৎপত্তি নিয়ে কয়েকটি মত রয়েছে। এক- سورة শব্দটি এসেছে أسأرت শব্দ থেকে। অর্থ হলো- কিছু অবশিষ্ট রাখা বা উত্তম অংশ। দুই- سور থেকে এসেছে। অর্থ- প্রাচীর, শহর বা গ্রামের চারপাশের ঘের ইত্যাদি। বাগভী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন- সূরা হলো কুরআনের এমন একটি অংশ যার শুরু ও শেষ নির্ধারিত। তিনি আরো বলেন- সূরা এ কারণে সূরা নামে পরিচিত যে, এর পাঠকারী উচ্চ মর্যাদা লাভ করে। একজন ব্যক্তি পুরো কুরআনের সূরাগুলো সম্পূর্ণ করলে সে ক্রমান্বয়ে উচ্চ মর্যাদার স্তরে পৌঁছে যায়। সুতরাং সূরাকে ‘সূরা’ নামে নামকরণ যথার্থ হয়েছে। ‘সূরা’ নামটি কেবল কুরআনের নির্দিষ্ট অংশগুলোর জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়, অন্য আসমানী কিতাবগুলোর ক্ষেত্রে নয়।
من مثله-এর বিশ্লেষণ: এখানে উল্লেখিত من-কে নিয়ে দু’টি মত রয়েছে। প্রথম মত: من زائدة অর্থাৎ- এখানে অতিরিক্ত হরফ। তখন এর অর্থ হবে فأتوا بسورة مثله “এর অনুরূপ একটি সূরা আনো।” দ্বিতীয় মত: من للتبعيض অর্থাৎ- এর মতো কারো কাছ থেকে অথবা এর অনুরূপ কোনো কিতাব থেকে। مثله-এর ه-এর মারজা‘ নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। জমহুর মুফাস্সিরদের মতে- الضمير في مثله عائد على القرآن. অর্থাৎ- مثله-এর সর্বনাম কুরআনের দিকে ফিরে। তখন অর্থ হবে- কুরআনের মতো একটি সূরা নিয়ে এসো। ক্বাতাদাহ্ ও মুজাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ)-ও অনুরূপ মত পোষণ করেছেন। ভিন্ন মতে- يعود على التوراة والإنجيل অর্থাৎ- مثله-এর সর্বনাম তাওরাত-ইনজিলের দিকে ফিরে। তখন অর্থ হবে- তাওরাত-ইনজিলের মতো কোনো আসমানী কিতাব থেকে একটি সূরা নিয়ে এসো। তবে এ মতটি খুবই দুর্বল।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَ ادۡعُوۡاشُهَدَآءَكُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ﴾
“আর আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সকল সাক্ষীগণকে/সাহায্যকারীদেরকে (সাহায্যের জন্য) ডাকো; যদি তোমরা সত্যবাদী হয়।”
ব্যাখ্যা: ফাররা ও বগভী (রাহিমাহুল্লাহ) এখানে شُهَدَآءَكُمۡ-এর অর্থ করেছেন ‘তোমাদের উপাস্যদের’ অধিকাংশ মুফাস্সির অর্থ করেছেন ‘সাহায্যকারী, সমর্থক ও সহযোগী অর্থাৎ- কবি, সাহিত্যিক ও পণ্ডিতদের’ ডাকো। ইবনু কাসীরের প্রশ্ন- এখানে ‘সাক্ষী’ শব্দ কেন আনা হলো? সাক্ষী তো হলো কোনো ঘটনা দেখে সাক্ষ্য দেওয়া, এখানে তো কোনো ঘটনা ঘটেনি; বরং অনুরূপ সূরা সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। মুজাহিদের ব্যাখ্যায় এর উত্তর পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ناسًا يشهدون لكم অর্থাৎ- এমন লোকদের ডাকো যারা তোমাদের পক্ষে সাক্ষ্য দিবে। বলবে- হ্যাঁ, তোমরা কুরআনের মতো কিছু এনেছ। তারপর মহান আল্লাহর বাণী- ﴿اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ﴾ (যদি তোমরা সত্যবাদী হও।) অর্থাৎ- সত্যবাদী হলে তোমাদের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা উচিৎ। তোমরাই তো বলেছ, মুহাম্মদ নিজের পক্ষ থেকে কুরআন রচনা করেছে। রচনার জগতে তোমরা তো তাঁর চেয়েও অগ্রগামী, তাহলে তাঁর মতো করে তোমরাও এমন একটি সূরা তৈরি করে দেখাও। আল্লাহ তা‘আলা যখন তাদের চ্যালেঞ্জ করলেন, তখন তারা সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়ল। এটাই কুরআনের সবচেয়ে বড় মু‘জিযাগুলোর একটি।
শিক্ষাসমূহ
এক- আল-কুরআনের অলৌকিকতা ও চ্যালেঞ্জ: কুরআন স্বয়ং মহান আল্লাহর বাণী। এতে সন্দেহ করার কোনো অবকাশ নেই। যারা সন্দেহ পোষণ করে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। পুরো কুরআন তো দূরের কথা, এর যেকোনো একটি সূরার মতো ছোট কোনো সূরা বা আয়াত রচনা করার ক্ষমতাও কোনো মানুষের নেই।
দুই- চ্যালেঞ্জ গ্রহণে মানবজাতির অক্ষমতা: আরবের তৎকালীন সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ও কবিগণ এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও এর সমকক্ষ কিছু তৈরি করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। কিয়ামত পর্যন্ত এই চ্যালেঞ্জ বলবৎ থাকবে। সৃষ্টির কারও এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সক্ষমতা নেই।
তিন- মহানবী (ﷺ)-এর নবুওয়াতের সত্যতা: যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কবি বা জাদুকর বলে অপবাদ দিত, এই আয়াত তাদের মুখ বন্ধ করে দেয়। এটি প্রমাণ করে যে কুরআন কোনো মানুষের বানানো বাণী নয়; বরং তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি অবতীর্ণ ওহীর পরম সত্যতা।
চার- মহান আল্লাহর একত্ববাদ (তাওহীদ)-এর প্রমাণ: আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য সমস্ত সাহায্যকারীদের (উপাস্য, অংশীদার বা মানবীয় শক্তি) ডেকে এনে চেষ্টা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি সাব্যস্ত করে যে, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া মহাবিশ্বে আর কারো এমন ক্ষমতা নেই যা ওহীর সমকক্ষ বা সদৃশ হতে পারে।
পাঁচ- অহংকার ও হঠকারিতার পরিণতি: সত্য সুষ্পষ্টভাবে সামনে আসার পরেও যারা কেবল অহংকারের বশে তা অস্বীকার করে, এই আয়াত তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও যৌক্তিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত করে।
- এম.ফিল গবেষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
তথ্যসূত্র :
[১] সূরা আল-বাক্বারাহ্: ২৩।
[২] সূরা আল-ইসরা: ৮৮।
[৩] সূরা হূদ: ১৩।
প্রসঙ্গসমূহ »:
কুরআনুল কারীম