লোভনীয় মৃত্যু
-নাজমুন নাহার
মৃত্যু কী ঈমান জাগানিয়া হতে পারে?
মৃত্যু কী লোভনীয় হতে পারে?
মৃত্যু কী অবিস্মরণীয় হতে পারে?
তাহলে তা কেমন মৃত্যু?
আমি হতবাক, আমি বিস্মিত!
আমি নির্বাক, আমি স্তম্ভিত!
যে মৃত্যু সারা বিশ্বকে ভাবাতে পারে,
তা কী কখনো মৃত্যু হতে পারে?
যে মৃত্যু ঘুম থেকে জাগাতে পারে,
তা কী কখনো মৃত্যু হতে পারে?
যে মৃত্যু তাহাজ্জুদের ছালাতে কাঁদাতে পারে,
তা কী কখনো মৃত্যু হতে পারে?
যে মৃত্যু আলেমদের চোখকে অশ্রুসিক্ত করে,
তা কী কখনো মৃত্যু হতে পারে?
যে মৃত্যু মাসজিদের মিম্বারকে কাঁপাতে পারে,
তা কি কখনো মৃত্যু হতে পারে?
যে মৃত্যু প্রত্যেক মাসজিদে খুতবা হিসেবে ভেসে আসে,
তা কী কখনো মৃত্যু হতে পারে?
যে মৃত্যু লিল্লাহি তাকবীর, আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়,
তা কি কখনো মৃত্যু হতে পারে?
যে মৃত্যু ছোট-বড়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে কাঁদাতে পারে,
তা কি কখনো মৃত্যু হতে পারে?
নাহ, আমি ভাবতেই পারছি না
ইহা কেমন মৃত্যু?
যাকে আমি দু’দিন আগেও চিনতাম না
তার মৃত্যু আমাকে তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো,
যাকে নিয়ে আমি কখনো ভাবিনি
তার মৃত্যু আমাকে ভাবাতে শেখালো।
আমি হতবাক, আমি বিস্মিত!
আমি নির্বাক, আমি স্তম্ভিত!
আমি বুঝেছি কুরআনের আয়াত,
আমি বুঝেছি আয়াতের অর্থ
“তাদেরকে তোমরা মৃত বলো না”
আমার হিংসা হচ্ছে, আমার লোভ হচ্ছে-
আমার ভীষণ আফসোস হচ্ছে-
ইস! এ মৃত্যু যদি আমার হতো!
হায়! এ মৃত্যু যদি আমার হতো!
ও মা! তুমি কেঁদোনা- তোমার ছেলে তো মরেনি
তোমার ছেলে তো সারা জীবনের জন্য বেঁচে রইলো সকলের অন্তরে।
ও বোন! তুমি কেঁদোনা- তুমি বড়ই ভাগ্যবতী
তোমার স্বামী পুরো জগতের জন্য ঈমান দীপ্ত বাতি।
ও ছোট্ট সোনামণি! তোমার কি সৌভাগ্য বলো তো!
তুমি গর্ব করবে তোমার বাবাকে নিয়ে
তুমি একদিন লড়বে তোমার বাবার হয়ে, ইনশাআল্লাহ।
এ মৃত্যু কয়জনের হয় বলো তো?
আমি ভাবছি, আর আমি কাঁদছি
আমি কাঁদছি, আর আমি ভাবছি-
মৃত্যুও যে কাউকে সম্মানিত করতে পারে
মৃত্যুও যে কাউকে জাগ্রত রাখতে পারে,
মৃত্যুও যে কাউকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে পারে,
মৃত্যুও যে কাউকে মৃত্যুবরণ করতে উৎসাহিত করে,
মৃত্যুও যে শতশত মুজাহিদদেরকে প্রস্তুত করতে পারে,
এতো তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ওরা বোঝেনি, ওরা ভেবেছে মেরে ফেললেই শেষ।
কিন্তু না, এতো মাত্র শুরু।
কতজন জেগে উঠবে এখন!
কতজন মৃত্যুকে করবে আলিঙ্গন!
কাপুরুষের মত পিছন থেকে মেরে করে উল্লাস।
ওরা নির্বোধ, ওরা মূর্খ,
ওরা অজ্ঞ, ওরা ভীতো,
ওরা কাপুরুষ, ওরা হিংস্র পশুর মতো।
ওদের নেই কোন জ্ঞান, ওরা বড় বেঈমান
সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি ওরা, ওদের নেই কোন ঈমান।
ওরা বুঝেনি- এ মৃত্যু যেনতেন মৃত্যু নয়।
ওরা বুঝেনি- এ মৃত্যু মহান রবের সন্তুষ্টি।
ওরা বুঝেনি- এ মৃত্যু মহান রবের ভালোবাসা।
ওরা বুঝেনি- এ মৃত্যু সম্মানের প্রতীক।
ওরা বুঝেনি- এ মৃত্যু বীর পুরুষের।
ওরা মাতাল, ওরা পিচাশ।
ওরা মানুষ মেরে করে উল্লাস।
ওরা জানে না- জেগেছি আমি।
ওরা জানে না- জাগবে আরো।
কতজনকে মারবে ওরা
লড়বে সবাই আরো।
ইয়া মু‘য়িঝ্যু! হে সম্মানদাতা!
আপনিই করেছেন সম্মানিত।
এমন মৃত্যু বড়ই লোভনীয়
বড়ই আকাঙ্খিত।
এমন মৃত্যু দিয়ে আমাকেও করেন সম্মানিত।
যে মৃত্যুতে আত্মীয়স্বজন হবে গর্বিত।
যে মৃত্যুতে আপনিও হবেন অনেক আনন্দিত।
আমীন ইয়া রাব্বুল আ‘লামীন!
প্রসঙ্গসমূহ »:
কবিতা