শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:০৪ অপরাহ্ন

বর্ষার সাথে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ! রোধ করতে প্রয়োজন সতর্কতা 

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ* 



প্রকৃতিতে এখন বর্ষাকাল। এই ঋতু অনেকের কাছে মনোমুগ্ধকর হলেও শরীরের জন্য বয়ে আনতে পারে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে বর্ষায় বাড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ। আর ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ব্যক্তি সচেতনতার বিকল্প নেই। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীকে চেনার উপায়?

ডেঙ্গুর লক্ষণ কী কী?

১. প্রচণ্ড জ্বর (১০৪ ডিগ্রি) ২. প্রচণ্ড মাথাব্যথা ৩. চোখের পেছনে ব্যথা ৪. পেশি ও শরীরের বিভিন্ন গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা ৫. বমি বমিভাব ৬. মাথা ঘোরা ৭. বিভিন্ন গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া ৮. শরীরে র‌্যাশ বের হওয়া ইত্যাদি। যাদের একবার ডেঙ্গু সেরে যাওয়ার পর আবারও ডেঙ্গু হয়, তাদের সিভিয়ার ডেঙ্গু হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অর্থাৎ তাদের ক্ষেত্রে মারাত্মক আকার নিতে পারে ডেঙ্গু। সিভিয়ার ডেঙ্গুর কিছু লক্ষণ আছে।

সিভিয়ার ডেঙ্গুর লক্ষণ কী কী?

১. প্রচণ্ড পেটে ব্যথা ২. ঘন ঘন বমি ৩. দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ওঠানামা করে ৪. মাড়ি থেকে রক্ত পড়া ৫. ক্লান্তি ৬. অস্থিরভাব ৭. বমির সঙ্গে রক্ত পড়া ৮. প্রচণ্ড পানি পিপাসা ৯. ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২৭১ জন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। এর আগের বছর, ২০২৩ সালে, আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ঘরোয়া পরামর্শ

  • মধু: প্রতিদিন সেবনে ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • কালোজিরা তেল: কালোজিরা তেলকে বলে সব রোগের মহৌষধ! তবে প্রতিদিন ৩ চা চামচের বেশী খাওয়া ঠিক নয়! আগে কখনো না খেয়ে থাকলে আধা চামচ করে শরীরে এডজাস্ট করে নিতে পারেন! যে কোন পেশেন্ট ও গর্ভবতী মহিলা সেবনের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • নিমের তেল: বাড়িতে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে পানির সাথে নিমের তেল মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে। এছাড়া ১০-১৫ ফোটা নিম তেল আধা কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে গায়ে লাগালেও মশারা আর ধারে কাছে ঘেঁষবে না।
  • নারিকেল তেল: নারিকেল তেল মাখলে মশা কাছে ঘেঁষে না।
  • হলুদের গুঁড়া: হলুদের মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ লবণ, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, লোহা প্রভৃতি নানা পদার্থ রয়েছে। তাই হলুদ খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ে। প্রতিদিন দুধ বা পানির সাথে হলুদের গুঁড়ো বা রস মিশিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করলে অনেকটাই সুস্থ থাকা সম্ভব। তবে মাত্রাতিরিক্ত সেবন করা যাবে না। রোগী, বিভিন্ন ওষুধ সেবনকারী ও গর্ভবতী মহিলারা সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • দুধ, কলা ও ডিম: এগুলোকে সুষম খাদ্য বলা হয়! প্রতিদিন সেবনে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে! অনেকের এসব খাদ্যে এলার্জি থাকে অথবা বিভিন্ন রোগে (যেমন : কিডনির রোগ, ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স ইত্যাদিতে) দুধ নিষিদ্ধ খাদ্য।
  • পেঁপে ও পেঁপে পাতা: পেঁপে খুব দ্রুত রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বাড়াতে সক্ষম। মালয়েশিয়ার এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডেঙ্গুজ্বরের কারণে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে পেঁপে পাতার রস তা দ্রুত বৃদ্ধি করে। রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে প্রতিদিন পেঁপে পাতার রস কিংবা পাকা পেঁপের জুস পান করুন।
  • ড্রাগন ফল: ড্রাগন ফলে আছে প্রচুর এন্টিওক্সিডেন্ট! এটি রক্তের শ্বেতকণিকা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • মিষ্টি কুমড়া ও কুমড়া বীজ: মিষ্টি কুমড়া রক্তের প্লাটিলেট তৈরি করতে বেশ কার্যকরী। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়ায় আছে ভিটামিন এ, যা প্লাটিলেট তৈরিতে সহায়তা করে।
  • লেবু: লেবুর রসে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
  • দেশী মাছ: দেশী বিভিন্ন মাছ (যেমন কই, শিং, মাগুর, শোল, বাইন, ছোট মাছ, পাঁচ-মিশালী মাছ ইত্যাদি) শরীরে রক্ত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

করণীয়
ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীকে উচ্চ তাপমাত্রা রোধ করতে শরীর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুছে দিতে হবে। শরীর বেশী ঠাণ্ডা মনে হলে খাবার স্যালাইন দিতে হবে। হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। তাকে পূর্ণ বিশ্রামে রেখে বেশী করে পানি খেতে দিতে হবে। 




প্রসঙ্গসমূহ »: চিকিৎসা

সর্বশেষ প্রবন্ধ

ফেসবুক পেজ