শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

ইনফাক ফী সাবিলিল্লাহ



মহান আল্লাহর বাণী

# ﴿یَسۡـَٔلُوۡنَكَ مَا ذَا یُنۡفِقُوۡنَ ۬ؕ قُلۡ مَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ مِّنۡ خَیۡرٍ فَلِلۡوَالِدَیۡنِ وَ الۡاَقۡرَبِیۡنَ وَ الۡیَتٰمٰی وَ الۡمَسٰكِیۡنِ وَ ابۡنِ‌السَّبِیۡلِ ؕ وَ مَا تَفۡعَلُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ فَاِنَّ اللّٰهَ بِهٖ عَلِیۡمٌ﴾

“তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, তারা কিরূপে ব্যয় করবে? তুমি বলো: তোমরা ধন সম্পত্তি হতে যা ব্যয় করবে তা মাতা-পিতার, আত্মীয়-স্বজনের, পিতৃহীনদের, দরিদ্রদের ও পথিকবৃন্দের জন্য করো; এবং তোমরা যে সব সৎকাজ করো নিশ্চয়ই আল্লাহ তা সম্যক রূপে অবগত।” (সূরা আল-বাক্বারাহ্: ২১৫)


# ﴿مَثَلُ الَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ اَمۡوَالَهُمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ كَمَثَلِ حَبَّۃٍ اَنۡۢبَتَتۡ سَبۡعَ سَنَابِلَ فِیۡ كُلِّ سُنۡۢبُلَۃٍ مِّائَۃُ حَبَّۃٍ ؕ وَ اللّٰهُ یُضٰعِفُ لِمَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ﴾

“যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে তাদের উপমা যেমন একটি শস্যবীজ, তা হতে উৎপন্ন হলো সাতটি শীষ, প্রত্যেক শীষে (উৎপন্ন হলো) এক শত শস্য এবং আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন বর্ধিত করে দেন; বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন অতি দানশীল, সর্বজ্ঞ।” (সূরা আল-বাক্বারাহ্: ২৬১)

# ﴿لِلۡفُقَرَآءِ الَّذِیۡنَ اُحۡصِرُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ ضَرۡبًا فِی الۡاَرۡضِ ۫ یَحۡسَبُهُمُ الۡجَاهِلُ اَغۡنِیَآءَ مِنَ التَّعَفُّفِ ۚ تَعۡرِفُهُمۡ بِسِیۡمٰهُمۡ ۚ لَا یَسۡـَٔلُوۡنَ النَّاسَ اِلۡحَافًا ؕ وَ مَا تُنۡفِقُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ فَاِنَّ اللّٰهَ بِهٖ عَلِیۡمٌ﴾

“দান খয়রাত ঐ সব লোকদের জন্য যারা আল্লাহর কাছে আবদ্ধ হয়ে গেছে, জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ঘোরাফিরা করতে সক্ষম নয়। তাদের সাবলিল চলাচলের জন্য অজ্ঞ লোকেরা তাদেরকে অভাবহীন মনে করে, তুমি তাদেরকে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনবে। তারা মানুষের কাছে যাঞ্চা করে না এবং তোমরা বৈধ সম্পদ থেকে যা ব্যয় করো সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যকরূপে অবগত।” (সূরা আল-বাক্বারাহ্: ২৭৩)

# ﴿وَ الَّذِیۡنَ تَبَوَّؤُ الدَّارَ وَ الۡاِیۡمَانَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ یُحِبُّوۡنَ مَنۡ هَاجَرَ اِلَیۡهِمۡ وَ لَا یَجِدُوۡنَ فِیۡ صُدُوۡرِهِمۡ حَاجَۃً مِّمَّاۤ اُوۡتُوۡا وَ یُؤۡثِرُوۡنَ عَلٰۤی اَنۡفُسِهِمۡ وَ لَوۡ كَانَ بِهِمۡ خَصَاصَۃٌ ؕ۟ وَ مَنۡ یُّوۡقَ شُحَّ نَفۡسِهٖ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَۚ﴾

“মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে যারা এই নগরীতে বসবাস করেছে ও ঈমান এনেছে তারা মুহাজিরদেরকে ভালোবাসে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে তার জন্য তারা অন্তরে বিদ্বেষ পোষণ করে না, আর তারা তাদেরকে নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয় নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও; যারা কার্পণ্য হতে নিজেদেরকে মুক্ত করেছে তারাই সফলকাম।” (সূরা আল-হাশ্র: ৯)

# ﴿وَ یُطۡعِمُوۡنَ الطَّعَامَ عَلٰی حُبِّهٖ مِسۡكِیۡنًا وَّ یَتِیۡمًا وَّ اَسِیۡرًا ۝ اِنَّمَا نُطۡعِمُكُمۡ لِوَجۡهِ اللّٰهِ لَا نُرِیۡدُ مِنۡكُمۡ جَزَآءً وَّ لَا شُكُوۡرًا﴾

“তাদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মিসকীন, ইয়াতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে এবং বলে- কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমরা তোমাদেরকে আহার্য দান করি, আমরা তোমাদের নিকট হতে প্রতিদান চাই না, কৃতজ্ঞতাও নয়।” (সূরা আল-ইনসান: ৮-৯)

# ﴿فَلَا اقۡتَحَمَ الۡعَقَبَۃَ ۫ۖ ۝ وَ مَاۤ اَدۡرٰىكَ مَا الۡعَقَبَۃُؕ۝ فَكُّ رَقَبَۃٍۙ۝ اَوۡ اِطۡعٰمٌ فِیۡ یَوۡمٍ ذِیۡ مَسۡغَبَۃٍ ۙ۝ یَّتِیۡمًا ذَا مَقۡرَبَۃٍ ۙ۝ اَوۡ مِسۡكِیۡنًا ذَا مَتۡرَبَۃٍؕ﴾

“কিন্তু সে গিরিসংকটে প্রবেশ করল না। তুমি কি জানো, গিরিসংকট কি? এটা হচ্ছে দাসকে মুক্তি প্রদান। অথবা দুর্ভিক্ষের সময় আহার্য দান- পিতৃহীন আত্মীয়কে, অথবা ধূলায় লুন্ঠিত দরিদ্রকে।” (সূরা আল-বালাদ: ১১-১৬)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী

! عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ (h)، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا، نَفَّسَ اللهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ يَسَّرَ عَلٰى مُعْسِرٍ، يَسَّرَ اللهُ عَلَيْهِ فِيْ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَاللهُ فِيْ عَوْنِ الْعَبْدِ مَا كَانَ الْعَبْدُ فِيْ عَوْنِ أَخِيْهِ.

যে ব্যক্তি কোনো মু’মিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করে, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য সহজ করে দেয়, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সহজ করে দেন। আর বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, মহান আল্লাহও ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন। (সহীহ মুসলিম- হা. ২৬৯৯)

! عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ (h)، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: «سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ فِيْ ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ: الْإِمَامُ الْعَادِلُ، وَشَابٌّ نَشَأَ فِيْ عِبَادَةِ اللهِ، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِيْ الْمَسَاجِدِ، وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِيْ اللهِ، اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ، فَقَالَ: إِنِّيْ أَخَافُ اللهَ، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا، حَتّٰى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِيْنُهُ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ.

আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন: “সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা সেদিন তাঁর (আরশের) ছায়ায় আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর (আরশের) ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না: (১) ন্যায়পরায়ণ শাসক। (২) সেই যুবক, যে মহান আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে বেড়ে উঠেছে। (৩) সেই ব্যক্তি, যার হৃদয় মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। (৪). এমন দুই ব্যক্তি, যারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালোবাসে; তারা এ ভালোবাসার ওপরই একত্রিত হয় এবং এ ভালোবাসার ওপরই পৃথক হয়। (৫). সেই ব্যক্তি, যাকে কোনো মর্যাদাসম্পন্ন ও সুন্দরী নারী (অবৈধ সম্পর্কে) আহ্বান করে, কিন্তু সে বলে, ‘আমি মহান আল্লাহকে ভয় করি।’ (৬) সেই ব্যক্তি, যে এত গোপনে দান করে যে তার বাম হাতও জানতে পারে না তার ডান হাত কী দান করেছে। (৭). সেই ব্যক্তি, যে নির্জনে মহান আল্লাহকে স্মরণ করে, ফলে তার দুই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে যায়।” (সহীহুল বুখারী- হা. ৬৬০, ১৪২৩; সহীহ মুসলিম- হা. ১০৩১)

! عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ (h) «مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيْهِ إِلَّا مَلَكَانِ يَنْزِلَانِ، فَيَقُوْلُ أَحَدُهُمَا: اللّٰهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا، وَيَقُوْلُ الْآخَرُ: اللّٰهُمَّ أَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا.

“প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশ্তা অবতরণ করেন। একজন বলেন, ‘হে আল্লাহ! যে দান করে তাকে আরো দান করুন।’ আর অন্যজন বলেন, ‘হে আল্লাহ! যে কৃপণতা করে তার সম্পদ ধ্বংস করে দিন।’ (সহীহুল বুখারী- হা. ১৪৪২; সহীহ মুসলিম- হা. ১০১০)





প্রসঙ্গসমূহ »: বিবিধ

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ